ঢাকা, বৃহস্পতিবার 01 October 2020, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

এবারের দেশসেরা গরু যশোরের ‌'বাংলার বস' ও 'বাংলার সম্রাট'

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: খামারি আসমত আলী গাইনের দাবি এবারের কোরবানির জন্য দেশসেরা গরু তার ‘বাংলার বস’।এই বসের ওজন ৬৫ মণ। দাম হাকিয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। আসমত আলীর দাবি, এখন পর্যন্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু এটি। তার বসকে টেক্কা দেওয়ার মতো ষাঁড় সারা বাংলাদেশেও নেই। ব্যাপারীরা ইতোমধ্যে ৩০ লাখ টাকা দাম বললেও তিনি এখনো ৫০ লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন। এই খামারির ‘বাংলার সম্রাট’ নামে আরও একটি গরু আছে, সেটাও দেখার মতো।তিনি গরু দুটোর একত্রে দাম চাইছেন ৮০ লাখ টাকা। বিশালাকার গরু দু’টি দেখতে হুরগাতি গ্রামে তার বাড়িতে লোকজন ভিড় করছেন।

খামারি আসমত আলী গাইন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হুরগাতি গ্রামের মৃত রজবালী গাইনের ছেলে। গত ২৫ বছর ধরে তিনি ‘মীম ডেইরি ফার্ম’ নামে গাভী পালন করে আসছিলেন। শখের বশে তিনটি উন্নত জাতের এঁড়ে গরু কিনে সুষম খাদ্য, উপযুক্ত চিকিৎসা, নিয়মিত পরিচর্যা করে সফল হয়েছেন।

আসমত বলেন, ‘বাংলার বসের দাম চেয়েছেন ৫০ লাখ টাকা। ব্যাপারিরা ৩০ লাখ পর্যন্ত দাম উঠিয়েছেন। আর বাংলার সম্রাটের দাম ৩০ লাখ টাকা চাইলেও ব্যাপারিরা দাম বলেছেন ১৫ লাখ টাকা।’ 

আসমত জানান, গতবছর কোরবানির ঈদের কয়েকদিন আগে যশোর হাইকোর্ট মোড়ের খামারি মুকুলের কাছ থেকে ‘বাংলার বস’কে ১৭ লাখ টাকায় কেনেন। আর ‘বাংলার সম্রাট’কে কেনেন ৮ লাখ টাকায়। এরপর সুষম খাদ্য, উপযুক্ত চিকিৎসা, নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করেন। গরু দুটিকে দিনে দু’বার দানাদার ও তরল খাদ্য হিসেবে খৈল, গম, ভুট্টা, বুট ও ছোলার ভুষি, চিটাগুড়, ভিজানো চাল, খুদের ভাত, খড়, নেপিয়ার ঘাস ও কুড়া মিলে মোট ৮০ থেকে ৯৫ কেজি খাদ্য খাওয়ানো হয়।এ ছাড়া তিনি প্রশিক্ষণ নেওয়ায় নিজেই তার গরুর চিকিৎসা দেন। 

বাংলার বস ফ্রিজিয়ান জাতের। বর্তমানে তার ওজন ২৬০০ কেজি (প্রায় ৬৫ মণ)। আর সম্রাটের ওজন ২ হাজার কেজি (৫০ মণ)।

সরেজমিন হুরগাতি গ্রামে আসমতের বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নারী-পুরুষের ভিড় চোখে পড়ে। এগিয়ে যেতেই জানা যায় উৎসুক জনতা আসমতের গরু দেখতে এসেছেন। 

এ সময় আসমত আলী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, আমি নিশ্চিত আমার ‘বাংলার বস’ দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় গরু। এর ওজন এখন ২৬শ কেজি অর্থাৎ প্রায় ৬৫ মণ। এ ওজনের ষাঁড় এর আগে বাংলাদেশে কখনো হয়েছে কি না সন্দেহ। আসমত ক্ষোভের সঙ্গে আরও বলেন, এ পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ অফিসের কোনো সহযোগিতা পাইনি। এমনকি কোনো দিন অফিসের কেউ খামার পরিদর্শনেও আসেনি।

পার্শ্ববর্তী উপজেলা অভয়নগরের সাইফুল ইসলাম বলেন, এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে শুনে গরু দেখতে এসেছি। এমন হাতির মতো গরু জীবনে কখনো দেখিনি।

ভোজগাতি গ্রামের সালাম বিশ্বাস বলেন, আমার ৮০ বছর বয়সে এত বড় গরু দেখিনি। একই কথা জানান, গরু দেখতে আসা উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের আমিনপুর গ্রামের শাহেরা বেগম, জয়পুর গ্রামের আকতার আলী।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবুজার সিদ্দিকী বলেন, এমন বড় গরুর বিষয়ে তিনি শুনেছেন। তিনি না যেতে পারলেও অফিসের লোকজনের সঙ্গে খামারির নিয়মিত যোগাযোগ হয় বলে তিনি দাবি করেন।

আসমতের দাবি, করোনার কারণে ব্যাপারিরা সঠিক দাম বলছেন না। এজন্য গরু দু’টি ঢাকায় নিয়ে যাবেন। আশানুরূপ দাম না পেলে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিক্রি করবেন।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ