বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

মোদির সফরের পরই লাদাখে আরও ১৫ হাজার সেনা মোতায়েন ভারতের

সংগ্রাম ডেস্ক : প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চীনা সেনাদের সংখ্যা বাড়িয়ে ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল নিয়েছে চীন। ভারতও পাল্লা দিয়ে সেনা মোতায়েন করে চলেছে। লাদাখে একসঙ্গে এত সেনা মোতায়েন অতীতে কখনও করেনি ভারত। চীনকে বার্তা পাঠাতে শুক্রবার লাদাখে আরও এক ডিভিশন সেনা মোতায়েন হয়েছে বলে জানা গেছে।
পূর্ব লাদাখে এই মুহূর্তে ভারতের সেনা মোতায়েন বেড়ে দাঁড়াল চার ডিভিশন। মে মাসের আগে মাত্র এক ডিভিশন মোতায়েন ছিল। এক-একটি ডিভিশনে থাকে ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার সেনা সদস্য। অর্থাৎ চার ডিভিশন মিলিয়ে ভারতের দিক থেকে প্রায় ৮০ হাজারের কাছাকাছি সেনা মোতায়েন রয়েছে পূর্ব লাদাখে।
শুক্রবার লাদাখে দাঁড়িয়ে সরাসরি চীনকে কড়া বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত এবং সেনাপ্রধান এম এম নারাবনে।
সেনাদের উদ্বুদ্ধ করতে মৃত সৈনিকদের মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমি দুই মাকে সব চেয়ে বেশি সম্মান করি। এক, ভারতমাতা এবং দুই, বীরমাতা, যারা এই সাহসী, পরাক্রমী সেনাদের জন্ম দিয়েছেন।’
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আচমকা সফরের পর শুক্রবার লাদাখে সেনা সমাবেশ আরও বাড়িয়েছে ভারত। সূত্রের বরাতে সে দেশের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, সবমিলিয়ে পূর্ব লাদাখে এই মুহূর্তে ভারতের সেনা সমাবেশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার ডিভিশনে।
প্রতি ডিভিশনে সাধারণত ১৫ থেকে ২০ হাজার সৈন্য থাকে। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, লাদাখে মে মাসের আগে মাত্র এক ডিভিশন সেনা ছিল। এখন সেখানে চার ডিভিশন মিলিয়ে প্রায় ৮০ হাজারের কাছাকাছি ভারতীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে। সূত্রের বরাতে তারা বলছে, নতুন ডিভিশন এসেছে উত্তর প্রদেশ থেকে। শুধু সেনা সমাবেশ নয়, সেইসঙ্গে সমরাস্ত্র, যুদ্ধের সরঞ্জামও বাড়ছে।
এর আগে শুক্রবার লাদাখে দাঁড়িয়ে সরাসরি চীনকে কড়া বার্তা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার সঙ্গে ছিলেন চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত এবং সেনাপ্রধান এম এম নারাবনে। তবে এ সময় মোদি চীনের নাম নেননি। ভারতীয় সেনাদের বীরত্বের প্রশংসাও করেন তিনি। লাদাখে ভারতীয় সেনাদের মাঝে দাঁড়িয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগ্রাসনের দিন শেষ। এখন প্রগতির যুগ। এগিয়ে যাওয়ার সময়। ইতিহাস সাক্ষী আগ্রাসনকারীরা সবসময় ধ্বংস হয়েছে। যারা আগ্রাসনের নীতিতে চলছে, তারা শান্তির পক্ষে বিপদের কারণ।’
একইদিনে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর যেকোনও কৃত্রিম বাধা ভারতীয় স্বার্থের ক্ষতির কারণ হবে বলে সতর্ক করে চীন। বেইজিং-এর পক্ষ থেকে সীমান্তে শান্তি সমুন্নত রাখতে দুই দেশের ঐক্যবদ্ধ তৎপরতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।  শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ভারতে চীনের বাণিজ্যিক অধিকার বজায় রাখতে বেইজিং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।

এবার আন্দামানের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত ভারত
লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় চীনা বাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এবার আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নিরাপত্তা নিয়েও নড়েচড়ে বসেছে ভারত।
ভারত মহাসাগরের ওপর দিয়ে আন্দামান-নিকোবরের কাছ দিয়ে জ্বালানি তেল আমদানি করে চীন। সেই বিষয়টি মাথা রেখেই এখন আন্দামান-নিকোবর কমান্ডের গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ওই দ্বীপপুঞ্জে ভারত অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে এই সময়।
ভারতীয় এ সংবাদমাধ্যম জানায়, চীনের ‘সম্প্রসারণবাদ কৌশল’ মোকাবেলায় ভারত মহাসাগরের ওপর আন্দামান-নিকোবরের অবস্থান দিল্লির কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আন্দামান-নিকোবরের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সেনা সূত্রের বরাতে খবরে বলা হয়, আন্দামান-নিকোবরে সেনার পরিকাঠামো ও সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি বহুদিন ধরেই আটকে ছিল। কিন্তু লাদাখে চীনের আক্রমণাত্মক ও বিস্তারবাদ মনোবৃত্তির জন্য এবার ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক ভারত।
জানা গেছে, ২০০১ সালে প্রথম আন্দামান-নিকোবর কমান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি দেশটির প্রথম ও একমাত্র থিয়েটার কমান্ড, যেখানে সেনা, বিমান এবং নৌসেনা একটিই অপারেশনাল কমান্ডারের অধীনে রয়েছে।
ভারত মহাসাগরের ওপর অবস্থানগত বিচারে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানকার কমান্ডের প্রতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এতদিন যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি বলে সেনা সূত্র জানিয়েছে।
ফলে দীর্ঘদিন ধরে আন্দামান-নিকোবর কমান্ড অবহেলার শিকার হচ্ছিল। এছাড়া যথেষ্ট পরিমাণে বরাদ্দ সেখানকার কমান্ডের জন্য নির্দিষ্ট করা হতো না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এই সময় আরও জানায়, উত্তর আন্দামানের শিবপুরে নৌসেনার এয়ার স্টেশন আইএনএস কোহাসারের রানওয়ের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ক্যাম্পবেলে আইএনএস বাজের রানওয়ের দৈর্ঘ্য বাড়ানোরও কথা চলছে। প্রয়োজনে বড় যুদ্ধবিমান যাতে এখান থেকে কাজ করতে পারে, তার জন্য বাড়ানো হচ্ছে রানওয়ের দৈর্ঘ্য।
আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে সেনা কর্মকাণ্ড বাড়ানোর জন্য যে রোল-অন প্ল্যান নেয়া হয়েছে, তাতে ১০ বছরের জন্য প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। আরও যুদ্ধবিমান, নৌজাহাজ ও সেনা সেখানে মোতায়েন করা হবে। এই কাজে ৫৬৫০ কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।
২০২৭ সালের মধ্যে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে সেনা পরিকাঠামো বৃদ্ধির কাজ সম্পূর্ণ করা হবে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যটি।

চীনের মহড়া উসকানিমূলক -যুক্তরাষ্ট্র
আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স: দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধপূর্ণ অংশে চীনের বিদ্যমান সামরিক মহড়াকে উসকানিমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ সাগরের বিরোধপূর্ণ অংশে চীনা মালিকানার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে দেশটি। গত শুক্রবার টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এতে সাগরটিতে ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের দাবির প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন তিনি।
টুইটে পম্পেও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র তার দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় বন্ধুদের সঙ্গে একমত যে, দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত অংশে চীনের সামরিক অনুশীলন অত্যন্ত উসকানিমূলক। আমরা বেইজিং-এর বে আইনি দাবির বিরোধিতা করছি।’
আরেক টুইটে তিনি লিখেছেন, দক্ষিণ চীন সাগরে এবং যে কোনও স্থানে সবাইকে আকার, ক্ষমতা এবং সামরিক ক্ষমতা নির্বিশেষে সব দেশের সার্বভৌম অধিকারকে সমর্থন করতে হবে।
দক্ষিণ চীন সাগরের প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় গত ১ জুলাই শুরু হওয়া চীনের এ সামরিক মহড়া আগামী ৫ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে।
মৎস্য সম্পদসহ খনিজ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে বছরে প্রায় ৫ লাখ কোটি ডলারের পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। পুরো সমুদ্রপথকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে চীন। তবে আরও কয়েকটি দেশও ওই অঞ্চলের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে। দেশগুলো হচ্ছে মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অঞ্চলের দাবি না করলেও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হিসেবে ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে চায় তারা। এর অংশ হিসেবেই এ সাগরে চীনের চলমান মহড়ায় ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের আপত্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে পম্পেও মন্তব্য করেন, ভারতের সীমান্ত কিংবা হংকং বা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ থেকে দেশটির আচরণের ব্যাপারে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। চীনের আচরণের প্রভাব কেবল সে দেশে ও হংকংয়ে বসবাসকারীদের ওপরই নয়, বরং পুরো দুনিয়ার মানুষের জীবনের ওপর পড়ছে। তিনি বলেন,  আমেরিকার দায়িত্ব এবং ক্ষমতা রয়েছে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি, মার্কিন নাগরিকরা যথাযথ পররাষ্ট্রনীতির পরিষেবা পাচ্ছেন। আজকের দিনে চীনের হুমকিকে চিহ্নিত করে ফেলা হয়েছে।

দক্ষিণ চীন সাগরে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
দক্ষিণ চীন সাগরে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশ ডেস্ক শিগগিরই দক্ষিণ চীন সাগরে দুইটি বিমানবাহী জাহাজ ও বেশ কয়েকটি যুদ্ধ জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীকে উদ্ধৃত করে সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সামরিক মহড়ায় অংশ নিতে জাহাজগুলোকে ওই এলাকায় পাঠানো হবে। প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় চীনের সামরিক মহড়া নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘোষণা দিলো মার্কিন নৌবাহিনী। অবশ্য তারা দাবি করছে, এই সামরিক সমাবেশের পেছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।
দক্ষিণ চীন সাগরের প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জ এলাকায় গত ১ জুলাই শুরু হওয়া চীনের  সামরিক মহড়া আগামী ৫ জুলাই শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন ইতোমধ্যেই এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে। চীন সাগরে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের মধ্যে সামরিক মহড়া পরিচালনার পরিকল্পনা করে আসছে মার্কিন নৌবাহিনী। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে তারা জানিয়েছে, শিগগিরই ওই মহড়া শুরু হতে যাচ্ছে।
ফিলিপাইন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরে ইউএসএ নিমিৎজ ও ইউএসএস রোনাল্ড রিগ্যান ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ যৌথভাবে মহড়া চালাবে। সেভেনথ ফ্লিটের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জোয়ে জেইলি বলেন, ‘ফিলিপাইন সাগর ও দক্ষিণ চীন সাগরে দুইটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের মহড়ার মধ্য দিয়ে আমাদের বাহিনীগুলো অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ লাভের সুযোগ পেয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা বিশ্বের ঘটনাবরীকে কেন্দ্র করে এ জাহাজগুলো পাঠানো হচ্ছে না। বরং ইন্দো-প্যাসিফিক এলাকায় নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা, ও সমৃদ্ধি রক্ষায় মার্কিন নৌবাহিনী যেসব অত্যাধুনিক সক্ষমতা ব্যবহার করে এটি তারই একটি।’
মৎস্য সম্পদসহ খনিজ আহরণের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে বছরে প্রায় ৫ লাখ কোটি ডলারের পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। পুরো সমুদ্রপথকে নিজেদের অঞ্চল বলে দাবি করে চীন। তবে আরও কয়েকটি দেশও ওই অঞ্চলের ওপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে। দেশগুলো হচ্ছে মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও ভিয়েতনাম। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ওই অঞ্চলের দাবি না করলেও আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথ হিসেবে ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে চায় তারা। এর অংশ হিসেবেই এ সাগরে চীনের চলমান মহড়ায় ফিলিপাইন ও ভিয়েতনামের আপত্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

মোদির লাদাখ সফরের পরই চীনের চরম হুঁশিয়ারি
ক্রমশ জটিল হচ্ছে লাদাখের পরিস্থিতি। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার কথা বারবার ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। কিন্তু এরপরেই সীমান্তের ওপারে রণসজ্জা সাজাচ্ছে চীন। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার সেনা সমাবেশ করেছে বেইজিং। যদিও পালটা হিসাবে ভারতও ঘাঁটি সাজাচ্ছে সীমান্তে। চীন সীমান্ত ঘেঁষে মিসাইল সিস্টেমসহ একগুচ্ছ অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত।
কিন্তু যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যা সমাধান করতে চায় মোদি সরকার। অন্যদিকে, গত শুক্রবার জানা গেছে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এই বিষয়ে আমেরিকা, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, জাপানকে ব্যাখ্যা দিয়েছে। লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলে ঠিক কী পরিস্থিতি তা জানানো হয়েছে। সীমান্ত সমস্যা সমাধানে গত এক সপ্তাহ ধরে কি আলোচনা হয়েছে তাও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার সকালে হঠাৎ করেই লাদাখে পৌঁছে যান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সীমান্তে এখন প্রতি মুহূর্তে চাপা টেনশন, কড়া নজরদারি। এই পরিস্থিতিতে জওয়ানদের মনোবল আরও চাঙ্গা করতে লাদাখ পৌঁছে যান মোদি। কথা বলেন সেনা-কর্মকর্তা, জওয়ানদের সঙ্গে। আর তাতেই ঘুম চটেছে চীন। লাদাখে মোদি পা রাখার পর থেকে একের পর এক বিবৃতি আসছে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে। কখনও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর দাবি। আবার কখনও হুমকি
কমিউনিস্ট সরকারের মুখপত্র গ্লোবাল টাইমস-এর এডিটর-ইন-চিফ হু শিজিন মোদির লাদাখ সফর নিয়ে টুইট করেছেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর এদিনের মোদির সফরকে রাজনৈতিক চমক বা স্টান্ট বলে ব্যাখ্যা করেছেন। এরপরেই চরম হুঁশিয়ারি ওই এডিটরের। সেনাবাহিনীর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, ভুলেও যেন চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ধারে কাছে না আসে ভারতীয় সেনাবাহিনী।
টুইটে তিনি লিখেছেন, আমি বুঝতে পারছি প্রধানমন্ত্রী মোদি সীমান্তে রাজনৈতিক চমক দেখিয়ে কড়া কড়া কথা বলা দরকার হয়ে পড়েছে। কিন্তু দয়া করে চুপিচুপি সীমান্তে ভারতীয় জওয়ানদের বলে দিন, যে চীনকে তোমরা চেন, সে কিন্তু ভারতের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিধর। পিএলএ’র সঙ্গে যেন তারা পাল্লা দিতে না যায় কেননা পিএলএ’র কাছে তারা কিছুই নয়।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার হঠাৎ লাদাখ পরিদর্শনে যান নরেন্দ্র মোদি। সীমান্তে দাঁড়িয়েই চীনকে কড়া বার্তা দেন তিনি। বলেন ‘গলওয়ান আমাদের’। লাদাখ সীমান্তে মোতায়েন সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়াতে শুক্রবার ভোরেই লাদাখে পৌঁছান মোদি। লেহ থেকে সেনার চপারে করে নিমুতে ফরোয়ার্ড পোস্টে পৌঁছান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ