বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সিটি নির্বাচনে সহিংসতা

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠতে না উঠতেই সংঘাত ও হামলা-পাল্টা হামলা ঘটতে শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার মিরপুরের গাবতলী এলাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের ওপর হামলা চালিয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের পেছনে বড়বাজারের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ চালানোর সময় একদল যুবক হঠাৎ বিএনপির মিছিলে হামলা করে এবং তাবিথ আউয়ালকে আঘাত করতে থাকে। তারা ইট-পাটকেলও ছুঁড়েছে। এতে তাবিথ আউয়ালের মুখে ও মাথায় কয়েকটি স্থানে কেটে যায় এবং রক্ত বেরিয়ে আসে। সঙ্গে থাকা দলীয় নেতা-কর্মীরা তাকে ঘিরে ফেলে হামলা থেকে রক্ষা করেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা দেয়ার ফলে বড় কোনো দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী। একই হামলায় বিএনপির কয়েকজন নেতা এবং একাধিক বেসরকারি টেলিভিশনের রিপোর্টার আহত হয়েছেন।   
তাবিথ আউয়ালের পাশাপাশি বিএনপির পক্ষ থেকেও হামলার জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তার নিজের বা দলের পক্ষ থেকে কোনো হামলা চালানো হয়নি। বরং বিএনপির নেতা-কর্মীরাই নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। অর্থাৎ বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতের শিকার হয়েছেন তাবিথ আউয়াল এবং অন্যরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পর্যবেক্ষকরা অবশ্য আতিকুল ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা প্রসঙ্গক্রমে জানিয়েছেন, ১০ জানুয়ারি থেকে প্রকাশ্যে প্রচারণা শুরু হওয়ার পর প্রাথমিক দিনগুলো থেকেই আওয়ামী লীগের লোকজন তাবিথ আউয়ালসহ বিএনপির কাউন্সিলর প্রার্থীদের মিছিলের ওপর হামলা চালাতে শুরু করেছে। গত ১২ জানুয়ারি মিরপুরেরই শাহ আলী এলাকায় প্রথম হামলার চালানো হয়েছিল। সেই থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের অন্তত ২০টি স্থানে বিএনপির প্রার্থী ও নেতা-কর্মীরা হামলার কবলে পড়েছেন। তাদের অনেকে আহতও হয়েছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ পেশ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ও নেতারা। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আচরণ বিধি লংঘনের ৮৮টি অভিযোগ এনেছে বিএনপি। কিন্তু নির্বাচন কমিশন কোনো অভিযোগের ব্যাপারেই এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানা যায়নি।
আমরা বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা জানাই এবং মনে করি, এ ধরনের হামলা ও সংঘাতের কারণে সুস্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন উঠবে। পরাজিত প্রার্থীরা ফলাফল গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবেন। আমরা তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী পক্ষগুলোর প্রতি সংযম দেখানোর এবং আচরণ বিধি মেনে চলার আহ্বান জানাই। মেয়র এবং কাউন্সিলর প্রার্থীদের উচিত সংঘাত এড়িয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ব্যাপারে সততার পরিচয় দেয়া। গণতন্ত্রের মূলকথাও সেটাই। জাতীয় রাজনীতিতে এখনো যেহেতু অবিশ্বাস ও সংকটের অবসান হয়নি সেহেতু ঢাকার সিটি করপোরেশন নির্বাচন সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে।
একই কারণে সিটি নির্বাচনকে সবদিক থেকে সংশয়মুক্ত করার ব্যাপারে সকল পক্ষের উচিত আন্তরিকতার প্রমাণ দেয়া। আমরা আশা করি, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বাধাহীনভাবে প্রচারণা চালানোর সুযোগ পাবেন, কোথাও আর কোনো হামলার ঘটনা ঘটবে না এবং সব মিলিয়েই দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, নির্বাচন কমিশনকেও এ ব্যপারে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ