রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

তাড়াশের রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) : জেলার তাড়াশ উপজেলার বারুহাস ইউপির বস্তুল থেকে লাউশন পর্যন্ত দুই কিলোমিটার গ্রামীণ কাঁচা সড়ক দীর্ঘ ৬০ বছরেও পাকা করণ হয়নি। এলাকার কৃষি ফসলাদি পরিবহন ও দৈনন্দিন চলাচলের ক্ষেত্রে একমাত্র মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত সড়কটি জুড়ে কর্দমাক্ত আর মাঝে মধ্যে ছোট-বড় বহু গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এই পথে যাতায়াতকারী আশ-পাশের দশ গ্রামের হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বস্তুল বাজারের পাকা সড়কের গুচ্ছ গ্রাম মোড় থেকে প্রত্যন্ত লাউশন গ্রাম পর্যন্ত এলজিইডির এ সড়কটির পুরোটায় কাঁদা জমে আছে। অধিকাংশ স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় বহু গর্ত। কোথাও কোথাও আট-দশ ফিট পর্যন্ত গর্তের গভীরতা হাঁটুর ওপরে। এসব গর্তে সামান্য বৃষ্টিতেই দিনের পর দিন পানি জমে থাকছে। সড়কটি দিয়ে স্বাভাবিক যান চলাচল দূরের কথা, বেশ কিছু দিন ধরে পায়ে হেঁটে চলারও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যাতায়াত এবং কৃষি ফসলাদি পরিবহনে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মহিষের গাড়ি। উপজেলা সদরে প্রবেশ পথ বস্তুল-ধোপাগাড়ি পাকা সড়কের সঙ্গে বস্তুল-লাউশন সড়কটির সংযোগ থাকায় এলাকাভিত্তিক সড়কটির বেশ গুরুত্ব রয়েছে। ফলে গ্রামীণ এ সড়কটির আশ-পাশের লাউশন, বস্তুল, পঁওতা, ক্ষির পঁওতা, তালম, গুল্টা,মাগুড়া বিনোদ, ইউনিয়নের হামকুড়িয়া গ্রামের সাংবাদিক শাহজাহানের বাড়ী থেকে তজির মৃধার বাড়ী পযর্ন্ত রাস্তা, রানীদিঘী, বটগাড়ীসহ দশ গ্রামের প্রায় পঁঞ্চাশ হাজার মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন।
ব্যাপক হতাশা আর ক্ষোভ প্রকাশ করে এ জনপদের মো: আ: মান্নান, আ: জব্বার, মো: এন্তাজ আলী, জিল্লুর রহমান, নুরুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, তহিদুর রহমান, মাহাবুর উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, হাফিজুর রহমানসহ নবীন-প্রবীণ আরো অনেকে জানান, জন্ম থেকে তারা কাঁচা সড়ক দিয়ে যাতায়াত করছেন। যুগের পর যুগ ধরে গ্রামীণ এ কাঁচা সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকলেও পাকা করণের কোন উদ্যোগ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলে ঘরের বাহির হতে পারেনা তারা। কর্দমাক্ত সড়কে বাধ্য হয়ে কেউ টোপলায় পরনের কাপর নিয়ে, কেউবা মহিষের গাড়ি করে রওয়ানা দেন দৈনন্দিন কর্ম ক্ষেত্রে। জরুরিভাবে কারো চিকিৎসার দরকার হলে তা আশা করা একেবারেই অসম্ভব।
সব থেকে মুশকিলে পড়েছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং বয়োবৃদ্ধ লোকজন। বেহাল সড়কে না চলাচল করে যানবাহন, না যায় পায়ে হেঁটে চলা। ছেলে-মেয়ে একদিন স্কুল-কলেজ থেকে ফিরলে কাঁদা লেগে পরের দিন সে পোশাক আর পরিধানের উপায় থাকেনা। ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে যাতায়াতে বিঘ্ন ঘটায় লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছেন সব শিক্ষার্থী।
তারা আরো জানান, কৃষি নির্ভর এ জনপদের মানুষকে ফসলাদি বেঁচা-কেনায় লোকসান গুণতে হচ্ছে। সবসময় বাজার দর থেকে প্রতি মন ধান আশি-একশ টাকা কমে বেঁচতে হয়। ফলে অর্থনৈতিকভাবেও দিন দিন পিছিয়ে পড়ছেন তারা।
তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। শিগগিরই পাকা করণের কাজ শুর হবে। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ-রাণীর হাট আঞ্চলিক সড়কের পুরোটায় কার্পেট উঠে বেহাল দশা। সদর থেকে রাণী হাট পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার পাকা সড়কটি জুরে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় শতাধিক গর্ত। ফলে এলাকার কৃষি ফসলাদি পরিবহন ও ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত তাড়াশ-রাণী হাট সড়ক দিয়ে যান চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এদিকে ওই সড়কেরই বেরখালি নামক স্থানে একটি ব্রিজের ছাদ ভেঙে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়ক ও জনপদ বিভাগের হামকুড়িয়া মান্নান নগর ও তাড়াশ-রাণীর হাট সড়কটির তাড়াশ ওয়াপদা বাঁধের উত্তর দিক থেকে রাণীর হাট বাজার পর্যন্ত অধিকাংশ স্থানে পাকা কার্পেট ভেঙ্গে খানাখন্দে ভরে গেছে। সড়ক জুরে মাঝে মধ্যে ছোট-বড় শতাধিক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে এসব গর্তে দিনের পর দিন হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে থাকছে। ফলে সব রকমের যানবহন চলাচল করছে ধীর গতিতে।
বগুড়া ও সিংড়া হয়ে নাটোর পর্যন্ত সংযোগ থাকার জন্য দীর্ঘ রুটের সড়কটির এলাকাভিত্তিক অনেক গুরুত্ব রয়েছে। দিন রাত ২৪ ঘন্টাই এই পথ দিয়ে বিভিন্ন যান্ত্রিকযানসমূহ চলাচল করে থাকে। গ্রামীণ এ সড়কটির বেহাল দশার কারণে আসানবাড়ি, বিনসাড়া, কাজিপুর, মালশিন, বলভা, পেঙ্গুয়ারী, শিবপুর, বৌদ্দনাথপুর, বস্তুল, রানীদিঘী, গুল্টা, তালম, চৌড়া, মানিকচাপর, গোন্তা, রানীহাটসহ আশ-পাশের কমপক্ষে পঁচিশ-ত্রিশ গ্রামের লাখো মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে।
এদিকে সড়কেরই মাঝামাঝি বেরখালি নামক স্থানের একটি ব্রিজের ছাদের বেশ খানিকটা ভেঙে এক মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিরুপায় হয়ে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবহন ও জনসাধারণ ভাঙা ব্রিজের ওপর দিয়ে চলাচল করছে। ফলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সড়কটি করার জন্য পিএমপিতে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বড় গর্তগুলো ইট দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। শিগগিরই ব্রিজটির ছাদের ভাঙা অংশ মেরামত করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ