বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

নারী ফুটবলারদের খোঁজ নিতে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন কোচ ছোটন

স্পোর্টস রিপোর্র্টার: সুপার সাইক্লোন আম্ফান যখন বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত শুরু করে, তার অনেক আগে থেকেই ব্যস্ত হয়ে উঠে নারী ফুটবলের প্রধান কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের মুঠোফোনটি। একবার সাবিনাকে কল করেন তো, পরেরবার মাসুরা পারভীনকে। কারো মোবাইলেই যখন রিচ করা সম্ভব না হয়, তখন আখিবা খাতুন প্রান্তি, রূপা আক্তার, রাজিয়া, আকলিমা আক্তার কিংবা উন্নতি খাতুনের নম্বরগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করতে থাকেন ছোটন।

কখনো কাউকে পেয়েছেন, কখনো পাননি। কারণ, সাইক্লোনের প্রভাবে মোবাইলের নেটওয়ার্ক কাজ করছিল না। একজনের পর আরেকজনকে চেষ্টা করে সবার সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন ছোটন। এভাবে তিনি পুরো রাতই কাটিয়ে দিয়েছেন। ‘ঝড় শুরুর পর থেকেই আমি মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। বিশেষ করে বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, খুলনা, ঝিনাইদহের মেয়েদের। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ ছিল না বলে অনেকের মোবাইলে চার্জ ছিল না। গতকাল সকালে আমি সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, রাজশাহীর মেয়েদেরও খবর নিয়েছি। আল্লাহর রহমতে আমাদের সব মেয়ে ভালো আছে। টুকটাক ক্ষতি কারো বাড়িতে হয়েছে। তবে শারীরিকভাবে সবাই ভালো আছে’-বলছিলেন বাংলাদেশ নারী ফুটবলের প্রধান কোচ।

বাফুফে ক্যাম্পের আকলিমা আক্তার নামের এক ফুটবলারের বাড়িতে বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোলাম রব্বানী ছোটন। তিনি বলেন, ‘রাত ১২টায় আমি যখন ওর সাথে কথা বলছিলাম, তখন সে তার ঘরের চাল উড়ে গেছে জানায়। আমি তখনই নির্দেশ দেই পার্শ্ববর্তী আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে। ওরা সেখানে যায়। সকালে কথা হয়েছে। বাসায় ফিরেছে আকলিমারা। আমি ঝিনাইদহের উন্নতির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। ওর মোবাইল বন্ধই ছিল সবসময়। হয়তো চার্জ নেই।’

‘এছাড়া রুপা আক্তার, রাজিয়া, আখিবা খাতুন প্রান্তি, মাসুরা পারভীন, সাবিনা খাতুন সবাই ভালো আছে। আমি এক এক করে সবার খোঁজ নিয়েছি। ঝড়ের সময় যার সাথেই কথা হয়েছে তাকেই বলেছিলাম চিড়া,মুড়ি, গুড়সহ শুকনো খাবার কাছে রাখতে। আল্লাহর রহমতে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি। সবার সঙ্গে যোগাযোগ শেষ করে আমি ফজরের নামাজ পড়ে একটু ঘুমিয়েছি’-বলছিলেন গোলাম রব্বানী ছোটন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ