শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

করোনা কি নতুন বিশ্বব্যবস্থার জন্ম দেবে

করোনা ভাইরাস নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও গবেষণার শেষ নেই। চিকিৎসা বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, দার্শনিকসহ সাধারণ মানুষ- সবার মন-মস্তিষ্ক এখন করোনাময়। করোনা থেকে যেন কারো মুক্তি নেই। অনেকে ভাবছেন, করোনা কি শুধু একটি ভাইরাস, নাকি বহুমাত্রিক অন্যকিছু? করোনার সংক্রমণ রোধে এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকরা, গবেষকরা তৎপর হবেন; এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এখন লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, করোনার প্রভাব নিয়ে রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, সমাজবিদ, এমনকি দার্শনিকরা পর্যন্ত ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তাঁদের আলোচনা-পর্যালোচনা থেকে উপলব্দি করা যায়, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা তথা বর্তমান সভ্যতায় একটা পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। আসলেই কি করোনা নতুন এক বিশ্বব্যবস্থার জন্ম দিতে যাচ্ছে?
করোনা-পূর্ব বিশ্বব্যবস্থায় চীন ও আমেরিকার বৈরী সম্পর্কের কথা আমরা জানি। কিন্তু এখন করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে চীন। গত ২৭ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে টেলিফোন করে এ সহায়তার প্রস্তাব দেন। বৈশ্বিক মহামারি করোনার পরবর্তী কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠার সম্ভাবনার প্রেক্ষাপটে দেশটিকে সহায়তার প্রস্তাব দিল তার বৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী চীন। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে (২৭ মার্চ) করোনা ভাইরাসে সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ঘটনা দেখে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এ পর্যন্ত (২৯ মার্চ) ১লাখ ২২ হাজার ৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ২ হাজার ৪৭। যুক্তরাষ্ট্রে সংক্রমণের ঘটনা এতটাই বাড়ছে যে, নিউইয়র্ক ও নিউ অরালন্সের হাসপাতালগুলো রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বৈশ্বিক মহামারি করোনাসহ নানা বিষয়ে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই বাকযুদ্ধ চলছে। ট্রাম্প তো করোনা ভাইরাসকে ‘চায়না ভাইরাস’ বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন। এ সবের মধ্যেই চীন সহায়তার প্রস্তাব দিল আমেরিকাকে। এদিকে সি চিন পিং-এর সঙ্গে আলাপ প্রসঙ্গে টুইটে ট্রাম্প বলেছেন, করোনা ছড়িয়ে পড়া চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন তিনি। ট্রাম্প আরো বলেন, আমরা একসঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। আমাদের মধ্যে যথেষ্ট শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে।
বিশ্বনেতাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাম্প্রতিক সময়ে এ বিষয়ে বেশ ঘাটতি লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। আমরা তো ক্ষমতাবান রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে গালাগালির ঘটনাও লক্ষ্য করেছি। আর হুমকি-ধামকির বিষয়টি যেন কারো কারো অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। এখন বাতাবরণে ট্রাম্প যখন বলেন, আমরা পরস্পরের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল, তখন আশাবাদ জাগে। তাহলে কি করোনা বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে? মানুষ তো বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায়, বর্তমান সভ্যতায় সন্তুষ্ট নয়। তারা পরিবর্তন চায়। কিন্তু সেই পরিবর্তনটা কেমন হবে? বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় আমরা ট্রাম্পের একলা চলো নীতি দেখেছি, দেখেছি মোদির উগ্র জাতীয়তাবাদ, অর্থনৈতিক উত্থানের পাশাপাশি দেখেছি চীনের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা, রাশিয়াকে দেখেছি বিভিন্ন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে কৌশলী পদক্ষেপ নিতে। বিশ্বনেতাদের এসব পদক্ষেপে সংকীর্ণ স্বার্থ চিন্তায় শক্তির প্রদর্শন ছিল; কিন্তু কোথাও আলো ছিল না, মানবজাতির মুক্তির বার্তা ছিল না। করোনা বড় বড় নেতাদের বুঝিয়ে দিল, তোমরা আসলে শক্তিশালী নও, বেশ দুর্বল। করোনা কোয়ারেন্টাইনে রেখে বিশ্বনেতাদের আত্মসমালোচনার সুযোগ এনে দিয়েছে। স্রষ্টা হয়তো দেখতে চান, দাম্ভিক নেতাদের মধ্যে বোধোদয় ঘটে কি-না। নতুন মানবিক সভ্যতার পথে ওরা চলে কি-না। এর ব্যত্যয় ঘটলে সামনে হয়তো অপেক্ষা করবে বড় বিপর্যয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ