সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

ডেসকোর প্রিপেইড মিটারে ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

স্টাফ রিপোর্টার : করোনার কারণে মানুষ ঘরবন্দী। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে আসতে বিধিনিষেধ রয়েছে। সারাদেশে সব কিছু বন্ধ থাকায় জনগণের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেজন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশনা রয়েছে সরকারের। কিন্তু সরকারের সেই নির্দেশনা মানছে না ডেসকো। করোনার মধ্যেও বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধের চাপ দেয়া হচ্ছে। অধিকাংশ গ্রাহক অন্তত দুই মাস ধরে যেখানে বিলই পাননি, সেখানে তারা কিভাবে বিল পরিশোধা করবে? এরপরও বিকাশ বা অ্যাপস ব্যবহারে অনেকেই অভ্যস্ত নয়। দীর্ঘ লাইন ধরে বিল পরিশোধ করতে গিয়ে রয়েছে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। যদিও জুন পর্যন্ত বিদ্যুৎ-গ্যাস বিলের বিলম্ব জরিমানা মওকুফ করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগ। 
অনুসন্ধানে জানা গেছে, করোনা পরিস্থিতিতে রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁও, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডী, গুলশান, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ডেসকোর বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।
গত শনিাবর সকালে নানা অভিযোগ নিয়ে রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকার গ্রাহকরা বারিধারা ডেসকো অফিসে হাজির হন। গ্রাহক সোহেল রানা বলেন, কার্ড রিচার্জ করার পরও মিটারে কার্যকর হচ্ছে না। ব্যাংক বন্ধ থাকায় এজেন্টদের কাছেও রিচার্জ সুবিধা পাচ্ছেন না তারা। বেশিরভাগ গ্রহকের অভিযোগ, রিচার্জ সার্ভিস দেয়ার নামে অতিরিক্ত টাকাও আদায় করা হচ্ছে তাদের কাছ থেকে। ভাটারা এলাকায় সোহাগ টেলিকম নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ডেসকোর প্রিপেইড মিটারের টাকা রির্চাজের ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
ডেসকোর বারিধারা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা গ্রাগককে বলেদিয়েছি এখন টাকা রির্চাজের দরকার নাই। আপনারা পরে মিটারে টাকা রির্চাজ করেন। তারপরও গ্রাহকরা মানছেন না। আমাদের তিন ধরনের মিটার রয়েছে। সমস্যা হতে পারে। আমাদের ফোন দিলেই সেই সমস্যার সমাধান করা হয়। তারপরও জরুরি সেবায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। গ্রাহকরা তা করছে না।
এর আগে, গত ২২ মার্চ একই কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বিদ্যুৎ বিলের সারচার্জ বা বিলম্ব মাশুল না আদায়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যানে কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ কতে বলেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন বিদুৎ বিতরণকারী সংস্থা/ কোম্পানি গুলো গ্রাহক পর্যায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে থাকে। গ্রাহকগণ বিভিন্ন ব্যাংক এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে থাকেন।
বর্তমানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে অনেক গ্রাহকই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসা-বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসে অনেক গ্রাহকই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন না মর্মে প্রতীয়মান হচ্ছে। সেই আদেশ মানছে না ডেসকোর কর্মকর্তরা। তারা মিটার লক করে রাখার কারণে গ্রাহকরা প্রিপেইড মিটারে টাকা রির্চাজ করার পরও মিটার চালু হচ্ছে না। এ নিয়ে ডেসকোর বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার নিয়ে চমর ভোগান্তি পড়েছে গ্রাহকরা। গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি- বেসরকারি অফিস-আদালতসহ যানচলাচলও বন্ধ করা হয়েছে।
বকেয়া বিলে আর্থিক ঘাটতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিতরণ কোম্পানিগুলো : এদিকে করোনার প্রকোপে আর্থিক বিপর্যয়ে পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিতরণ কোম্পানি। কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে তা সুনির্দিষ্ট করে কোম্পানিগুলোকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি বিভাগ। সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে দেশের বিতরণ কোম্পানিগুলো তাদের আর্থিক সংকটে পড়ার কথা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে কী করে সমাধান দেওয়া যাবে সে বিষয়ে একটি দিকনির্দেশনাও চেয়েছে তারা।
বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এরইমধ্যে বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন ক্ষতির বিষয়টি সুনির্দিষ্ট করে চিঠি দিতে। সবক’টি বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে চিঠি পেলে মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দিকনির্দেশনার জন্য পাঠানো হবে। পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন একটি গণমাধ্যমকে জানান, আমরা সব কোম্পানি এবং সংস্থাকে সুনির্দিষ্টভাবে তাদের ক্ষতির পরিমাণ জানাতে বলেছি। সব সংস্থা ও কোম্পানির হিসাব একসঙ্গে করে আমরা ক্ষতির পুরো হিসাব বের করবো। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর পাশাপাশি নিজেরা কীভাবে এই ঘাটতি মোকাবিলা করতে পারি তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পিডিবি জানায়, প্রতি মাসে প্রায় দুই হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৯৫০ কোটি টাকার পাইকারি বিদ্যুৎ বিক্রি করে পিডিবি। পিডিবির কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনে খুচরা বিক্রি করে বিতরণ কোম্পানিগুলো। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিল আদায় ঠিকঠাক হয়েছে। তবে মার্চের ছুটির পর থেকে বিল আদায় না হওয়ায় বিতরণ কোম্পানিগুলো পিডিবির বিল পরিশোধ সম্ভব না বলে জানিয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে পেট্রোবাংলা জানায়, গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো গড়ে প্রতিমাসে দুই হাজার ৫০ কোটি থেকে দুই হাজার ৭০ কোটি টাকার গ্যাস বাবদ রাজস্ব আদায় করে থাকে। এক্ষেত্রেও গ্যাস বিতরণ কোম্পানিগুলো পেট্রোবাংলার কাছ থেকে গ্যাস কিনে পরে গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ