ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 October 2020, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

করোনা টেস্টের জালিয়াতিই কাল হলো ইতালিতে ফেরা প্রবাসীদের

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের কয়েকটি হাসপাতালে করোনা টেস্ট জালিয়াতি ও ভুয়া নেগেটিভ সনদে ইতালিতে প্রবেশ করার পর চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরেছেন প্রবাসীরা।

গত ২৬ জুন ও ৬ জুলাই দুটি ফ্লাইটে যাওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ২৯ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর তাদের ‘করোনা সনদ’-এর গলদ ধরতে পারে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ।এসব ঘটনায় তোলপাড় চলছে।গত কয়েকদিন ধরে ইতালির সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ নিয়ে বেশ সরগরম।ইতালির প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হচ্ছে, টাকার বিনিময়ে করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে বাংলাদেশিরা ইতালিতে ঢুকছেন।

ইতিমধ্যে কয়েকটি ফ্লাইট ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে তারা। শুধু তাই নয়, ভুয়া টেস্টের জের ধরে আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে সব ফ্লাইট ও যাত্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইতালি। এর ফলে শুধু বাংলাদেশি নন, কোনো বিদেশি নাগরিকও বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে ঢুকতে পারবেন না।

জেকেজি হেলথ কেয়ার ও রিজেন্ট হাসপাতালসহ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে ভুয়া সনদ বিক্রি হয়েছে। এখন বাংলাদেশিদের এড়িয়ে চলছেন ইতালীয়রা। ইতালিফেরত এক আক্রান্ত প্রবাসী বাংলাদেশি রেস্তোরাঁয় কাজ করায় ঐ মালিকের দুটি রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হানা দিচ্ছে প্রশাসনের লোকজন। ইতিমধ্যে সোমবার কাতার এয়ারওয়েজের যে ফ্লাইট রোমে গিয়েছিল, সেটাকে ইতালির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ‘করোনা বোমা’ আখ্যা দিয়ে ১৬৫ জনকে বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় ফেরত পাঠিয়েছেন।

ঢাকায় ফেরা প্রবাসী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইতালির স্বাস্থ্য দপ্তর ঢাকা ত্যাগের ৭২ ঘণ্টা পূর্বে ইস্যু করা স্বাস্থ্য সনদ দেখানো বাধ্যতামূলক করেছে। সেক্ষেত্রে অনেকে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও বিদেশে কর্মস্থলে ফিরতে ভুয়া স্বাস্থ্য সনদ সংগ্রহ করছেন। আমার জানামতে, এ পর্যন্ত যারা ইতালিতে ফিরেছেন, তাদের কয়েক জন রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে করোনার সার্টিফিকেট নিয়েছেন। কারণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় দ্রুত করোনা টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া যায় না। রিজেন্টকে টাকা দিয়ে দ্রুত সার্টিফিকেট পাওয়া গেছে।’

গত জুন মাসে চার্টার্ড ফ্লাইটে যারা ইতালি গেছেন, তাদের কেউ কেউ দ্রুত পাওয়ার জন্য রিজেন্ট ও জেকেজি হেলথ কেয়ার (জোবেদা খাতুন সার্বজনীন চিকিত্সাসেবা) থেকে সনদ সংগ্রহ করেছেন।

ইতালি-বাংলা অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট তাইফুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ থেকে আগতদের ভুয়া করোনা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে সহযোগিতা করেছে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের কয়েকটি শাখা। ১ জুন থেকে যারা ইতালিতে ফিরেছেন, তাদের করোনা টেস্ট করানোর জন্য সরকারি কেন্দ্রে যেতে আহ্বান করেছে। এ ছাড়া সংক্রমণ রোধে এই সপ্তাহে জুমার জামাতে অংশ নিতেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, ইতালিতে যাওয়া করোনা রোগীদের অধিকাংশের ভুয়া সার্টিফিকেট ছিল রিজেন্টের দেওয়া। এই খবর সেখানকার বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসে। এরপরই রিজেন্টে অভিযান চালানো হয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে এ পর্যন্ত ১ হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি ইতালিতে ফিরেছেন। চলতি সপ্তাহে আরো ৮০০ বাংলাদেশির ইতালিতে যাওয়ার কথা ছিল। প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের ওয়ার্ক ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। গত মার্চে করোনার ভয়াবহ মহামারি শুরু হলে ইতালি থেকে ৭ হাজারের বেশি প্রবাসী দেশে ফিরেছেন। ইতালিতে ২ লক্ষাধিক বাংলাদেশি আছেন।

বিবিসির খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের ভুয়া সনদ বিক্রি হচ্ছে এমন খবর শিরোনাম হয়েছে ইতালির একাধিক জাতীয় দৈনিকে। রোম থেকে প্রকাশিত শীর্ষ দৈনিক ‘ইল মেসেঞ্জারো’সহ প্রথম সারির বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশিত হয়।

সম্প্রতি কয়েকটি দেশ বাংলাদেশ থেকে বিমান চলাচলের ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ যোগ হয়েছে ইতালি। এর আগে বাংলাদেশ থেকে জাপানে চার্টার্ড ফ্লাইটের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ঢাকা থেকে চীনের গুয়াংজু যাতায়াতকারী চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট গত ২২ জুন থেকে স্থগিত করা হয়েছে।

ডিএস/এএইচ

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ