ঢাকা, বুধবার 5 August 2020, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৪ জিলহজ্ব ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ঢাকার সম্ভাব্য ২৩ রেড জোন

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ঢাকাসহ সারা দেশকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন জোনে ভাগ করে এ বিষয়ে কর্মপন্থা গ্রহণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। ইতোমধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ওয়ারী ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে (রাজাবাজার, ইন্দিরা রোড, মনিপুরীপাড়া, শেরেবাংলা নগর ও গ্রিন রোড) আজ রোববার থেকে লকডাউন শুরু হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, করোনা বেশি আক্রান্ত এলাকাকে রেড, অপেক্ষাকৃত কম আক্রান্ত এলাকাকে ইয়েলো ও একেবারে কম আক্রান্ত বা মুক্ত এলাকাকে গ্রীন জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। রেড জোনকে লকডাউন করা হবে, ইয়েলো জোনে যেন আর সংক্রমণ না বাড়ে সেই পদক্ষেপ নেয়া হবে। সতর্কতা থাকবে গ্রিন জোনেও।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘যে এলাকাকে রেড জোন ঘোষণা করা হবে, সেই এলাকা সম্পূর্ণ ব্লক রাখা হবে। সেই এলাকায় কেউ ঢুকবেও না, কেউ বেরও হবে না। ওই এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিসের দরকার হবে তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকায় প্রতি এক লাখে যদি ৩০ জন বা এর বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত থাকে তবে সেটাকে রেড জোন বলা হবে। ৩ জনের বেশি কিন্তু ৩০ জনের কম থাকলে তবে সেই এলাকাকে ইয়েলো জোন বলা হবে। এক বা দু’জন বা কেউ না থাকলে সেটাকে গ্রিন জোন বলা হবে।

তবে জোন ঘোষণার ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মত পার্থক্য রয়েছে। রেড জোন ঘোষণার ক্ষেত্রে এক লাখে আক্রান্তের সংখ্যা ২০, ৩০ ও ৪০- তিন ধরনেরই মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্ভাব্য ২৩ রেড জোন এলাকা

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ঢাকায়  করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন মোট ২০,৭০৭ জন। এর মধ্যে  সংক্রমণের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে ঢাকার ২৩টি এলাকাকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে।এই এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।এখানে সংক্রমণের মাত্রার অনুসারে সম্ভাব্য ২৩ রেড জোনের নাম দেয়া হলো:

১। মিরপুর - সনাক্তকৃত করোনা রোগির সংখ্যা ৯৬৯ জন 

২। মহাখালী - সনাক্তকৃত করোনা রোগির সংখ্যা ৪৫৭ জন 

৩। উত্তরা (শনাক্ত রোগী ৪৩৩), 

৪। মুগদা (শনাক্ত রোগী ৪২৮) 

৫। মোহাম্মদপুর (শনাক্ত রোগী ৩৯৪)।

৬। যাত্রাবাড়ী (৩৮৭ জন), 

৭। কাকরাইল (৩০০ জন), 

৮।ধানমন্ডি (২৯৪ জন), 

৯।মগবাজার (২৫৫ জন), 

১০।তেজগাঁও (২৫১ জন), 

১১।রাজারবাগ (২২১ জন), 

১২।খিলগাঁও (২১৯ জন), 

১৩।লালবাগ (২০৬ জন), 

১৪।রামপুরা (১৯৭ জন), 

১৫।বাড্ডা (১৯৫ জন), 

১৬।মালিবাগ (১৬৪ জন), 

১৭।গুলশান (১৬৩ জন), 

১৮।বাবুবাজার (১৬২ জন), 

১৯।গেন্ডারিয়া (১৪২ জন), 

২০।ওয়ারী (১২৪ জন), 

২১।বাসাবো (১২২ জন), 

২২।বংশাল (১০৯ জন) এবং 

২৩।আগারগাঁও (১০৮ জন)।

ইতোমধ্যে আজ রোববার রাজধানীর ওয়ারী ও রাজাবাজারে লকডাউন শুরু হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যে এলাকায় লকডাউন ঘোষণা করা হবে, সেই এলাকার মেইন সড়ক খোলা থাকবে কি না, তা উল্লেখ করতে হবে। মেইন সড়ক বন্ধ থাকলে কোন গলিপথ খোলা থাকবে, তা চিহ্নিতকরণের ব্যবস্থা করতে হবে। লকডাউন এলাকায় দরিদ্র মানুষের খাবার ঘরে পৌঁছাতে স্বেচ্ছাসেবী টিম রাখতে হবে। এই টিম জরুরি ওষুধসহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছাবে। সরকারি চাকরিজীবী ও জরুরি সেবায় যারা নিয়োজিত থাকবেন, তারা লকডাউন অবস্থায় ডিউটি করবেন কি না, তা স্পষ্ট করতে হবে। কাঁচাবাজার ও ওষুধের কোন কোন দোকান খোলা থাকবে, তা উল্লেখ করতে হবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, জরুরি সেবা, দরিদ্রদের খাদ্যসামগ্রী পৌঁছানোসহ সুষ্ঠু পরিকল্পনা অনুযায়ী লকডাউন বাস্তবায়ন করতে হবে। অন্যথায় লকডাউনের কোনো সফলতা আসবে না। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা বলেছেন, সত্যিকারের লকডাউন এখনই বাস্তবায়ন না করা হলে সামনে বড়ো হোঁচট খেতে হবে।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ