শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১
Online Edition

মেঝেতে বসে প্রতিবাদ  মধুর ক্যান্টিনে চেয়ার পেলো  না ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা  

 

স্টাফ রিপোর্টার : চেয়ার-টেবিল না পেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনের মেঝেতে বসে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তারা বলেছেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মধুর ক্যান্টিনের বেশিরভাগ জায়গা দখল করে রেখেছেন। তাদের (ছাত্রদলের) বসার জন্য কোনও চেয়ার-টেবিল রাখেননি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর মধুর ক্যান্টিনে এই পরিস্থিতি দেখা গেছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মধুর ক্যান্টিনে এসে দেখতে পান, তাদের বসার জায়গাতে কোনও চেয়ার-টেবিল নেই। তাই প্রতিবাদ হিসেবে তারা ফ্লোরে বসে পড়েন। ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, অন্যান্য দিনের মতো তারা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় মধুর ক্যান্টিনে এসে দেখতে পান, সেখানে খালি কোনও চেয়ার-টেবিল নেই। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সব দখল করে বসে রয়েছেন। এসময় সেখানে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বসে থাকতে দেখেন তারা।

এরপর বেলা ১১টার দিকে মধুতে আসেন ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন। তিনিও এসে একই অবস্থা দেখতে পান। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সবাই মধুর  ক্যান্টিনের মেঝেতে বসে প্রতিবাদ জানান।

 সেখানে একঘণ্টা অবস্থানের পর নেতাকর্মীদের নিয়ে ছাত্রদলের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক মধুর বাইরে গিয়ে অবস্থান নেন। পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের ওপরে  হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন থেকে শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন, ভিসি চত্বর দিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল অভিযোগ করে বলেন, গতকালও (বুধবার ২ অক্টোবর) তারা মধুর ক্যান্টিনে মাত্র একটি টেবিল এবং তিনটি চেয়ারে বসেন। তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের মাথার ওপরের সিলিং ফ্যানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। গরম সহ্য করতে না পেরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাধ্য হয়ে মধুর ক্যান্টিন থেকে চলে যান। এটিকে ছাত্রলীগের ‘ টেকনিক’ বলে অভিহিত করেন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল।  

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, এ ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। মধুর ক্যান্টিনে আমরা অন্যান্য দিনের মতো বসে আছি। তারা দেখলাম মধুতে আসছে। এখন তারা বাইরে বসে আছে। তারা চেয়ার-টেবিল না পেলে আমরা বানিয়ে দেবো নাকি?

ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এ ধরণের অভিযোগ অস্বীকার করেনন। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বসার ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ কোনো ধরনের বাধা দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, তাদের জন্য কোনো চেয়ার আছে নাকি? তাদের লেখা কোনো চেয়ার আছে? তাদের কাছ থেকে কি আমরা কোনো চেয়ার কেড়ে নিয়েছি? আমরা আমাদের নিয়মিত কর্মসূচির মতো প্রতিদিন যেভাবে মধুর ক্যান্টিনে আসি, আজকেও আসছি।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোটের মাধ্যমে ছাত্রদলের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিগত কয়েকদিন ধরে মধুর ক্যান্টিনসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা নিয়মিত আসছেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় ছাত্রদলের ৩০ জন নেতা-কর্মী আহত হন বলে অভিযোগ করেছিল সংগঠনটি।

এছাড়া, বুধবার (২ অক্টোবর) ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মধুর ক্যান্টিনে বসার জন্য একটি টেবিল ও তিনটি চেয়ার পেয়েছিলেন। এছাড়া তাদের বসার জায়গার সিলিং ফ্যানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এসব কাজ করে কৌশলে তাদের হেনস্তা করেছিল বলে গতকাল অভিযোগ করেছিলেন ছাত্রদল নেতারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ