রবিবার ১২ জুলাই ২০২০
Online Edition

সাড়ে ১৬ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন কারাগারে

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে ১৬  কোটি ৬১ লাখ টাকা লোপাটের মামলায় সাবেক সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
 সোমবার সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালতের বিচারক শেখ মফিজুর রহমান তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে তিনি গত ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উচ্চআদালতের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তিনি গতকাল সোমবার নিম্নআদালতে জামিন নিতে গেলে আদালত এই নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালসহ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকার মালামাল ক্রয়ে দুর্নীতির ঘটনা বিভিন্নভাবে ফাঁস হয়ে যায়। বিষয়টি তদন্তে এসে কর্মকর্তারা ক্রয়কৃত মালামালের সন্ধান না পেলেও এ সংক্রান্ত সমুদয় বিল পরিশোধের কাগজপত্র হাতে পান। এর কোনো সন্তোষনজক জবাব দিতে ব্যর্থ হন সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্টরা।
এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ সোচ্চার আন্দোলন গড়ে তোলে। দৈনিক সংগ্রামসহ বিভিন্ন পত্রিকায় এ বিষয়ে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
এদিকে বিষয়টি তদন্ত শেষে দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জালালউদ্দিন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের পক্ষে তৎকালীন সিভিল সার্জন ডা. তৌহিদুর রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ডা. তৌহিদুর রহমান ততদিনে চাকরি থেকে অবসরে চলে যান। এ মামলার অন্য আসামীরা হল- সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সাবেক স্টোর কিপার একেএম ফজলুল হক, হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেন, রাজধানীর ২৫/১ তোপখানা রোডের বেঙ্গল সায়েন্টেফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির কর্ণধার ঠিকাদার মো. জাহের উদ্দিন সরকার, তার ছেলে মো. আহসান হাবিব, জাহের উদ্দিনের বাবা মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার হাজী আবদুস সাত্তার সরকার এবং তার ভগ্নিপতি ইউনিভার্সেল ট্রেড কর্পোরেশনের কর্ণধার মো. আসাদুর রহমান, জাহের উদ্দিন সরকারের নিয়োগকৃত প্রতিনিধি কাজী আবু বকর সিদ্দিক, মহাখালী নিমিউ অ্যান্ড টিসির সহকারী প্রকৌশলী এএইচএম আব্দুল কুদ্দুস। এ মামলার আসামী হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেন এরই মধ্যে আত্মসমর্পণ করে জেলহাজতে রয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ