ঢাকা, সোমবার 13 July 2020, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭, ২১ জিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

খুলনার পার্কগুলো  বদলে যাচ্ছে

 

খুলনা অফিস : প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি ছুটিতে কার্যত অচল সারা দেশ। যানবাহন চলছে না। কল-কারখানাও বন্ধ। নিজ ঘরে সময় কাটাচ্ছে মানুষ। করোনার প্রভাবে খুলনার সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। নেই চিরায়ত শব্দ দূষণের যন্ত্রণা। দূষণে ধুঁকতে থাকা শহরের ফুসফুস এখন ক্রমেই সতেজ হয়ে উঠছে। নেই কোনো যানজট। বাতাসে বিষাক্ত ধুলিকণার উপস্থিতি কমে গেছে অনেক। এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে প্রকৃতি।

প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে খুলনার পার্কগুলো নিজের রূপের জানান দিচ্ছে। সে সৌন্দর্য অবলোকনের কোনো মানুষ না থাকলেও পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত থাকছে পার্কগুলো। সব কিছু এখন যেন প্রকৃতির নিয়ন্ত্রণে।

পার্কের গাছে গাছে ফুটেছে রকমারি ফুল। লকডাউনে বন্দি খুলনার মানুষ। চারদিকে নেই ধুলোবালি কিংবা ধোঁয়ার রাজত্ব। মহানগরীর জাতিসংঘ শিশু পার্কের গাছে গাছে ফুটেছে রকমারি ফুল। বাতাসে ভাসছে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। থোকায় থোকায় আম ধরেছে গাছে। এখনো নুইয়ে না পড়লেও গাছের চিকন ডালে বেশ লাগছে দেখতে। মাঝে মাঝে বয়ে আসা বাতাসে দোলা দিয়ে উঠছে সেই আম। পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে পার্ক। পাখিদের ওড়াউড়ি আর কোকিলের মধুর ডাকে পার্কের আশাপাশের লোকজন মুগ্ধ।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) জাতিসংঘ শিশু পার্ক ও শহীদ হাদিস পার্কে এক সময় ছিল হাজারও মানুষের কোলাহল। এখন সেখানে সুনশান নীরবতা। পার্কে শিশুদের জন্য রাইডসগুলো পড়ে আছে। কেসিসির ৬টি পার্কে শুধু দুই একজন পাহারাদার রয়েছেন দায়িত্বে।

জাতিসংঘ শিশু পার্ক উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা বলেন, পার্ক জনশূন্য থাকায় প্রকৃতি নিজেই তাকে সাজিয়ে নিচ্ছে। সবুজ ঘাসগুলো আরও বেশি সতেজতা ফিরে পেয়েছে। হিমসাগর, ন্যাংড়া, গোপালভোগ গাছে থোকায় থোকায় আম ধরেছে। পার্কে মানুষ না আসায় আমগুলো সুরক্ষা পাচ্ছে। এছাড়া পার্কে পলাশ, মহুড়া, হিজল, তমাল, সোনালু, শ্বেত চন্দন, কাঠগোলাপ, কদম, ইয়োলো বল, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, রক্ত জবা, বাদাম, কাঠবাদাম, অর্জুন গাছগুলোরও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক গাছে ফুটেছে রং বেরংয়ের ফুল।

মহানগরীর শহীদ হাদিস পার্কের উত্তর দিকের পর্যবেক্ষণ টাওয়ারের পাশে সবুজের মাঝে হলুদ সূর্যমুখী ফুল শোভা ছড়াচ্ছে। সূর্যের দিকেই মুখিয়ে থাকা হলুদ ফুলগুলোর মায়াবি রূপ যে কারো মনকে নাড়া দিতে বাধ্য। বাগানে প্রতিদিন বসছে প্রজাপতি আর মৌমাছির মেলা। এছাড়া পার্কের শোভা বর্ধনে রঙ্গন ফুলসহ ১০-১৫ ধরনের ফুল ফুটেছে। দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারের সামনে ফুটেছে নানা রংয়ের ফুল। পার্কের অভ্যন্তরে স্বচ্ছ পানির বিশাল লেকের মাছগুলোও মানুষের কোনো কোলাহল না থাকায় উৎসবে মেতেছে।

খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) নিরাপত্তা সুপার (চলতি দায়িত্ব) লুৎফর রহমান বলেন, কেসিসির অধিন ৬টি পার্ক রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় পার্ক শহীদ হাদিস পার্ক। যেখানে ১০-১৫ প্রকারের ফুল গাছ রয়েছে। করোনার কারণে মানুষ এখন ঘরে রয়েছে। এই সুযোগে পার্কের যেসব জায়গায় ঘাস নেই সেসব জায়গায় ঘাস লাগানো হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ