ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 October 2020, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

গ্রেফতার এড়াতে যেসব অভিনব পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন সাহেদ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বোরকা পড়ে নৌকায় করে নদীপথে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলো বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা মামলার প্রধান আসামি ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ।

আজ বুধবার ভোরে দিকে সাতক্ষীরার সীমান্তের দেবহাটা থানার সাকড় বাজারের পাশে অবস্থিত লবঙ্গপতি এলাকা থেকে নৌকায় পালিয়ে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাব।

ভারতে পালানোর চেষ্টার সময় সাহেদ জিন্সের প্যান্ট ও নীল রঙের শার্টের ওপর কালো রঙের বোরকা পরে ছিলেন। তার মাথার সাদা চুল ছিল কালো করা। এছাড়াও গ্রেফতার এড়াতে আরো কিছু অভিনব পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন সাহেদ।

এ প্রসঙ্গে সকালে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিং করেন র‍্যাবের অপারেশন শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, গ্রেফতার এড়াতে সাহেদ মাথার সাদা চুল কালো করেছিলেন। গোঁফও কেটে ফেলেছিলেন। এ ছাড়া তিনি মাথা ন্যাড়া করার পরিকল্পনা করেছিলেন।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, তার পালানোর ব্যাপারে স্থানীয় বাচ্চু দালালকে আমরা সন্দেহ করছি। সীমানা পার হয়ে ভারতে যাওয়ার পথে আমরা তাকে গ্রেফতার করি।

সাতক্ষীরায় কত দিন অবস্থান করছিলেন সাহেদ? এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমরা তাকে দীর্ঘ সময় অনুসরণ করছিলাম, ঘন ঘন তিনি অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন। অবশেষে তাকে সাতক্ষীরার দেবহাটার কোমরপুর বেইলি ব্রিজের দক্ষিণ পাশের লবঙ্গবতী নদীর পাড় থেকে গ্রেফতার করি আমরা।

উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযানের পর র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, আমরা শুরুতে ভুয়া টেস্টের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্তু এখন দিন যতই যাচ্ছে দেখছি অসংখ্য জঘন্য অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল সাহেদ। যাদের সঙ্গে তার ব্যবসা ছিল, তাদের সঙ্গেই প্রতারণা করেছে। অভিযানের পর অসংখ্য মানুষ আমাকে কল করে তার প্রতারণার ফিরিস্তি তুলে ধরছে।

পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, তার থেকে পদ্মাসেতু প্রকল্পের জন্য নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে সাপ্লাই দিয়ে আর টাকা দেয়নি। সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে একজন কল করে জানিয়েছে, তার থেকে বালু এনে সাপ্লাই দিয়ে সে টাকা আর পরিশোধ করেনি। এছাড়া বিভিন্ন নিয়োগ ও বদলির কথা বলে কোটি কোটি টাকা সে হাতিয়ে নিয়েছে। 

এছাড়া সাহেদের বিরুদ্ধে সুন্দরী তরুণীদের ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। তরুণীদের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে কাজ বাগিয়ে নিত সাহেদ। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ