বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাংবাদিক মোনায়েমের চলে যাওয়া!

কক্সবাজারের মেধাবী ও সিনিয়র সাংবাদিক মোনায়েম খান। একটু অক্সিজেন সাপোর্টের অভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছটফট ছটফট করতে করতে গত ৭ জুন রোববার বেলা আড়াইটায় চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আর কোনওদিন কারুর কাছে ফোন করে চাইবেন না একটা আইসিইউ বেডের সুবিধা। মোনায়েম খানের চলে যাবার দিন ঢাকা থেকে সাংবাদিকনেতা মুহাম্মদ আবদুল্লাহসহ কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামের কর্মরত তাঁর অনেক সহকর্মী সাংবাদিক, বন্ধু চেষ্টা করেও মরণাপন্ন সাংবাদিকের জন্য একটু অক্সিজেন সাপোর্টের ব্যবস্থা করতে পারেননি। ঐ মেডিকেলে নাকি হাশরের ময়দানের পরিস্থিতি বিদ্যমান। সীমিত অক্সিজেন সাপোর্ট নিয়ে মৃত্যুযন্ত্রণার মুখোমুখি রোগীদের কাড়াকাড়ি। একজনের কাছ থেকে খুলে নিয়ে অন্যজনকে অক্সিজেন দেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, করোনাক্রান্ত হয়ে বাসায় ও কক্সবাজারে চিকিৎসাধীন থাকবার পর তিনদিন আগে চট্টগ্রামে স্থানান্তরের সময় এম্বুলেন্সে থাকতেই মোনায়েমকে ঢাকায় নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর অবস্থা ঢাকায় আনবার মতো ছিল না। ৬ জুন শনিবার জানানো হয় তাঁর অবস্থা ভালোর দিকে। নিভে যাবার আগে হয়তো জ্বলে উঠেছিলেন। রোববার আকস্মিক শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মোনায়েমের আগে আরও ৯ জন সাংবাদিক করোনাক্রান্ত হয়ে প্রায় সবাই উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। করোনাক্রান্ত চলে যাওয়া সাংবাদিকের মিছিলে মোনায়েম খান দশম। ঠিক দু'দিন পর মোনায়েম খানের মাও পুত্রশোকে মারা যান। আমরা জানি না, সংশ্লিষ্টরা কী জবাব দেবেন? যারা একটানা এগারো বছর ক্ষমতা আঁকড়ে আছেন তাঁদের কি কোনও দায়বদ্ধতা নেই চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নে? দেশের দ্বিতীয় রাজধানীতে একজন সিনিয়র সাংবাদিকের যদি এমন করুণ অবস্থা হয়, তাহলে অন্যদের কী হবে! আসলে এ ব্যর্থতা আমাদের সবাইকে কুরেকুরে খাচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও খাবে! কেবল কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রামেই নয়, খোদ মহানগরী ঢাকায়ও এমন মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটছে। সাংবাদিক, ইঞ্জিনিয়ার, এমনকি ডাক্তার নিজেরাও আইসিইউ বেড কিংবা অক্সিজেনের জন্য ছুটোছুটি করতে করতে অসহায়ের মতো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন। মোনায়েম খান ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের কক্সবাজার প্রতিনিধি ছিলেন। এর আগে ডেইলি স্টার, ডেইলি সান, নিউনেশনসহ প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন। স্থানীয় একটি বাংলা দৈনিকের সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। অত্যন্ত সজ্জন, অমায়িক ও ক্লিন ইমেজের সাংবাদিক হিসেবে পরিচিতি ছিল তাঁর। ঘাতক করোনায় মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিক মোনায়েম খানের অবর্তমানে তাঁর পরিবারের যেমন ক্ষতি হলো। তেমনই ক্ষতি হলো সাংবাদিকতা পেশারও। আমরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করি। মহান আল্লাহ তাঁকে শাহাদাতের মর্যাদায় অভিষিক্ত করুন। পরিবার পরিজনকে শোক সামলে নেবার তাওফিক দিন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ