বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ভারতের নিষেধাজ্ঞা ॥ বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আমদানি-রফতানি চলবে

খুলনা অফিস : ভারত গমনে নির্দেশনা জারী করেছে ভারত সরকার। শুক্রবার থেকে আগামী ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত ভারত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিবেচনায় এই ৩৪ দিন ভারত গমনে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। এ সময় বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকল প্রকার আমদানি-রফতানি চলমান থাকবে। খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে এর তেমন প্রভাব পড়বে না বরং সংক্রমণ রোধে এটি ভালো উদ্যোগ বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।
ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র জানায়, কোভিড-১৯ এর বিদ্যমান সংক্রমণ বিবেচনায় আগামী ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত বিশেষ কিছু ক্যাটাগরি ছাড়া ইস্যুকৃত সকল ভিসা স্থগিত করা হয়েছে। ১২ মার্চ বা এর পূর্বে ইস্যুকৃত সকল বৈধ ভিসা গতকাল ১৩ মার্চ সকল বহির্গমন বন্দরে অকার্যকর হয়ে পড়ে। কূটনৈতিক, অফিসিয়াল, জাতিসংঘ/আন্তর্জাতিক সংস্থা, কর্মসংস্থান এবং প্রকল্প ভিসা ব্যতীত সকল ভিসা স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার থেকে কোনো নতুন ভিসাও ইস্যু করা হবে না। এই সময়ে কোনো বাংলাদেশি/বিদেশি ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি আগামী ৩৪ দিন কোনো ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশ ভ্রমণ বা এখান থেকে ভারতে গমন করতে পারবে না। বাংলাদেশি যারা ভারতে অবস্থান করছেন তারা দেশে ফিরতে পারবেন তবে কারও যদি কাশি বা জ্বর থাকে তবে তিনি দেশে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাকে ১৪ দিন আলাদা করে রাখা হবে। তবে ভারত থেকে পণ্য আমদানি বিশেষ স্ক্যানিং এর মাধ্যমে চলমান থাকবে। একইভাবে বাংলাদেশ থেকে পণ্য রফতানিও চলবে। এই কাজ সংশ্লিষ্ট শ্রমিক বা গাড়ির চালকদের বিশেষ পরীক্ষা ও বিশেষভাবে ওয়াচ করা হবে।
খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজি আমিনুল হক বলেন, সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস নিয়ে নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এজন্য আমাদেরও সচেতন হবে হবে। এজন্য ভারত সরকার সাময়িক ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। তবে আমদানি রফতানি চলমান থাকায় ব্যবসায়ীদের তেমন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই। বরং এই সিদ্ধান্ত উভয় দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে।
বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি হাফিজুর রহমান টিটু বলেন, আমদানি রফতানি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। এটা স্বাভাবিক থাকলে ব্যবসাতে তেমন প্রভাব পড়বে না। ব্যবসায় অনেকেই ভারতে যায়। তাদের সাময়িক একটু অসুবিধা হতে পারে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত ভালো বলে তিনি মনে করেন।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় হাইকমিশন ভারত ভ্রমণের জন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনা জারী করেছে। এই নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে: আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ওআইসি কার্ডধারীদের ভিসাবিহীন ভ্রমণ সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। কোনো বিদেশি নাগরিক অনিবার্য কারণে ভারতে যেতে চাইলে ারংধযবষঢ়.ফযধশধ@সবধ.মড়া.রহ বা ারংধ.ফযধশধ@সবধ.মড়া.রহ এই ঠিকানায় ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনে যোগযোগ করতে বলা হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি এর পর চীন, ইতালি, ইরান, কোরিয়া, ফ্রান্স, স্পেন এবং জার্মানি থেকে আগত বা এ এসকল দেশে ভ্রমণ করেছেন এমন ভারতীয় নাগরিকসহ ভারতে আগত সমস্ত ভ্রমণকারীদের কমপক্ষে ১৪ দিনের জন্য আলাদা করে রাখা হবে। এটি গতকাল ১৩ মার্চ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে বহির্গমন বন্দরে কার্যকর হবে। ভারতীয় নাগরিকসহ ভারতে আগত ভ্রমণকারীদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং ভারতে প্রবেশের পরে তাদের কমপক্ষে ১৪ দিনের জন্য আলাদা করে রাখা হতে পারে। স্থল সীমান্তের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত কেবল শক্তিশালী স্ক্রিনিংয়ের সুবিধা সম্বলিত নির্দিষ্ট চেক পোস্টগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকবে। এই নির্দিষ্ট চেকপোস্টগুলো পরে জানানো হবে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকেল থেকে আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন করে ভারত থেকে বাংলাদেশে এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়ার বহির্গমন সিল দেওয়া হবে না। বুধবার রাতে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। নতুন করে ভারত সরকার ভিসা স্থগিত করায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবেন না কোনও পাসপোর্টযাত্রী। তবে কূটনৈতিক, অফিশিয়াল, জাতিসংঘ/আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন প্রকল্পের ভিসা এ বিধি নিষেধের আওতায় পড়বে না বলে তারা জানিয়েছেন। এছাড়া যেসব যাত্রী ভিসা নিয়ে ভারতে অবস্থান বা চিকিৎসা করতে গেছেন তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে আসতে পারবেন।
চিকিৎসার জন্য ভারতগামী যাত্রী নিয়ামত বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন আগে থেকে শুনছিলাম করোনার কারণে ভারতে যাতায়াত বন্ধ হবে। এ কারণে আমি বন্ধ হওয়ার আগেই যাচ্ছি। কিন্তু ভারত অংশে স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে হয়রানির কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে।’
চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজম্ব কর্মকর্তা কামরুজ্জামান জানান, ভারতের অংশে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশনে স্বাস্থ্য পরীক্ষার যন্ত্র অচল থাকায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে যাত্রীরা যাতে দ্রুত যেতে পারেন এর জন্য তিনি ভারতীয় কর্মকর্তাদের অনুরোধ জানিয়েছেন। এ পথ দিয়ে ১৩ মার্চ বিকাল থেকে ভারত ভ্রমণে বিদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলেও বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য আপাতত স্বাভাবিক আছে বলে জানান তিনি।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি (তদন্ত) মহাসিন হোসেন জানান, ‘বৃহস্পতিবার সকালে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে একটি চিঠি পাঠায়। তাতে লেখা আছে শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ১২টা থেকে নতুন করে কোনও পাসপোর্টধারী যাত্রী গ্রহণ করা হবে না। যে সমস্ত বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী ভারতে ঢুকে আছে তারা ইচ্ছা করলে বেরিয়ে যেতে পারবে। আর ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রী যারা বাংলাদেশ আছে তারা ফিরে আসলে তাদের গ্রহণ করা হবে। নতুন করে কোনও পাসপোর্টধারী যাত্রী প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। যা ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।’
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা জানান, ‘নতুন করে কোনও পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে না এমন একটি চিঠির খবর শুনেছি। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধের কোনও চিঠি বেনাপোল কাস্টমসকে দেওয়া হয়নি। যদি এরকম কোনও নির্দেশনা আসে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের কারণে যাত্রী যাতায়াত চলাচল বন্ধ থাকলেও আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধের কোনও আদেশ আমরা পাইনি। নির্দেশনা পেলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ