বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বিশ্বে আক্রান্ত ৬৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫০২ ॥ মৃত্যু ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৩৭

* আক্রান্তের তালিকায় ইতালিকে টপকে ষষ্ঠ স্থানে ভারত
* নিউইয়র্কে প্রবাসীদের করোনাভাইরাস টেস্ট কর্মসূচী
স্টাফ রিপোর্টার:
বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬৮ লাখ ৭৯ হাজার ৫০২ জন। গতকাল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে বিশ্বব্যাপী করোনায় মারা গেছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৩৭ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৩ লাখ ৭১ হাজার ২১৯ জন। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এদেশে মৃত্যুর সংখ্যা এক লাখ ১১ হাজার ৩৯৮ জন। মৃত্যুর দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য। এদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৪০ হাজার ২৬১ জন। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল ৩৫ হাজার ৪৭ জন। এরপরে রয়েছে ইতালি। এদেশে মৃতের সংখা ৩৩ হাজার ৭৭৪ জন। এছাড়া মৃত্যুর সংখ্যার দিকদিয়ে শীর্ষ বিশ দেশের তালিকায় অবস্থান করছে বাংলাদেশও। তবে আক্রান্তের তালিকায় ইতালিকে টপকে ষষ্ঠ স্থানে উঠে এসেছে ভারত।
এদিকে দুনিয়াজুড়ে করোনাভাইরাসের নিশ্চিত সংক্রমণ আগের চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়ছে। সপ্তাহখানেক ধরে প্রতিদিন গড়ে এক লাখেরও বেশি মানুষের শরীরে এ ভাইরাস শনাক্ত হচ্ছে। কিন্তু গত এপ্রিলে পুরো মাসজুড়ে একদিনও শনাক্তের সংখ্যা লাখের ঘরে পৌঁছায়নি। বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত করোনার পরিসংখ্যান হালনাগাদ করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২১ মে থেকে মাত্র পাঁচদিনে বিশ্বে দৈনিক করোনা শনাক্তের সংখ্যা এক লাখের নিচে ছিল। আর গত ৩ জুন একদিনে শনাক্তের সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩০ হাজার ৪০০।
বিভিন্ন দেশের করোনা পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়ায় সংগত কারণেই আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে। তবে পৃথিবীর বহু দেশে এখনও করোনার প্রকৃত চিত্র পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত সংখ্যক পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই।
জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির গবেষকদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, করোনা শনাক্তের সংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধির এ হার একেক দেশে একেক রকম। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সের মতো ব্যাপকভাবে আক্রান্ত দেশগুলোতে নতুন করে শনাক্তের সংখ্যা কমছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মতো অঞ্চলগুলোতে সংক্রমণের হার বাড়ছে। লিবিয়া, ইরাক, উগান্ডা, মোজাম্বিক ও হাইতি-তে প্রতি সপ্তাহে শনাক্তের সংখ্যা দ্বিগুণ বাড়ছে। ব্রাজিল, ভারত, চিলি, কলাম্বিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতি দুই সপ্তাহে শনাক্তের সংখ্যা দ্বিগুণ হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডওমিটার-এর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত ৬৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩৪৭ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিন লাখ ৯৮ হাজার ৭০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা  গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছে ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ৪৪ জন।
আক্রান্তের তালিকায় ইতালিকে টপকে ষষ্ঠ স্থানে ভারত: জুন মাস শুরু হয়েছে, যতদিন যাচ্ছে ততোই যেন খারাপ হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি। ব্রাজিল, ভারতের মতো অনেক দেশেই সংক্রমণের পরিমাণ বেড়েই চলেছে প্রতিদিন। এখনও করোনা আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় সবার উপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সে দেশের করোনা সংক্রমিত এখনও পর্যন্ত ১,৯৬৫,৯১২ জন। পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে ১১১,৩৯৪ জনের। আক্রান্তে তালিকায় দু’নম্বরে রয়েছে ব্রাজিল। সে দেশে এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪৬,০০৬ জন। পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে ৩৫,০৪৭ জনের। করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় তিন নম্বরে রাশিয়া। মৃত্যুর সংখ্যা অবশ্য অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনও পর্যন্ত অনেকটাই কম ৫৭২৫ জন। ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে প্রতিদিনই। এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২,৩৬,৬৫৭ জন। সক্রিয় আক্রান্ত ১,১৫,৯৪২ জন। সুস্থ হয়েছেন ১,১৪,০৭২ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬৬৪২ জনের। আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে ইতালিকেও এখন টপকে গেছে ভারত। এমনটা চললে ব্রিটেনকে টপকে তালিকায় প্রথম পাঁচে ভারতের ঢুকে পড়াটা এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।
সব মিলিয়ে স্পেনে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৮,০৫৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৭,১৩৪ জনের। আক্রান্তে তালিকায় পাঁচ নম্বরে রয়েছে ব্রিটেন। এখনও পর্যন্ত সে দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৮৩,৩১১ জন। পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে ৪০,২৬১ জনের।
একসময় কোভিড পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করা ইতালিতে এখন করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৩৪,৫৩১ জন। পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে ৩৩,৭৭৪ জনের। তালিকায় আট নম্বরে থাকা পেরুতে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৮৭,৪০০ জন। পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে ৫১৬২ জনের। জার্মানিতে মোট আক্রান্ত এখনও পর্যন্ত ১৮৫,৪১৪ জন। মৃত্যু হয়েছে ৮,৭৬৩ জনের। তুরস্কতে মোট আক্রান্ত এখনও পর্যন্ত ১৬৮,৩৪০ জন। পাশাপাশি মৃত্যু হয়েছে ৪৬৪৮ জনের।
নিউইয়র্কে প্রবাসীদের করোনাভাইরাস টেস্ট কর্মসূচী: যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশিদের মধ্যে করোনাভাইরাস টেস্ট কর্মসূচি পরিচালনা করেছে ‘মার্কস হোম কেয়ার’। গত শুক্রবার নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডে ‘হেল্পিং হ্যান্ড ফর চিটাগানিয়ান’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তায় দিনব্যাপী এ ভ্রাম্যমান ক্যাম্পে প্রায় দুই শতাধিক প্রবাসী অংশ নেন।
এ সেন্টার পরিচালনায় ছিলেন কাজী আজম ও ফিরোজ আহমেদ। কর্মসূচি পরিদর্শন করেন কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী। কাজী আজম বলেন, অনেকে নানা কারণে হাসপাতালে যেতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। অথচ সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত কিনা তা নিশ্চিত হতে আগ্রহী সবাই। সেই পথ সুগম হলো এমন আয়োজনে।
‘মার্কস হোম কেয়ার’ এর কর্মকর্তা জিম বলেন, সামনের শুক্রবার একই ধরনের টেস্টিং সেন্টার অনুষ্ঠিত হবে জ্যাকসন হাইটসে ডাইভার্সিটি প্লাজায়। ‘বাংলাদেশি পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন’ (বাপা) ও ফোবানার সহযোগিতায় পরবর্তীতে ব্রঙ্কস ও জ্যামাইকাসহ কমিউনিটির বিভিন্ন স্থানে এমন ক্যাম্প হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ