শুক্রবার ০২ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

যশোরে মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেট তৎপর : আটক ৭ জন ॥ উদ্ধার ৬

যশোর সংবাদদাতা, ৬ অক্টোবর: যশোরে মোটরসাইকেল চুরি আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাওয়ায় টনক নড়েছে পুলিশের। চোরচক্রের সদস্যদের আটক এবং চোরাই মোটরসাইকেল কারবারীদের সিন্ডিকেটের সন্ধানে তারা জোরেশোরে অভিযান নেমেছে। ইতোমধ্যে ডিবি পুলিশ ও কোতয়ালি পুলিশ ৩ দফা আলাদা অভিযান চালিয়ে পেশাদার দু জন মোটরসাইকেল চোরকে আটক করেছে। চোরাই মোটরসাইকেল কারবারী সিন্ডিকেটেরও ৫ সদস্য আটক হয়েছেন। এ সব অভিযানে উদ্ধার হয় ৬টি চোরাই মোটরসাইকেল।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, যশোরাঞ্চলে মোটরসাইকেল চুরি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে কোতয়ালি থানায় মোটরসাইকেল চুরি সংক্রান্ত কয়েকটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ সব মামলার কয়েকটি ডিবি পুলিশ ও অন্যগুলো কোতয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত করছে। তবে পুলিশের এই দুটি সংস্থা মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে জোরালো অভিযানে নেমেছে। সদর উপজেলার বোলপুরের একটি বাজাজ টিভিএস মোটরসাইকেল চুরি মামলা তদন্ত করতে গিয়ে ডিবি পুলিশ ইতোমধ্যে এ ঘটনায় জড়িত ৪ জনকে আটক করেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হোসেন গত ২৮ সেপ্টেম্বর পেশাদার চোর আলাউদ্দিনকে আটক করেন। তিনি সদর উপজেলার আরবপুর কলুপাড়ার শুকুর আলীর ছেলে। আটকের পর তিনি ওই বাজাজ টিভিএস মোটরসাইকেল চুরির কথা স্বীকার করেন। আলাউদ্দিন ডিবি পুলিশকে একথা বলেন যে, নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মাথাভাঙ্গা গ্রামের মতিয়ার রহমান ওরফে মতি মেম্বারের চোরাই মোটরসাইকেল কারবারের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। তিনি সিন্ডিকেট প্রধান মতি মেম্বারের কাছে বাজাজ টিভিএস ছাড়াও আরও একটি চোরাই হোন্ডা মোটরসাইকেল বিক্রি করেছেন। পরে তার স্বীকারোক্তিতে ও ফাঁদ পেতে নড়াইলের কালিয়া এলাকার একটি নদীর ঘাট থেকে ওই চোরাই মোটরসাইকেল কারবারী সিন্ডিকেটের সদস্য কালিয়া উপজেলার মাথাভাঙ্গা শিকদারপাড়ার মৃত করব আলী শিকদারের ছেলে জুয়েল শিকদার ও মাথাভাঙ্গা মোল্লাপাড়ার মো. মনিরুজ্জামানের ছেলে মো. ওবায়দুল্লাহকে আটক করে ডিবি পুলিশ। আটক এই দু জনের স্বীকারোক্তিতে পরে খুলনার তেরখাদা উপজেলার আটলিয়া গ্রাম থেকে আটক করা হয় আরেক চোরাই মোটরসাইকেল কারবারী মুজাহিদ হোসেনকে। তার কাছ থেকে ওই দুটি মোটরসাইকেল ছাড়াও চোরাই আরেকটি এফজেড মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তবে ডিবি পুলিশ চোরাই মোটরসাইকেল কারাবারী সিন্ডিকেটের হোতা মতি মেম্বারকে এখনো পর্যন্ত আটক করতে পারেনি।
গত ১৪ আগস্ট শহরতলীর নতুন খয়েরতলার আয়েশা পল্লী থেকে চুরি যাওয়া একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেলের মামলাটি তদন্ত করছেন কোতয়ালি থানা পুলিশের এসআই পলাশ বিশ্বাস। ওই মোটরসাইকেল চুরির সাথে জড়িত ইয়ামিন নামে এক চোরকে গত ১ অক্টোবর পালবাড়ি থেকে আটক করেন তিনি। পরে তার স্বীকারোক্তিতে পুলিশ জানতে পারে, নড়াইলের পাংশারচর এলাকায় চোরাই মোটরসাইকেল কারবারের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। সেখানে ইয়ামিন মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর পুলিশ পাংশারচরে অভিযান চালিয়ে সিন্ডিকেটের আস্তানা থেকে চুরি যাওয়া বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল ছাড়াই আরেকটি চোরাই টিভিএস মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। তবে সিন্ডিকেটের কাউকে পুলিশ আটক করতে পারেনি। সর্বশেষ গত ২ অক্টোবর রাতে কোতয়ালি থানার পুলিশ ঝিকরগাছা থেকে কুখ্যাত মোটরসাইকেল চোর আলমগীর হোসেন ওরফে সুমনকে আটক করে। তিনি সদর উপজেলার রামনগর ধোপাপাড়ার দলিল উদ্দিনের ছেলে। একটি মোটরসাইকেল চুরি করে পালানোর সময় তিনি আটক হন। এ সময় তার কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া পুলিশ যশোর শহরের পালবাড়ি ও গাজীরঘাট এলাকায় চোরাই মোটরসাইকেল কারবারের দুটি সিন্ডিকেটের সন্ধানও পেয়েছে। পিয়াস এবং জহুরুল নামে দুই ব্যক্তি আলদাভাবে এই সিন্ডিকেট দুটি পরিচালনা করেন। পুলিশ পিয়াসকে আটক করলেও জহরুলের নাগাল এখনো পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ