ঢাকা, রোববার 20 September 2020, ৫ আশ্বিন ১৪২৭, ২ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজির বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ব্যাখ্যা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারণা নিয়ে সমালোচনার মুখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের’ নির্দেশে মোহাম্মদ সাহেদের ওই হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন তারা।গত ২১ মার্চ ওই সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ টক শো ছাড়া সাহেদকে কখনও দেখেননি বলে দাবি করেছে অধিদপ্তর।

এছাড়া করোনাভাইরাসের পরীক্ষা নিয়ে হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা জেকেজিকে অনুমোদন দেয়া প্রসঙ্গে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির পক্ষে সাফাই গেয়ে আরো বলা হয়, এর আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ করা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান ওভাল গ্রুপ লিমিটেডের মালিক আরিফুল চৌধুরীর এই প্রতিষ্ঠান এভাবে প্রতারণা করবে তা তাদের ধারণায় ছিল না।

গত ২১ মার্চ করোনাভাইরাসের চিকিৎসা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতালের সমঝোতা স্বারক সই হয়।গত ২১ মার্চ করোনাভাইরাসের চিকিৎসা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে রিজেন্ট হাসপাতালের সমঝোতা স্বারক সই হয়।মহামারীর মধ্যে পরীক্ষা না করে করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া এই দুই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে সমালোচনার মুখে শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ব্যাখ্যা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর কবিরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ইদানিং কোনো কোনো স্বার্থান্বেষী মহল কল্পিত ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুনাম নষ্ট করার প্রয়াস চালাচ্ছেন।

“রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী মো. সাহেদ করিমের বিভিন্ন প্রতারণার বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আগে অবহিত ছিল না। দেশে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল কোভিড রোগী ভর্তি করতে চাইছিল না। এ অবস্থায় রিজেন্ট হাসপাতাল উত্তরা ও মিরপুরে অবস্থিত ওই নামের দুটি ক্লিনিককে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ডেডিকেটেড করার আগ্রহ প্রকাশ করে।

“মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল বিভাগ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেয়। ক্লিনিক দুটি পরিদর্শনের সময় চিকিৎসার উপযুক্ত পরিবেশ দেখলেও লাইসেন্স নবায়ন ছিল না। বেসরকারি পর্যায়ে কোভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় অন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্যে লাইসেন্স নবায়নের শর্ত দিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে চুক্তি হয়।”

এই ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ’ বলতে কাকে বুঝিয়েছেন জানতে চাইলে ডা. জাহাঙ্গীর কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডট্কমকে বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বলতে এখানে বিশেষ কাউকে বোঝানো হয়নি। পুরো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ই আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কক্ষে আলাপচারিতার এই ছবি গত ২ এপ্রিল ফেইসবুকে পোস্ট করেছেন রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদ।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কক্ষে আলাপচারিতার এই ছবি গত ২ এপ্রিল ফেইসবুকে পোস্ট করেছেন রিজেন্ট চেয়ারম্যান সাহেদ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “২১ মার্চ তারিখে এই সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরের পূর্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক পরিচয় থাকা তো দূরের কথা টক শো ছাড়া কখনও মো. সাহেদকে দেখেননি।

“তবে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরের পর বেশ কয়েকবার তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এসেছিলেন। এ সময় মো. সাহেদ তার সাথে বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ আছে এবং তার ক্লিনিকগুলোয় কোন কোন বিশিষ্ট ব্যক্তির আক্রান্ত আত্মীয় ভর্তি আছেন সেসব কথা বলার চেষ্টা করতেন।”

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে প্রথম বেসরকারি হাসপাতাল হিসেবে এই রোগের চিকিৎসা দিতে এগিয়ে আসে রিজেন্ট হাসপাতাল। তবে তাদের পরীক্ষা না করেই করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার ‘প্রমাণ পেয়ে’ গত সপ্তাহে ওই হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। প্রায় ছয় হাজার ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে তারা এভাবে ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা র‌্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

করোনাভাইরাসের ভুয়া প্রতিবেদন দেওয়া ছাড়াও আরও অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে ওই হাসপাতাল সিলগালা করে দেয় র‌্যাব। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে উত্তরা ও মিরপুরে হাসপাতাল দুটি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় র‌্যাবের করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার হলেও মালিক মোহাম্মদ সাহেদসহ এখনও তার কয়েকজন সহযোগী পালিয়ে আছেন। তাদের ধরতে চেষ্টা চলছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলে আসছেন।

অপরদিকে জোবেদা খাতুন হেলথ কেয়ারকে (জেকেজি) নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেওয়ার ব্যাখ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, জেকেজির প্রধান সমন্বয়ক আরিফুল চৌধুরী ওভাল গ্রুপ লিমিটেড নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের মালিক। ওভাল গ্রুপ ২০১৮ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ২০১৮, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের একাধিক অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব পালন করে।

“কোভিড সঙ্কট শুরু হওয়ার পর আরিফুল হক জানান, জেকেজি গ্রুপ দক্ষিণ কোরিয়ার মডেলে বাংলাদেশে কিছু বুথ স্থাপন করতে চায়। এসব বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গবেষণাগারে সরবরাহ করবে। এজন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা সরকারকে কোনো অর্থ দিতে হবে না।

“ধারণাটি ভালো এবং কোভিড পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ বৃদ্ধি করার প্রয়োজন এই বিবেচনা থেকে ওভাল গ্রুপের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকায় জেকেজি গ্রুপকে অনুমতি দেওয়া যায় বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মনে হয়। পরবর্তীতে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ায় বুথ পরিচালনার অনুমতি বাতিল করে।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, “দ্রুত কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের মূল লক্ষ্য ও সদিচ্ছা নিয়ে জেকেজিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি প্রতারণা করতে পারে এমন ধারণা আদৌ ছিল না।”

কোভিড-১৯ পরীক্ষা নিয়ে কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রধান নির্বাহী (সিইও) আরিফুল চৌধুরী গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

“কেউ অপরাধ করলে তদন্তেই তা ধরা পড়বে এবং শাস্তি হবে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে ব্যক্তির চরিত্র হনন এবং তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা কাম্য নয়,” বলা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

তবে, নিজেদের পক্ষে সাফাই না গেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: বিডিনিউজ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ