শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

হাট-বাজার উন্নয়নের ছোঁয়া হতে বঞ্চিত

তাড়াশের ৩১টি হাট-বাজার ইজারা দিয়ে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় হলেও দীর্ঘদিন যাবত উন্নয়নের ছোঁয়া বঞ্চিত। এসব হাট-বাজার রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন উদ্যোগ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও তদারকির অভাবে নানা কারণে হাট-বাজারগুলো মানুষের অন্তহীন দুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠেছে।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে সঙ্গতি রেখে হাট-বাজার সম্প্রসারণের ব্যবস্থা গ্রহন না করায় তাড়াশ বাজার, নওগাঁ হাট, গুল্টা হাট এবং রাণীর হাটে তীব্র স্থান সংকট দেখা দিয়েছে। নিত্য প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন কাজে প্রতিদিন উপজেলা সদরের তাড়াশ বাজারে ভীর জমায় হাজারও ক্রেতা সাধারণ। ছোট্ট বাজারে প্রয়োজনের তুলনায় জায়গা সীমিত হওয়ায় প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। সপ্তাহে দুই দিন নওগাঁ, গুল্টা ও রাণীর হাটে বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলসহ আশাপাশের উপজেলা থেকে বহু ক্রেতা বিক্রেতা এসে ভীড় জমায়। বেচা- কেনা হয় কোটি টাকার উপরে। এই তিনটি হাটে আয়তন এতম কম যে, ভীড়ের জন্য প্রবেশ করাই দায় হয়ে পড়ে।
এ ছাড়া একটি হাট-বাজারেও কোন ছাউনি নেই। বর্ষাকালে ক্রেতা বিক্রেতারা বৃষ্টিতে ভিজে যায়। অধিকাংশ হাট-বাজারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদাপানি জমে হাটাচলা অসম্ভব হয়ে পড়ে। হাট-বাজারগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় পানীয় নলকূপের সংখ্যা খুবই নগন্য। বড় বড় হাট-বাজারের প্রতিটিতে যেখানে কমপক্ষে ৪/৫টি নলকূপের প্রয়োজন সেখানে মাত্র ১/২টি নলকূপ রয়েছে। তাও আবার অধিকাংশ সময় বিকল হয়ে পড়ে থাকে। এসব হাট-বাজারে গণশৌচাগার নেই বললেই চলে।
বেশির ভাগ হাট-বাজারের জায়গা অবৈধ দখলে নিয়েছে প্রভাবশালী। শুধুমাত্র বিনসাড়া হাটেই ৪৪ টি দোকান ঘর করে বছরের পর বছর পরিত্যক্ত ফেলে রেখেছে তারা। অবৈধ জায়গা দখলের এমন চিত্র কম-বেশি উপজেলার সব হাট-বাজারেই। এসব হাট-বাজারে জায়গা না থাকায় ক্রেতা বিক্রেতাদের রাস্তায় ধান/চাল, তরি তরকারিসহ অন্যান্য পণ্য বেচা-কেনা করতে হচ্ছে। উন্নয়নের অভাবে অনেক হাট-বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতা কমে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বছর উপজেলার ৩১ টি হাট-বাজারের মধ্যে ২৫ টির ইজারা দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৩ লাখ ২ হাজার ৮শ ৩৭ টাকা। কোটি টাকা আয়ের উৎস নওগাঁ এবং মহিষলুটি হাট মামলা জটিলতায় স্থগিত আছে। ধোপাগাড়ি বাজার, উলিপুর হাট, হামকুড়িয়া হাট এবং সান্দুরিয়া বিশেষ মৌসুমি বাজারের ইজারাদার না পাওয়ায় সরকারিভাবে খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
উল্লেখিত আয়ের এক তৃতীয়াংশ হাট-বাজার উন্নয়ন করার জন্য সরকারি নিয়ম থাকলেও এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ নেই। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও তদারকির অভাবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাট ভেঙে যাওয়ার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ