ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 October 2020, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

খুলনায় নিবন্ধন নেই ৮০ ভাগ বেসরকারী  হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক’র 

 

খুলনা অফিস : খুলনায় অধিকাংশ বেসরকারী হাসপাতাল প্যাথলজিকাল ল্যাবরেটরী ও ডায়গনস্টিক সেন্টার নামমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনলাইনে লাইসন্স’র আবেদন করে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। এগুলোর নিবন্ধন বা অনুমোদোন না থাকলেও চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স আবেদন ফর্মের শর্তাবলিও তারা মানছেন না। নগরীতে শতাধিক ডায়গনস্টিক সেন্টারে প্যাথলজিকাল পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটা ছাড়া অধিকাংশেরই নেই ডিপ্লোমাধারী টেকনেশিয়ান। নেই কোন ডিপ্লোমাধারী নার্স, দক্ষ চিকিৎসক। একই রোগীর একই ধরনের পরীক্ষা এক ডায়গনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করলে অন্য ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলো সাথে মিল থাকে না।

মহানগরীর নতুন রাস্তা মোড় এলাকার বাসিন্দা সোনিয়া শারমিন অভিযোগ করে বলেন. তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যাথার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে একজন পরিচিত আত্বীয়ের মাধ্যমে খুমেক হাসপাতালের পাশে উদয়ন ডায়গনিস্টিক যান। শর্ত দেয়া হয় ডাক্তারকে দেখানোর আগে কিছু পরীক্ষা করে নিতে হবে। পরীক্ষার পর ডাক্তার ওষুধ দিবে। তার কথায় প্রায় ২ হাজার ৩শ’ টাকা খরচ করেন। তিনি শরীরে প্রয়োজনীয় কিছু পরীক্ষা করেন। পরবর্তীতে উদয়ন ডায়গনিস্টিক থেকে তার পরীক্ষার রিপোর্ট দেয়া হয়। তার শরীরে সব কিছু ভালো বলে জানানো হয়। অথচ একই পরীক্ষা শেখ আবু নাসের হাসপাতালে করেন মাত্র ৫৮০ টাকায়। সেখানে দেখেন তার শরীরে ডায়েবেটিক আছে।

নগর থেকে জেলায় তদারকির অভাবে দিন দিন গজিয়ে উঠছে ডায়গনস্টিক সেন্টার ও বেসরকারী হাসপাতাল। এ সব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোন নিয়ম নিতির তোয়াক্বা করে না। ফলে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, বেসরকারি হাসপাতাল মানেই ব্যবসা। তারা ইচ্ছা মত রোগীদের কাছ থেকে ফি নিয়ে থাকেন। মানহীন হাসপাতালগুলোতে দেয়া হয় না সঠিক চিকিৎসাসেবা। যন্ত্রপাতিও নেই, দক্ষ চিকিৎসক ও নার্স নেই। করা হচ্ছে প্রতারনা। আর সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি ডায়গনিস্টিক সেন্টারের মালিক বলেন, এখানে শুধু মাত্র অনলাইনে আবেদন করে স্থানীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে তারা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক অফিসের কমকর্তা কুলসুম বলেন, এখন আমাদের কাছে কেউ আবেদন করেনা। তারা সরাসরি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন পেজে আবেদন করেন এবং যার বড় যোগাযোগ আছে, তারাই লাইসেন্স পেয়েছেন। তবে আমার জানা মতে খুলনায় সব মিলিয়ে নতুন করে ৭ থেকে ৮টি লাইসেন্স থাকতে পারে। আর যে সকল ডায়গনিস্টিক সেন্টার বা বেসরকারী হাসপাতাল আছে সেগুলো নিবন্ধন হয়নি।

খুলনা বিশিষ্টজন সুজনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট কুদরত-খুদা বলেন, বর্তমান সারাদেশেরে স্বাস্থ্য বিভাগের দূর্নীতি চোখে পড়ছে। খুলনায়ও থেমে নেই দূর্নীতি এ সকল বেসরকারী হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোর মধ্যে শতকরা ৯৫ ভাগ’র নেই কোন লাইসেন্স। রোগীদের দেয়া হচ্ছে মনগড়া রির্পোট। টেকনেশিয়ান স্বাক্ষর করছে চিকিৎসকের প্যাডে। এ সব চলছে তারপরও সকলে চুপ থাকছে।

খুলনা সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, মহানগরীর তালিকা আমাদের কাছে নেই, তবে জেলায় এ পর্যন্ত ৪৬টি বেসরকারী হাসপাতাল ও ৫৩টি ডায়গনস্টিক সেন্টার আছে। তবে এদের ভিতর অনেকেরই লাইসেন্স নেই। নতুন যারা লাইসেন্স এর জন্য অনলাইনে আবেদন করেছেন তাদেরকেও এখন কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে দ্রুত এ সকল প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অনিয়ম পেলে তাদের লাইসেন্সন আবেদন বাতিল করাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক রাশেদা সুলতানা বলেন, আমি করোনায় অসুস্থ ছিলাম। আগামি রোববার অফিস করব এবং এ সব লাইসেন্সহীন ডায়গনস্টিক সেন্টার ও প্রতারণাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ