সোমবার ১৯ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

শিশুর চরিত্র গঠনে পিতা-মাতার দায়িত্ব ও কর্তব্য

ড. মুহাম্মদ আবু ইউছুফ খান : আল্লাহ তা’আলা বলেন, হে বিশ্বাসীগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যার নিয়ন্ত্রণভার অর্পিত আছে নির্মম হৃদয়, কঠোর স্বভাব ফেরেশতাগণের উপর, যারা আল্লাহ তাদের যা আদেশ করেন তা অমান্য করে না এবং যা আদিষ্ট হয় তাই করে। সূরা আত্ তাহরীম : ০৬
ইসলাম হল মানুষের স্বভাবজাত ধর্ম-দ্বীনে ফিতরাত। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, প্রতিটি শিশুই ফিতরাত তথা ইসলাম গ্রহণের যোগ্যতাসহ জন্মগ্রহণ করে। তারপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদী, খ্রিষ্টান অথবা অগ্নিপূজক বানায়। ১. বুখারী, হাদীস নং-১৩৫৮ ও মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৮, বর্ণনাকারী: হযরত আবু হুরায়রা (রা.)।
উপর্যুক্ত হাদীস থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, সুন্দর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার যোগ্যতা প্রতিটি শিশুর মধ্যেই বিদ্যমান। যদি শিশুর পিতামাতা এ ব্যাপারে যত্নবান হয় এবং পরিবেশ যদি সুন্দর চরিত্র গঠনে সহায়ক হয় তবে শিশুর মধ্যে অনুপম চরিত্রের বিকাশ ঘটে। আর যদি পিতামাতা এ বিষয়ে যত্নবান না হয় অথবা পরিবেশ যদি শিশুর চরিত্র গঠনের অনুকূলে না থাকে তবে শিশুর চরিত্র নষ্ট হয়ে যায়। কাজেই শিশুর চরিত্র গঠনের বিষয়ে পিতামাতার ভূমিকা প্রধান।
শিশুরা বেহেস্তের ফুল : বিয়ের পর প্রত্যেক দম্পতির এ কামনাই থাকে যে, তাদের কোল জুড়ে নতুন মুখ আসুক। বিলম্ব হলে সেজন্যে তারা শত যত্ন-তদ্বির করে, কাঁদে, আহাজারি করে, দোয়া চায়, মানত মানে এমনিভাবে আরও কত কি করে থাকে। আল্লাহ আল্লাহ করে, আশা পূরণ হলে তাদের অন্তর আনন্দে ভরে ওঠে। আল্লাহ সেই দম্পতির কোল জুড়ে সন্তান দেন এবং তাকে আনন্দের উপকরণ বানান। প্রিয়জনেরা আনন্দ প্রকাশ  করে আর বন্ধু-বান্ধব উপহার উপঢৌকন নিয়ে হাজির হয়। শিশু নিঃসন্দেহে আনন্দের অনেক সওগাত নিয়ে আসে। তার সাথে ঘরে বরকত নাজিল হয়। তার লাবনীয় চাঁদমুখ ও কমনীয় রূপ সকলের চক্ষু শীতল করে। পিতামাতা নিজেদের কলিজার টুকরোকে ক্রমাগত বড় হতে দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়। সম্ভবত তাদের জন্যে এর চাইতে অধিক খুশীর আর কিছুই নেই। মা তো দিনের শান্তি আর রাতের আরাম হারাম করেও আনন্দ পায়। চেহারা দেখে পিতার সব চিন্তা ও শ্রান্তি-ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। কেবল পিতামাতার কথাই বা বলি কেন শিশুদের নিষ্পাপ চেহারা আর তাদের আধো আধো চিত্তাকর্ষক কথা কার না হৃদয় কেড়ে নেয়। এমন কে আছে যে শিশুদের হাসতে খেলতে দেখে আনন্দ পায় না। অত্যন্ত গম্ভীর প্রকৃতির ব্যক্তিত্ব শিশুদের নির্মল আচার-আচরণ দেখে অজান্তে হেসে দেয়। বেহেস্তের এসব ফুলের খেলাধুলায় প্রতিটি ঘরে আসে অপরূপ সৌন্দর্য আর প্রতিটি বাগানে আসে বসন্ত, চারদিকে আনন্দের হওয়া বয়ে যায় ও সুগন্ধি ছড়ায়।
সন্তানের প্রতি পিতামাতার উৎকৃষ্ট দান : সন্তানদের সঠিক শিক্ষাদীক্ষা দেওয়াই হলো মা-বাবার উৎকৃষ্ট দান। প্রথম পিতামাতা নিজেদের সন্তানদের আল্লাহর অস্তিত্বের কথা, তাঁর একত্ববাদের কথা এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনার কথা বলবে। চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, -প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করবে এবং এ সব কিছুর যে একজন স্রষ্টা রয়েছেন তার কথা সন্তানদেরকে বুঝাবে ও এ বিষয়ে অবহিত করবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তাদেরকে নবী রাসূল (সা.), ফিরিশতা, কুরআন মাজীদ, কবর, হাশর-নশর, আখিরাত ইত্যাদির প্রতি ঈমান আনয়নের কথা বলবে। শিরক ও বিদআত এর অকল্যাণ ও ভয়াবহতার কথা তাদের সামনে তুলে ধরবে। এ প্রসঙ্গে হযরত লুকমান তাঁর পুত্রকে যে নসীহত তথা উপদেশ করেছিলেন, তা কুরআন মজীদে এভাবে উল্লেখ রয়েছে।
১ম উপদেশ : হে বৎস! আল্লাহর সাথে কাউকে শিরক করো না। নিশ্চয় শিরক হচ্ছে চরম যুলুম। (সূরা লুকমান ৩১ : ১৩) হযরত লুকমান তাঁর প্রিয় পুত্রকে যে নসীহত করেছেন এর প্রথম কথাটিই হচ্ছে শিরক পরিহার করে তাওহীদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাস মনের মধ্যে দৃঢ় ও স্থায়ী করার নির্দেশ। আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কাউকে উপাসনায় অংশীদার স্থাপন এবং কোন সৃষ্টবস্তুকে সৃষ্টিকর্তার সমমর্যাদা মনে না করা।
২য় উপদেশ : হে বৎস! কোন কিছু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এবং তা যদি থাকে শিলাগর্ভে অথবা আকাশে কিংবা মাটির নিচে, আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবহিত। (সূরা লোকমান ৩১: ১৬) উপদেশের এ অংশে হযরত  লোকমান আল্লাহ তা‘আলার ইলম ও কুদরতের ব্যাপকতা ও সুক্ষ্মাতিসূক্ষ্মতার অকাট্য বর্ণনা পেশ করেছেন। আল্লাহ সস্পর্কে এ আকীদা মানুষকে সকল প্রকার গোপন ও প্রকাশ্য গুনাহ এবং নাফরমানী থেকে বিরত রাখে।
৩য় উপদেশ : হে বৎস! সালাত কায়েম করবে। (সূরা লোকমান ৩১ : ১৭) আকীদার ক্ষেত্রে তাওহীদ যেমন মূল, তেমনি আমলের ক্ষেত্রে নামায হচ্ছে সবকিছুর মূল। নাবালিগ সন্তান-সšুÍতি যেন শিশুকাল হতে নামায কায়েমের ব্যাপারে অভ্যস্ত হয়ে যায় সেজন্য রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: ‘তোমরা তোমাদের সন্তান-সšুÍতিদেরকে নামায আদায় করতে আদেশ করবে, যখন তারা সাত বছর বয়সে পদার্পণ করবে এবং নামাযের জন্য তাদেরকে শাসন করবে যখন তারা দশ বছর বয়সে পৌঁছবে। আর তখন তাদের জন্য আলাদা শয্যার ব্যবস্থা করবে,। ২. আবু দাউদ, কিতাবুস সালাত, পৃষ্ঠা নং ১৩৩, হাদীস নং-৪৯৫।
৪র্থ উপদেশ : সৎকাজের আদেশ দিবে এবং অসৎকাজে বাধা দিবে। (সূরা লোকমান ৩১ : ১৭) নসীহতের এ অংশটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আর তা হল এই যে, ঈমানদার মানুষ মাত্র নিজেকে নিয়েই ব্যতিব্যস্ত থাকতে পারে না। বরং সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে বাধা দান করাও তার অন্যতম ঈমানী দায়িত্ব।
৫ম উপদেশ : এবং বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করবে। এটাই দৃঢ় সংকল্পের কাজ। (সূরা লোকমান ৩১:১৭) বালক- বালিকাদের এমনভাবে শিক্ষা দিতে হবে যাতে শৈশবকাল থেকেই তারা বিপদে-আপদে ধৈর্যধারণ ও সাহসী হয়ে গড়ে ওঠে।
৬ষ্ঠ উপদেশ : অহংকারবশত তুমি মানুষকে অবজ্ঞা করবে না। (সূরা লোকমান, ৩১ : ১৮) অর্থাৎ তুমি নিজেকে সাধারণ লোক থেকে শ্রেষ্ঠ মনে করবে না। বরং নিজেকে তাদের একজন মনে করবে ও দশজনের সাথে মিলেমিশে জীবন যাপন করবে।
৭ম উপদেশ : এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ করবে না। কারণ আল্লাহ কোন উদ্ধত, অহংকারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা লোকমান ৩১ : ১৮)
৮ম উপদেশ : তুমি পদক্ষেপ করবে সংযতভাবে। (সূরা লোকমান ৩১ : ১৯)
৯ম উপদেশ : এবং তুমি তোমার কণ্ঠস্বর নিচু করবে, স্বরের মধ্যে গর্দভের স্বরই সর্বাপেক্ষা অপ্রীতিকর। (সূরা  লোকমান ৩১ : ১৯) বালক-বালিকাদের সামাজিক রীতি-নীতি শিক্ষাদানের পর্যায়ে হযরত  লোকমানের এ নয়টি নসীহতের গুরুত্ব অপরিসীম। এগুলোর ভিত্তিতে শৈশবকাল থেকেই বালক-বালিকাদের শিক্ষিত করে তোলা ইসলামের দৃষ্টিতে অপরিহার্য এবং এ কাজ পিতামাতাকেই যথাযথভাবে আঞ্জাম দিতে হবে।
নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন, পিতামাতা সন্তানকে ভাল আদব-কায়দা ও স্বভাব-চরিত্র শিক্ষাদান অপেক্ষা উত্তম কোন দান দিতে পারে না। ৩. তিরমিযী, হাদীস নং-১৯৫২।
সন্তান-সন্তুতিকে চরিত্রবান করে গড়ে তোলার জন্য একদিকে পিতামাতা যেমন সচেষ্ট থাকবেন তেমনি এর পাশাপাশি তারা এ বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার দরবারে দু‘আও করবেন। কেননা আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া মানুষের চেষ্টা কখনো ফলপ্রসূ হতে পারে না।
ইমাম গাজ্জালী (র) বলেন, শিশু তার পিতা-মাতার নিকট আমানত, তার পবিত্র অন্তরটি সর্বপ্রকার রূপ ও আকৃতি থেকে মুক্ত উত্তম মণিমুক্তা এবং সে সকলরূপ গ্রহণের যোগ্য, তাকে যেদিকে ফিরানো হয় সে সেদিকেই ফিরে, যদি তাকে কল্যাণকর কাজে অভ্যস্থ করা হয় তাহলে সে তার উপরেই বড় হয় এবং তার পিতা-মাতা দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যবান হন, আর যদি তাকে অন্যায় কাজে অভ্যস্থ করা হয় এবং চতুষ্পদ প্রাণির ন্যায় ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে সে হতভাগা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং এর পরিণাম পিতা-মাতার উপরই বর্তায়।
কুরআন মজীদে পিতামাতাকে তাদের সন্তানের জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করার উপদেশ এবং শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সূরা ফুরকানে আল্লাহর নেক বান্দাদের অন্যান্য গুণের সাথে এ গুণটির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহর নেক বান্দা তারাই যারা এই বলে দু’আ করে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী ও সন্তান-সšুÍতি দান কর, যারা আমাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য ইমাম বানিয়ে দাও। (সূরা ফুরকান ২৫ : ৭৪)
শিশুদের প্রতি পিতা-মাতার অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য : ছেলে-মেয়েদেরকে মিছামিছি বাঘ-ভাল্লুকের ভয় দেখানো যাবে না। ভীতিকর কোন খেলা দেখানো যাবে না। এতে তাদের মধ্যে মিথ্যা ও মিথ্যা বলার অভ্যাস গড়ে উঠবে। ছেলে-মেয়েদের হাত দিয়ে গরীব মিসকীনদের দান করাবেন। ভাইবোন ও অন্যান্য ছেলে- মেয়েদের মধ্যে খাবার জিনিস বণ্টন করাবেন। এতে তাদের মধ্যে দানশীলতার অভ্যাস পয়দা হবে এবং কৃপণতার বদঅভ্যাস দূর হবে। ছেলে-মেয়েদের চিৎকার করে কথা বলতে দিবেন না।
মিথ্যা, অন্যের প্রতি অপবাদ, পরনিন্দা, গীবত, কূটনামী, অন্যের দোষচর্চা, ছিদ্রান্বেষণ করা, অন্যের প্রতি কুধারণা ইত্যাদি মন্দ স্বভাবের ব্যাপারে তাদের মনে ঘৃণা সৃষ্টি করা এবং সত্যবাদিতা, অন্যের গুণচর্চা করা, অপরের দোষ ঢেকে রাখা ইত্যাদি সৎগুণাবলীর ব্যাপারে তাদের মনে আকর্ষণ সৃষ্টি করা। এ পর্যায়ে এতদুভয় ভালমন্দ স্বভাবের বর্ণনা করা। ছেলে-মেয়েদেরকে নবী-রাসূল এবং ওলীগণের জীবন কাহিনী সম্বলিত বই-পুস্তক পড়তে দিবে। এতে তাদের মধ্যে সৎগুণাবলি সৃষ্টি হবে এবং পড়াশুনার প্রতি আকর্ষণ বাড়তে থাকবে।
পিতামাতা, ভাইবোন, পাড়া-প্রতিবেশী এবং সঙ্গী-সাথীদের সাথে আচরণ সন্তানের সবচেয়ে গভীর, ঘনিষ্ঠ ও নিবিড় সম্পর্ক হল তার পিতামাতার সাথে। কুরআন ও হাদীসে আল্লাহর পরেই পিতামাতার হকের কথা বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করতে এবং পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদেরকে উফ্ বলবে না এবং তাদেরকে ধমক দিবে না। তাদের সাথে বলবে সম্মানসূচক নম্র কথা। মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত করবে এবং বলবে,   ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিল’। (সূরা বনী ইসরাইল ১৭: ২৩, ২৪) পিতামাতার সেবা-যত্ন করা, তাদের আনুগত্য করার ব্যাপারে হাদীস শরীফেও তাকীদ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ পিতামাতার সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি পিতামাতার অসন্তুষ্টির কারণে হয়ে থাকে। ৪. তিরমিযী, হাদীস নং-১৮২১, 
অপর এক হাদীসে আছে : হযরত আবু উমামা (রা.) হতে বর্ণিত এক ব্যক্তি বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! সন্তানের উপর তাদের পিতামাতার অধিকার কী? উত্তরে তিনি বললেন, তারা উভয়ই হচ্ছে তোমার জান্নাত এবং জাহান্নাম।  ৫. ইবন মাজাহ, হাদীস নং-৩৭৪৯.অর্থাৎ, তাদের খিদমত করে জান্নাত লাভ করা যায়, আর তাঁদের অবাধ্যতা জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। হযরত মাওলানা আশরাফ আলি থানভী (র.) বলেন, “বাবা-মা যদি অন্যায়ভাবেও কষ্ট দেয় তবুও তাঁদেরকে কষ্ট দেবে না। কথায়, কাজে এবং ব্যবহারে তথা জীবনের সর্ব অবস্থায় তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে। বাবা-মা কাফির হলেও প্রয়োজনে তাঁদের আত্মার প্রতি ইসালে সাওয়াব করবে। তাঁরা ঋণ করে গেলে তাঁদের ঋণ পরিশোধ করবে এবং তাঁদের জায়িয অসিয়্যাত পূর্ণ করবে।” ৬. বেহেশতি জেওর (বঙ্গানুবাদ, ৪র্থ খণ্ড পৃ. ৭৯।
সামাজিক আচার-আচরণের ক্ষেত্রে ইসলামের একটি মৌলিক শিক্ষা হল, বয়সে যে ছোট সে তার বড়দের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবে এবং তাদের সামনে আদব ও শিষ্টাচার রক্ষা করে চলবে। অনুরূপভাবে বড়দের কতর্ব্য হল, ছোটদেরকে স্নেহ ও আদর করা এবং তাদেরকে ভালবাসার নযরে দেখা।  রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন :‏ যারা ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে না তারা আমাদের দলভূক্ত নয়। ৭. তিরমিযী, হাদীস নং-১৯৪৫।
সঙ্গী-সাথীর সাথে সদ্ব্যবহার করা আবশ্যক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথী, সফরের সাথী, এক কথায় সকল প্রকার সঙ্গী-সাথীর সাথেই সদ্ব্যবহার করা উচিত। সঙ্গী-সাথী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করবে। সত্যবাদী নামাযী ও দীনদার ব্যক্তিকে সঙ্গী হিসাবে নির্বাচন করবে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “মু’মিন ব্যতীত অন্য কাউকে সাথী নির্বাচন করবে না এবং আল্লাহভীরু ছাড়া কেউ তোমার খাদ্য খাবে না” ৮. মিশকাতুল মাছাবীহ, বর্ণনাকারী- হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.), হাদীস নং- ৪৯৪৫। (চলবে)

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ