শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিতে পারি

করোনা ভাইরাস আবার নতুন করে প্রমাণ করলো, জীবন মানুষের কাছে কতটা প্রিয়। জীবন বাঁচাতে মানুষ সব কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত। এমনকি মানুষ নিজেকে গৃহবন্দী করতেও কোনো কার্পণ্য করছে না। অথচ মানুষ নিজেকে মুক্ত ও স্বাধীন রাখতে কত লড়াই না করেছে। অদ্ভুত এক পরিস্থিতিতে পড়েছে মানুষ এবং পুরো সভ্যতা। করোনা থেকে বাঁচতে এখন সরকার, ডাক্তার, আলেম এবং বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা যা বলছে মানুষ তা নিষ্ঠার সাথে মেনে নিচ্ছে। নতুন এক অভিজ্ঞতা অর্জন করে পুরো মানবজাতি।
২৮ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার পাঁচ পরামর্শ মুদ্রিত হয়েছে বিভিন্ন পত্রিকায়। শারীরিক ও মানসিকভাবে নিজেকে শক্তিশালী করতে বলেছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাবিনস গেব্রেইয়েসাস। লক্ষ্য করোনার সাথে লড়াই। এজন্য স্বাস্থ্যকর সুষম পুষ্টিকর খাবার খেতে বলা হয়েছে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সঠিকভাবে কাজ করবে। এ ছাড়া পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরিহার করতে হবে মদ ও চিনি জাতীয় খাবার। ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ ধূমপান বিভিন্ন ধরনের কঠিন ও জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। ধূমপান করোনা ভাইরাসের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পূর্ণবয়ষ্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট, আর শিশুর জন্য কমপক্ষে ১ ঘণ্টা ব্যায়াম করা জরুরি। বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করার সুযোগ না থাকলে বাসায়ও ব্যায়াম করা যেতে পারে। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার কথাও বলা হয়েছে। আর বাড়িতে বসে কাজ করলে একই অবস্থানে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা যাবে না। ৩০ মিনিট পর  পর ৩ মিনিটের জন্য উঠে দাঁড়াতে হবে ও বিরতি নিতে হবে। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও যত্ন নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
আশা করা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শগুলোকে মানুষ গুরুত্ব দেবে। কারণ জীবন যে মানুষের কাছে খুবই প্রিয়। কোয়ারেন্টাইনের এই দিনগুলোতে মানুষ নিজকে নিয়ে, জীবনকে নিয়ে ভাবার বেশ সময় পেয়েছে। দার্শনিক এমন ভাবনায় উপলব্ধি করা যায়, জীবন এই পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ নয়। এর পরে রয়েছে অন্তত জীবন। কিন্তু পরকালের সেই অনন্ত জীবন নিয়ে আমরা কতটা ভাবছি? পরকালের জবাবদিহিতার কথা ভাবলে তো এই পৃথিবীতে আমাদের জীবনটা আরো সুন্দর ও পবিত্র হতে পারতো। হয়তো করোনা থেকেও আমরা মুক্ত থাকতে পারতাম। এখনো ভুল জীবনযাপন থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ