বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনায় নিবন্ধনহীন ইন্টারনেট ব্যবসা রমরমা ॥ গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে 

খুলনা অফিস: বাসা-বাড়ি বা অফিসে ইন্টারনেট গ্রাহকরা রয়েছেন বিপাকে। দিনে এক রকম স্পীড আর রাতে আরেক রকম। নির্ধারিত প্যাকেজ অনুযায়ী সেবা না পেলেও কোন উপায় পাচ্ছে না গ্রাহকরা। গ্রাহককে সংযোগ নিতে অফেরতযোগ্য সংযোগ ফি দিতে হচ্ছে। ফলে কাক্সিক্ষত সেবা না পেয়ে বার বার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস (আইএসপি) পরিবর্তন করতে পারছে না। অন্যদিকে নিবন্ধন না করেও নগরীতে চলছে ইন্টারনেট ব্যবসা। যার নিয়ন্ত্রণ আশু প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। জানা গেছে, খুলনায় দৌলতপুর অনলাইন, স্পীড নেট, রয়েল নেট, সলসিং, রেড নেটওয়ার্ক, কেএস নেটওয়ার্ক, এসএস আলী, লিংক-থ্রি, বিকে অনলাইন, আইএনএস, খুলনা ফাইবার লিংক, বিএসএস নেট, স্মাইল, ফাস্টকম, ফিউচার নেট, দিপ ইন্টারনেট, খুলনা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট, এসকে মোবাইল পয়েন্ট, অহন কমিউনিকেশনসহ খুলনা শহরে প্রায় অর্ধশত ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস (আইএসপি) রয়েছে। যারা কোন না কোন আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) থেকে ইন্টারনেট কিনে গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি করছে। আবার কেউ কেউ স্থানীয় আইএসপি থেকে লাইন নিয়ে ব্যবসা করছে। অনেক এলাকায় কিছু বড় ভাইয়ের নামেও চলছে ইন্টারনেট সেবা। কোন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) থেকে নিবন্ধন করেছে, আর কোন প্রতিষ্ঠান করেনি, সেই খোঁজ কেউ রাখছে না বলে অভিযোগ করে খুলনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারসরা। তারা জানান, আইআইজি থেকে আইএসপিরা এক জিবি ইন্টারনেট কিনে বিক্রি করছে ২ থেকে ৩ হাজার গ্রাহকের কাছে। ফলে গ্রাহক সন্তুষ্টি কমে যাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান একটি লাইনে একাধিক শেয়ার লাইন দিয়ে ব্যবসা করছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের নেই প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান। বিভিন্ন কারণে খুলনায় ইন্টারনেট ব্যবসার মান ভাল যাচ্ছে না। গ্রাহকের আস্থা হারাচ্ছে। বিদ্যুতের খুঁটিতে তারের জটলা বাঁধছে। যেখানে মাঝে মধ্যে ধরছে আগুন। দোলখোলা এলাকার সঞ্জিত জানান, করোনার কারণে এখনতো বাসায় থাকতে হচ্ছে। বাসায় ইন্টানেট নিলাম। কিন্তু ইন্টারনেটের গতি খুবই কম। এ নিয়ে অভিযোগ জানালেও সেবাদাতারা সমাধান দিতে পারেনি। আজ এ সমস্যা, কাল ও সমস্যা, এ সব বলে দিন পার করে। মাস গেলেই আমাদেরকে গুনতে হয় টাকা।

টুটপাড়া এলাকার মো. আশরাফুল আলম জানান, আমরা ‘রয়েল নেট’ থেকে ২ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে বাড়িতে সংযোগ নেই। মাসে দিতে হবে ৮শ’ টাকা। মাস খানেক ভাল চললো। এরপর থেকে প্যাড়া (দুর্ভোগ) শুরু হয়। তাদেরকে কয়েকবার ফোন করে আনতে হয়। আসলে আবার সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। একটু দেখে বলবে ঠিক আছে। পরে আবার সেই প্যাড়া। কয়েক দিন পরে আমি এ কোম্পানির মালিককে ফোন করি। তিনি জানান, আপনাকে ১ হাজার ২শ’ টাকার প্যাকেজের রিয়েল আইপি নিতে হবে। তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে। কোন দিশা না পেয়ে, তাদের সংযোগ বন্ধ করে দিলাম। তারা সব নিয়ে গেল। অগ্রিম টাকাটা আর দিল না। অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে ৭শ’ টাকা মাসিক হারে আবার সংযোগ নিলাম এখন সব ঠিক আছে। আসলে সব ধান্দাবাজ। অগ্রিম টাকা এবং যে ক’মাস এভাবে চলে, এটাই তাদের লাভ।

নগরীর রয়েল নেট এর অফিসে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে মালিককের সাথে কথা বলে জানাচ্ছি বলেন আর ফোন রেখে দেন। ২০ মিনিট পরে জানায় প্রতিষ্ঠানের মালিক তোয়াস দেশের বাইরে রয়েছেন।

জিরোপয়েন্ট এলাকার রমেন জানান, গল্লামারী জিরো পয়েন্ট এলাকার অহন কমিউনিকেশন (ডিস বাজার) এর মালিক ভারত থেকে অবৈধ পথে ইন্টারনেট এবং ডিস সরঞ্জামাদী এনে গোপনে বিক্রি করে। এছাড়া তিনি ৪ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) স্প্রীড দেওয়ার কথা বলে গ্রাহককে এক এমবিপিএসও দিচ্ছে না। সমস্যার কথা বললে আর খোঁজ থাকে না। মাস পার হলেই চলে আসে কোন রকম ঠিক করে দিয়ে বিল নিয়ে চলে যায়।

অহন কমিউনিকেশন (ডিস বাজার) এর স্বত্ত্বাধীকারী হিমাদ্রী শেখর বিশ্বাস হিমাদ্রী শেখর বিশ্বাস জানান, জিরো পয়েন্ট এলাকায় অনেকেই ইন্টারনেট ব্যবসা করছে কিন্তু এ এলাকায় আমার ছাড়া আর কারো নিবন্ধন নেই। সব চলছে হাওয়ার ওপরে। অনেকে আমার ব্যবসা দেখে ইর্শান্বিত হয়ে এসব কথা বলছে।

খুলনা ইন্টারনেট ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি ফেরদৌস তুষার জানান, বর্তমানে গ্রাহক সেবার মান কমে গেছে। এখন খুলনায় অনেক ইন্টারনেট কোম্পানি। কম্পিটিশন করতে গিয়ে কাজের মান থাকছে না। অনেকের নিবন্ধন নেই। ভাল টেকনিশিয়ানও নেই। ফলে খাম্বাগুলোতে মাঝে মধ্যে অগুন জ্বলতে দেখা যায়। অনেকের কল সেন্টারও নেই। যার যেমন ইচ্ছা সে তেমনি চালাচ্ছে। অবশ্য বিপাকে পড়েছেন ছোট ছোট ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) গ্রাহকেরা। এসব আইএসপির সক্ষমতা কম। তারা বাড়তি চাপ নিতে পারছে না। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার জেলা সমন্বয়কারী এডভোকেট মো. মোমিনুল ইসলাম জানান, সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহকের সম্পর্ক হওয়া উচিত মধুর। কিন্তু কোন পক্ষ চুক্তি ভঙ্গ করলে বাঁধে বিপত্তি। এটি কারোরই কাম্য নয়। সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের উচিত চুক্তি অনুযায়ী গ্রাহকের সেবা নিশ্চিত করা। সবাইকে মনে রাখতে হবে আইন সবার জন্য সমান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ