ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 October 2020, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

মানুষের চরিত্র নষ্ট করে দিয়ে গেছে ৭৫ পরবর্তী সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের চরিত্র নষ্ট করে দিয়ে গেছে ১৯৭৫-এর পর যারা রাতের অন্ধকারে অস্ত্র হাতে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল তারাই। হ্যাঁ, কারণ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে, সে ক্ষমতা কুক্ষিগত করবার জন্য এরা মানুষকে দুর্নীতি শিখিয়েছে, কালো টাকা শিখিয়েছে, ঋণ খেলাপি শিখিয়েছে।’

এছাড়া ‘আমরাই চোর ধরছি, আর আমাদেরকেই চোর বলা হচ্ছে। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্য।’ বলেও সংসদে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।সম্প্রতি রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ শাহেদের সাথে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা এবং স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের সমালোচনার জবাবে বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

টানা দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো সম্পর্কে আরো বলেন, ‘তারা সমাজকে কলুষিত করে দিয়ে গেছে। মানুষ যে একটা আদর্শ নিয়ে চলত নীতি নিয়ে চলত। দীর্ঘ দিন এ দেশে মিলিটারি ডিকটেটরশিপ এ দেশের মানুষের চরিত্র হনন করেছে। কারণ তাদের অবৈধ ক্ষমতাটাকে নিষ্কন্টক করা- এটাই ছিল তাদের লক্ষ্য। সেখানে এভাবে বছরের পর বছর দুর্নীতির বীজটা বপন করেছে। এটা এখন মহিরুহ হয়ে গেছে। আপনি যতই কাটুন, আবার কোথা থেকে যেন গজিয়ে ওঠে। কারণ, মানুষের চরিত্রটাই নষ্ট করে দিয়ে গেছে। সে ক্ষেত্রে এ চরিত্রহীনতা একেবারে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ছিল। সেখানে থেকে যতই চেষ্টা করেন, এর মূলোৎপাটন যথেষ্ট কঠিন।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কে কোন দলের সেটা বড় কথা না। কে এ ধরণের দুর্নীতি, অনিয়মের সাথে জড়িত – আমরা যাকেই পাচ্ছি, যেখানেই পাচ্ছি ধরছি। আর ধরছি বলেই যেন আমরা চোর ধরে চোর হয়ে যাচ্ছি। আমরাই ধরি আবার আমাদেরকেই দোষারোপ করা হয়। এটাই হলো দুর্ভাগ্য,’ মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি নানা অনিয়মের অভিযোগে সিলগালা করে দেয়া রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ শাহেদের সাথে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো: শাহেদ নিজেকে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত বলে দাবি করতেন।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবলীগ এবং কৃষক লীগের বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হন। সেই পরিস্থিতিও আওয়ামী লীগকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছিল। 

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ