শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

যমুনা সারকারখানায় উৎপাদন শুরু

সরিষাবাড়ী ও জামালপুর সংবাদদাতা : এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর এবং দেশের বৃহত্তম দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সারকারখানাটি দীর্ঘ ১ বছর বন্ধ থাকার পর গত ৫ ডিসেম্বর পুনরায় চালু হয়েছে। গত ২৭ নভেম্বর ২০১৮ তে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের কনভার্টার হিটিংয়ের স্টার্ট অব হিটার আগুনে পুড়ে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টের হাইড্রোজেন গ্যাস পাইপ লাইন ফেটে দীর্ঘ ১২ মাস সারউৎপাদন বন্ধ ছিল। এতে প্রায় হাজার কোটি টাকার যন্ত্রাংশ আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দেশের জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণাঞ্চল যমুনা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১৯৯১ সালের ৩১শে ডিসেম্বর থেকে উৎপাদন শুরু করে। দৈনিক ১ হাজার ৭শ টন সার উৎপাদনক্ষম এই সার কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় প্রতিদিন আড়াই কোটি টাকা হিসেবে ১২ মাসে প্রায় হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা। কারখানাটি ১২ মাস ধরে একটানা বন্ধ থাকায় কারখানার লোডিং আনলোডিংসহ অন্যান্য সেকশনের শ্রমিক-কর্মচারী, পরিবহন শ্রমিকসহ ৩০ থেকে ৫০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে অর্থনৈতিক দৈনতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে থাকেন।
কারখানাটি বন্ধ হওয়ার পর অগ্নিকান্ডের কারণ বিশ্লেষণ করার জন্য বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ ও শিল্প মন্ত্রণালয় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ এই তদন্তের ফলাফলের বিষয়ে সাংবাদিকদের কিছু জানাতে রাজি হয়নি। ইতোমধ্যে বিকল্প পন্থায় কারখানাটি চালু করতে ইউরোপ থেকে প্রসেস লাইসেন্সর এক দল বিশেষজ্ঞ এনে অনেক চেষ্টা চালিয়ে পুন:উৎপাদন এর পর্যায়ে এসেও বিফল হয়। এতেও কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে স্বীকার করেছে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ। অবশেষে কারখানাটি চালু করতে জেএফসিএল কর্তৃপক্ষ মিটসুবিসি হেভী ইন্ডাস্ট্রিজ লিঃ জাপান থেকে সরবরাহ করা স্টার্ট আপ ফিডারটি সংযোজন কাজ শেষে গত ৫ ডিসেম্বর এ্যামোনিয়া উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করে। যন্ত্রাংশটির প্রাং সাড়ে ১৩ কোটি টাকায় ক্রয় করেছে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ।
দেশের এই বৃহৎ সারকারখানা থেকে উত্তরবঙ্গসহ ১৯টি জেলার কৃষকদের ইউরিয়া সারের চাহিদা পূরণ করে আসছে। ২০১১-১২ অর্থ বছরে প্রায় ১শ ৫৬ কোটি টাকা লাভের মুখ দেখে।কারখানা স্টার্ট অব হিটার আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য উৎপাদন বন্ধ থাকার সুবাদে বিদেশ থেকে উচ্চ মূল্যে ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৮.৮৫ টন ইউরিয়া সার আমদানি করে সারগুলো অত্র কারখানায় মজুদ করা হয়। বর্তমানে ৩৩ হাজার ৩শ মেট্রিকট্রন সার কারখানায় মজুদ রয়েছে। স্থানীয় ডিলাররা জানিয়েছেন আমদানি করা ইউরিয়া সারগুলোর গুণগত মান ভাল না। এছাড়া খোলা আকাশের নিচে স্তুপ করে রাখায় রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে গুণগত মান আরও কমে যাচ্ছে। এই সার কৃষি উৎপাদনের মাটির উর্বরতা নষ্টের পাশাপাশি ফলন কম হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ও ব্যহত হয়। কারখানাটি দীর্ঘ ৯ মাস বন্ধ থাকা অবস্থায় ৩৫ হাজার কর্মচারীদের জীবনে যখন নেমে আসে অমানিসার অন্ধকার।
এমতাবস্থায় গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ দৈনিক সংগ্রামে ১২ পৃষ্ঠায়, কারখানাটির ছবিসহ খবর প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত খবরের ৩ মাসের মাথায় দেশের বৃহত্তম দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সারকারখানাটিতে গত হলো। কারখানাটি খুব কম সময়ের ব্যবধানে পুনরায় চালু হওয়ায় কারখানার সকল স্তরের পেশাজীবীদের মুখে হাসি ফুঠে উঠেছে।
কারখানা চালু হওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খান জাবেদ আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কারখানাটি চালু করতে ৩৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন ছিল, সেখানে ইউরোপিয়ান বিশেষজ্ঞ দল ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তুলতে সক্ষম হলেও পুরোপুরি সফল হওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, সার কারখানা ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠান জাপানের মিটসুবিসি হ্যাপি ইন্ডাস্ট্রিয়াল কর্পোরেশনের সাথে যোগাযোগ করে স্টার্ট অব হিটারটি তৈরির জন্য বিসিআইসির মাধ্যমে প্রচেষ্টা চালানো হয়।
তিনি আরও জানান তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী সারকারখানার চাহিদা অনুযায়ী ৩৭০ পি এস আই চাপে ৪৬ এমএমসিএফডি গ্যাস নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ দিলে কারখানার সার উৎপাদন ধরে রাখা যাবে। গ্যাস সরবরাহ স্বলপ্তায় হ্রাস-বৃদ্ধি ও গ্যাস প্রেসার ২৫০  এস আই এবং সর্ব নি¤œ ১৫০ এ নেমে আসে। আমরা ১৮০ পি এস আই চাপে গত ৫ ডিসেম্বর বুধবার সকাল সাড়ে ৮ টায় সার উৎপাদনে যেতে সক্ষম হয়েছি। তিনি জানান গ্যাস সরবরাহ সচল রাখার জন্য স্থানীয় এমপি তথ্য প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ডা. মুরাদ হাসান এর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ