ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 October 2020, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

ফেনীতে মুহুরী নদীর বাঁধে ভাঙন, ১৩ গ্রাম প্লাবিত

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: পাহাড়ি পানির ঢলে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর মুহুরী ও কহুয়া নদীর বাঁধের আটটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী নদীর সাতটি, পরশুরামে মুহুরী নদীর দুটি ও কহুয়া নদীর একটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ কারণে ফুলগাজীর সাতটি ও পরশুরামের ছয়টিসহ ১৩টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি উঠেছে ফেনী-পরশুরাম আঞ্চলিক সড়কে । দুই উপজেলার বহু ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে কয়েকম পুকুরের মাছ। 

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন জানান, সোমবার সকাল ৬টায় মুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর আগে রোববার রাতে বিপদসীমার ১.৩২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

“প্রবল স্রোতে মুহুরী নদীর ফুলগাজী ও পরশুরাম অংশে অন্তত ছয়টি স্থানে ভেঙে গেছে। এতে দুই উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।”

ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, রোববার রাতে মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ফুলগাজীর উত্তর দৌলতপুরের তিনটি স্থানে ও কিসমত ঘনিয়া মোড়া গ্রামে দুইটি স্থানে ভেঙে যায়। 

“এতে উত্তর দৌলতপুর, বৈরাগপুর, সাহাপাড়া, উত্তর বরইয়া, ঘনিয়া মোড়া, কিসমত ঘনিয়া মোড়া ও পূর্ব ঘনিয়া মোড়া গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, ফুলগাজী বাজারের পশ্চিম অংশে শ্রীপুর এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক তলিয়ে গেছে। এতে ওইসব এলাকার পাঁচশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন জানান, রোববার রাতে মুহুরী নদীর চিথলিয়া অংশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কয়েকটি স্থানে ভেঙে ছয়টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলো হলো দক্ষিণ শালধর, মালিপাথর, পাগলীরকুল, দুর্গাপুর, রতনপুর ও রামপুর।

এছাড়া উত্তর ধনীকুন্ডা, মধ্যম ধনীকুন্ডা, উত্তর শালধর, রাজষপুর, নোয়াপুরসহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন। এ সময় তিনি পানিবন্দি তিন শতাধিক মানুষের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করবেন।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার জানান, মুহুরী নদীর বাঁধের ভাঙন কবলিত অংশগুলো মেরামতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন জানান, মুহুরী নদীর বাঁধের ভেঙে যাওয়া অংশে পানি কিছুটা কমলে বাঁধ মেরামতে কাজ করা হবে। এছাড়া নতুন করে বাঁধের কোনো অংশে যেন ভাঙন না ধরে সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ডিএস/এএইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ