ঢাকা, বুধবার 21 October 2020, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের পর এবার ভারত সফর বাতিল করছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে প্রতিবাদ-বিক্ষোভের জেরে সেখানকার উত্তপ্ত পরিস্থিতি এড়াতে সফর বাতিলের চিন্তা করছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।এর আগে একই কারণে সফর বাতিল করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে আব্দুল মোমেন।

জাপানি সংবাদসংস্থা জিজি প্রেস জানিয়েছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে বিক্ষোভ-আন্দোলন চলার মধ্যে সফরে যাওয়ার কথা বিবেচনা করে দেখছেন শিনজো অ্যাবে।

১৫ ডিসেম্বর রবিবার থেকে তিন দিনের ভারত সফরে আসার কথা জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের। গত সপ্তাহেই ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার ঘোষণা করেন, আগামী ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বর ভারত সফর করবেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কর্মসূচিও ঘোষণা করে বিদেশ মন্ত্রক। যদিও তখন বৈঠকের স্থান নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি মন্ত্রকের তরফে।

তবে বিদেশ মন্ত্রণালয় সূত্রের খবর, সেই বৈঠকের প্রস্তুতি চলছিল গুয়াহাটিতে। কিন্তু তার আগেই জিজি প্রেস দাবি করেছে, জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সফর বাতিলের কথা ভাবনাচিন্তা করছেন। যদিও শিনজো আবে ইতিমধ্যেই সফর বাতিল করে দিয়েছেন এমন খবর দেয়নি জিজি প্রেস।

সিএবি এবং এনআরসির প্রতিবাদে বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে অগ্নিগর্ভ অসমের বিস্তীর্ণ এলাকা। অগ্নি সংযোগ, পুলিশের গুলি, কার্ফু, মোবাইল-ইন্টারনেট বন্ধের জেরে উত্তাল গোটা রাজ্য। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবারই ভারত সফর বাতিল করেছেন বাংলাদেশের বিদেশ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মধ্যে এ বার জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের সফর বাতিলের সম্ভাবনার খবরে উদ্বেগ বেড়েছে নয়াদিল্লির। যদিও এই খবর সম্পর্কে রবীশ কুমার বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘আমাদের কাছে এই ধরনের কোনও আপডেট নেই।’’

বৃহস্পতিবারই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে সম্মতি দিলে সেটি আইনে পরিণত হয়। এই আইনটি বাতিল করার দাবিতেই অসমে কারফিউ অমান্য করে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় প্রতিবাদ বিক্ষোভে নেমেছেন, অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে সেখানকার পরিস্থিতি। যদিও বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রভীশ কুমার জানান যে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সফর বাতিল সংক্রান্ত কোনও খবর তাঁদের কাছে নেই।

গত সপ্তাহে, রভীশ কুমার ঘোষণা করেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং শিনজো অ্যাবের মধ্যে একটি বৈঠক হতে চলেছে এদেশে। আগামী ১৫ থেকে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। যদিও সরকার ওই বৈঠকের স্থান ঘোষণা করেনি, তবে জানা গেছে যে গুয়াহাটিতে বৈঠকটি আয়োজনের প্রস্তুতি চলছিলো।

সরকার বৈঠকের স্থান পরিবর্তনের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে কিনা এ বিষয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্রের কাছে জানতে চাওয়া হলে রভীশ কুমার বলেন: “আমি এই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলার মতো অবস্থানে নেই। আমার কাছে এই সংক্রান্তে কোনও খবর নেই।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, জাপানের একটি দল বৈঠকের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে গুয়াহাটি সফরে আসবেন।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ