ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 October 2020, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

রিজেন্টের সাহেদ পালাতে পারবেন না: র‌্যাব

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক থাকায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ দেশ ছেড়ে পালাতে পারবেন না। তিনি পলাতক। তবে শিগগিরই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম। তিনি বলেন, দুই রাত ধরেই তাকে গ্রেপ্তার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন জায়গায় আমরা খোঁজ করছি। তার বিষয়ে অন্যান্য সংস্থাও সতর্ক।

বুধবার দুপুরে (৮ জুলাই) র‌্যাব সদর দপ্তরের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান তিনি।

লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, করোনার নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার নামে প্রতারণা করায় রিজেন্টের ১৭ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৯ জনকে আসামি করে নিয়মিত মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সাহেদ পলাতক। গতকাল রাতেও আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়েছি। সাহেদের মোবাইল নম্বর বন্ধ। প্রথম দিন দেখেছিলাম ফেসবুকে অ্যাক্টিভ ছিলেন, কিন্তু এখন তিনি সবকিছু থেকেই নিষ্ক্রিয়। তবে আশা করছি  দ্রুত তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হবো।

রিজেন্টের চেয়ারম্যান সাহেদের বিষয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে তার নানা অপকর্মের কথা জানতে পেরেছি। তিনি আগেও প্রতারণার দায়ে আটক হয়ে জেলও খেটেছেন। ভুয়া পরিচয় দিয়ে নানাভাবে প্রতারণা করেছেন তিনি। আমরা জানতে পারছি তার আরও অনেক নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠান রয়েছে।  প্রতিদিন নানা জায়গা থেকে অসংখ্য ফোন রিসিভ করছি, তারা সাহেদের অপকর্ম-অরাজকতার বিষয়ে জানাচ্ছে।

তিনি জানান, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করেই তিনি প্রতারণা করতেন। প্রতারণার জন্যই ছবিগুলো তুলেছে বলে তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। 

তিনি বলেন, করোনাকে ঘিরে আমরা নানা অপতৎপরতা দেখেছি। শুরু থেকেই ভুয়া হ্যান্ড স্যানিটাইজার, ব্যবহৃত গ্লাভস-মাস্ক বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছি। বিভিন্ন ভুক্তভোগীর মাধ্যমে জানতে পারি, কিছু হাসপাতাল করোনা টেস্টকে ঘিরে নৈরাজ্য শুরু করেছে। ব্যক্তি পর্যায় থেকেই অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছিলাম।

তিনি আরও বলেন, রিজেন্ট হাসপাতাল হোম ডেলিভারির মতো বাসায় গিয়ে করোনার নমুনা সংগ্রহ করে দ্রুততার সঙ্গে রিপোর্ট সরবরাহ করছিল।  রিজেন্টের বিরুদ্ধে আমরা ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছি। তাদের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, তারা নমুনা নিয়ে টেস্টের সঠিক রিপোর্ট পাঠায় না। প্রায় সাড়ে চার হাজার নমুনার টেস্ট না করেই কম্পিউটার অপারেটর মনগড়া রিপোর্ট দিয়ে সরবরাহ করেছে। ফলে বুঝে না বুঝে অনেকেই ভুয়া পজিটিভ হয়ে কোয়ারেন্টিনে চলে গেছেন। 

তিনি আরও জানান, রিজেন্ট হাসপাতাল ১০ হাজার টেস্ট করেছে। এর মধ্যে সাড়ে চার হাজার টেস্টের কাগজ আমাদের হাতে রয়েছে, যা সরকারের কোনও সংস্থা এ ধরনের রিপোর্ট তৈরি করেনি বলে জানতে পেরেছি। রিজেন্টের কম্পিউটার অপারেটর আমাদের বলেছে, চেয়ারম্যান নিজে ব্যক্তিগতভাবে এসব করিয়েছেন।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ