ঢাকা, রোববার 20 September 2020, ৫ আশ্বিন ১৪২৭, ২ সফর ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

১৫ জেলায় বন্যা, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ৯টি নদীর পানি বইছে বিপদসীমার উপরে। এতে অন্তত ১৫ জেলায় বন্যা চলছে। ইতোমধ্যে যমুনার পানি নেমে পদ্মার দু’টি পয়েন্টে বিপদসীমা পার করেছে। এতে মধ্যাঞ্চলের জেলা রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরে বিস্তৃত হয়েছে বন্যা।এতে বিপাকে পড়েছে দিনমজুর আর নিম্ন আয়ের মানুষ।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সোমবার বৃষ্টি না হওয়ায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানির সমতল বাড়ছে না। তাই বন্যা পরিস্থিতি আরও ২৪ ঘণ্টা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে বাড়ছে গঙ্গা-পদ্মার পানি। ইতোমধ্যে মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল পয়েন্টে পদ্মা বিপদসীমা পার করেছে। আরও ৪৮ ঘণ্টা এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। মানিকগঞ্জের আরিচায়ও যমুনা বিপদসীমার উপরে বইছে।

অপরদিকে মেঘনা অববাহিকা বা সিলেট থেকে কিশোরগঞ্জ পর্যন্ত নদনদীতে পানির সমতল হ্রাস পাচ্ছে। এটা আরও ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে দেশের পূর্বাঞ্চলে বা সিলেট, সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে।

কিন্তু আগামী ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতি একই রকম থাকবে। আর পরিস্থিতি অবনতি ঘটবে টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী ও ফরিদুপর জেলায়।

সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) বলেছে, সোমবার ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বৃষ্টিপাত হয়নি। এ কারণে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা অববাহিকায় পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার আসাম ও সিকিমে বৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আসামের সিলচরে ২৪ ঘণ্টায় ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। ফলে ব্রহ্মপুত্রে পানিপ্রবাহ ফের বেড়ে যাবে। দেশের ভেতরেও কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ছাতক, সুনামগঞ্জ, লাটু, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও লাল্লাখালে ১৭৫ থেকে ৪৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে দেশের ভেতরের বৃষ্টিও বন্যা পরিস্থিতিতে অবদান রাখছে।

বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম বলেন, ভারতের পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির আশা দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ফের বৃষ্টি শুরু হয়েছে। তাই এই বন্যা আরও এক সপ্তাহ চলতে পারে। তিনি বলেন, গত ৫ বছরের মধ্যে ৪ বছরই বন্যা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ‘রোল মডেল’ বলা হলেও জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এখন ‘রোল চ্যালেঞ্জ’-এ পরিণত হচ্ছে। মৌসুমের শেষের দিকে আরেক দফা হতে পারে। এবার আউশের ক্ষতি হল। এরপর আমনের ক্ষতি হবে। এমন হলে খাদ্য নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে। তাই আমাদেরকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় মনোযোগ ও বরাদ্দ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি চলতি বন্যায় দুর্গতদের শুকনা খাবার, ওষুধ, গো খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থাপনা করা দরকার। এফএফডব্লিউসি জানিয়েছে, দেশের ৯টি নদীর পানি বিপদসীমার উপরে বইছে। এগুলো হচ্ছে, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট, ধরলা, আত্রাই, ধলেশ্বরী, পদ্মা, সুরমা ও পুরাতন সুরমা। এসব নদী ১৪ স্থানে বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ