শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

বিভিন্ন স্থানে নষ্ট হয়েছে কোটি কোটি টাকার কুরবানি পশুর চামড়া

* প্রতিবছরই চামড়া কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা
* গরমে ১০ হাজার চামড়া নষ্ট হয়েছে -------- শিল্পমন্ত্রী
* মানুষ চামড়ার দাম না পেয়ে পুঁতে ফেলছে ------- বাণিজ্য সচিব
* সংকট সমাধানের দায়িত্ব পেলো এফবিসিসিআই
* চামড়ার দরপতনের রিটে হাইকোর্টের সাড়া মেলেনি
মুহাম্মাদ আখতারুজ্জামান : বিশ্বের কোনো দেশে বাংলাদেশের মতো এতো কম দামে চামড়া বিক্রি হয়নি। এ বছর দেশে বিগত ৩১ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে দেশের কোথাও চামড়া বিক্রি করতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। আবার এতো কমদামও এবার কার্যকর করেননি এ শিল্পের উদ্যোক্তারা। ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি টাকার চামড়া নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। দাম না পেয়ে চামড়া রাস্তা ও নদীতে ফেলে দিয়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এমনকি ডাস্টবিন ও ময়লার ভাগারে চামড়া ফেলে দেওয়াসহ ও মাটিতে পুঁতে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে। চামড়ার দাম বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এ বছর ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। ফলে চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।  সংগ্রহের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় রফতানি আয় কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর পোস্তার ব্যবসায়ীরা (আড়তদার) এবারের কুরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে ৩৫ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। কিন্তু চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। ব্যাপক দরপতনের পরও পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকায় সংগ্রহের লক্ষমাত্রা পূরণ করতে পারেননি আড়তদাররা। নষ্ট চামড়াগুলো যথাসময়ে লবণ দিয়ে রাখলে আড়তদাররা তা নিতে পারতেন, যা পরে কাঁচামাল হিসেবে ট্যানারিগুলোতে আসতো। সেখানে প্রক্রিয়াজাতের পর রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। ফলে রফতানি আয়েও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 
পোস্তার ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে কাঁচা চামড়া কেনা শেষ। এখন ট্যানারি মালিকের অপেক্ষায়। তবে এ বছর পোস্তায় অন্যবারের তুলনায় ছিল উল্টো চিত্র। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা খুব কম সংখ্যক চামড়া পোস্তায় নিয়ে এসেছেন। যা নিয়ে এসেছেন তা দাম না পেয়ে কেউ কেউ ফেলে দিয়েছেন। আবার কেউ আড়তদারদের বলেছেন টাকা পড়ে দিন এখন চামড়া রাখুন। অনেকেই গাড়িবোঝাই চামড়া পোস্তায় না এনে রাস্তাতেই ফেলে দিয়েছেন। এ কারণে এবার আড়তদারদের লক্ষ্য অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ করতে পারেননি। এবছর ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়েছে। এসব চামড়ার উপযুক্ত মূল্য পেলে কাঁচামাল হিসেবে আড়তে, পরে ট্যানারিতে চলে আসতো। এরপর প্রক্রিয়াজাত হয়ে বিদেশে রপ্তানি হতো। অর্জিত হতো বৈদেশিক মুদ্রা। কিন্তু তা না হওয়ায় এবার এ খাতে বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমবে।
কুরবানির ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্টের কারণে সংগ্রহের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় রপ্তানি আয় কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, এ বছর মৌসুমি ব্যবসায়ীদের দাম না পাওয়ায় চামড়া রাস্তায় ফেলে, নদীতে ভাসিয়ে ও মাটির নিচে চাপা দিতে দেখা গেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কুরবানির ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হওয়ার কারণ খুঁজতে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দা সংস্থা। পাশাপাশি এখাতে ব্যাংকের দেওয়া ৭শ’ কোটি টাকার ঋণ কিভাবে ব্যবহার হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে ব্যাংকগুলো। এজন্য ঢাকার কাঁচ চামড়ার আড়ত থেকে সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনা হচ্ছে কিনা তা যাচাইয়ে বাজার মনিটরিংসহ মাঠে থাকবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এছাড়া কাঁচা চামড়া রফতানির সরকারি সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন চান পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়ত মালিকরা। অন্যদিকে ট্যানারি শিল্পের উদ্যোক্তারা সরকারি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চামড়া সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি হাজি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা এবার কুরবানি উপলক্ষে ৩৫ লাখ পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু তা পূরণ করতে পারিনি। কারণ বিভিন্ন কারণে ৩০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে। আমাদের কাছে টাকা না থাকায় কিনতে পারিনি। যেহেতু চামড়া সংগ্রহ কম হয়েছে তাই রফতানিও কম হবে, আয়ও কমে যাবে। তিনি বলেন, সরকার রফানির যে ঘোষণা দিয়েছে তা আরো আগে দিলে একপিস চামড়া কোথাও নষ্ট হতো না। দাম না পেয়ে হতাশা থেকে চামড়া ফেলে দেওয়া হয়েছে। অথচ এটি জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
গতকাল রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকার, ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও কাঁচা চামড়া সংশ্লিষ্টদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, এক কোটি চমড়ার মধ্যে গরমের কারণে এ বছর ১০ হাজার পিস চামড়া নষ্ট হয়েছে, যা নগণ্য ব্যাপার।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, একটি দেশ যখন সম্ভাবনার দিকে আগায়, তা ব্যাহত করতে একটা চক্র কাজ করে। কিছু রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এখানে কাজ করেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এক কোটি চামড়ার মধ্যে প্রতি বছর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়। এবার যেহেতু গরম পড়েছে, সেজন্যই ১০ হাজার পিস চামড়া নষ্ট হতে পারে। বৈঠকে দেনা পাওনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগে কিন্তু তারা পাওনার জন্য কখনও কমপ্লেইন করেনি। সেখানে যে আস্থার বিষয়, সেটি নিয়ে কাজ করেছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এ ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তখন তারা না বুঝে পুঁজি হারালে তাদের মাথা নষ্ট হয়।
চামড়া শিল্পে কোনো সমস্যা নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, চামড়ার বিষয়ে নীতিমালা হচ্ছে, আর আজকের বৈঠকে বিষয়টির সমাধান হয়েছে। আগামী ২২ তারিখ তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবে। এটা গতানুগতিক, এখানে তেমন কোনো সমস্যা নেই। আজকেই সব সমাধান হয়েছে। চামড়া তেমন ওয়েস্টেজ নেই। চামড়া কেনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে চামড়া রফতানি করব নাকি করব না সে সিদ্ধান্ত নেব অবস্থা বুঝে।
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, কুরবানিতে এক কোটি চামড়া হয়। এবার তার মধ্যে ১০ হাজার চামড়া নষ্ট হয়েছে, মাটিতে (মাটিতে পুঁতা) যে চামড়া গেছে তাসহ। প্রতি বছর কিন্তু পাঁচ হাজার চামড়া এমনি নষ্ট হয়। এবার মূলত বেশি গরমের জন্যই চামড়া বেশি নষ্ট হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ২২ আগস্ট আমরা বসব। এফবিসিসিআইকে সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তারা দুপক্ষের সঙ্গে বসে সমাধান করবে। যে সমস্যা ট্যানারির মধ্যে রয়েছে, তা সমাধানে মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন।
বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম আরো বলেন, চামড়া রফতানি করতে গেলে আমাদের অনেক বিষয় অনুসরণ করতে হবে। প্রতিবছর আমরা কুরবানির চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে দেই। সবার সঙ্গে আলোচনা করে গত বছরের মতোই এবার দাম নির্ধারণ করেছি। নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি না হলে আমরা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নেবো। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি মানুষ চামড়ার দাম না পেয়ে পুঁতে ফেলছে। যারা পুঁতে ফেলেছে তারা কান্ডজ্ঞানহীনের মতো কাজ করেছে। ২০০ টাকার লবণ লাগালে কয়েক মাস এটি সংরক্ষণ করা যায়। তবে একথা ঠিক যে, আমরা কাঁচা চামড়া রফতানি করলে দেশীয় চামড়া শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বাণিজ্য সচিব বলেন, চামড়ার দরপতন দেখে ট্যানারি মালিকদের অনুরোধ করা হলেও তারা ১৭ আগস্ট থেকে চামড়া ক্রয় শুরু করেনি। ফরিয়া ও আড়তদারদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই চামড়ারর দরপতন হয়েছে বলে মনে করেন বাণিজ্য সচিব।
এদিকে কুরবানির পশুর চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতনের পর এবার বকেয়া ৪০০ কোটি টাকা না পেলে ট্যানারি মালিকদের কাছে আর কাঁচা চামড়া বিক্রি না করার ঘোষণা দিয়েছেন আড়তদাররা। এতে চামড়া সংকট আরও বেড়ে গেছে। এ সংকট এড়াতেই ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। গত শনিবার রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কাঁচা চামড়া আড়তদারদের জরুরি সভা শেষে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ট্যানারি মালিকদের কারণে চামড়ার দাম কমেছে। ট্যানারিগুলো বকেয়া টাকা না দেয়ায় এবার কুরবানিতে টাকার অভাবে চামড়া কিনতে পারিনি।
জানা গেছে, এবার কুরবানির ঈদে কুরবানিদাতারা চামড়া নিয়ে বসে থাকলেও চামড়া কিনতে আসেনি কেউ। ফলে অনেকে দুপুরের আগেই একেবারে বিনামূল্যে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামসহ কয়েকটি সেবামূলক দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে চামড়া দিয়ে দেয়। এ ঘটনা ব্যবসায়ীদের চোখে পড়লেও তারা লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া কেনেন মাত্র ১৫০-৩০০ টাকায়। খাসির চামড়া বিক্রি হয় ২০ থেকে ৩০ টাকায়। ফলে অনেকে ক্ষোভ জানিয়ে চামড়া ড্রেন-ডাস্টবিনে ফেলে দেন। সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ায় কুরবানির চামড়া বাণিজ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে।
এদিকে কম দামে চামড়া কেনার কৌশল শেষ পর্যন্ত দ্বন্দ্বে রূপান্তরিত হয়েছে ‘সিন্ডিকেট’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দুই ব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে। আড়তদারদের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে ইতোমধ্যে ট্যানারিতে চামড়া বিক্রি না করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
প্রসঙ্গত, চার স্তরে চামড়া কেনা-বেচার চেইনের সব ক্ষেত্রে প্রভাববিস্তারকারী হিসেবে কাজ করে ট্যানারি মালিকরা। এরাই চামড়া খাতের বড় ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত। সরকারি সুযোগ সুবিধা ও ব্যাংক ঋণ থেকে শুরু করে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা পান মূলত তারাই। অথচ আড়তদাররা এসব কোনও সুযোগ সুবিধাই পান না। যদিও কুরবানির সময় নগদ টাকা দিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কিনতে হয় আড়তদারদের। জানা গেছে,গত কয়েক বছর ধরে এই দুই গ্রুপ অর্থাৎ আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে বেশ সুবিধা পেয়েছেন। কৌশলের সুযোগ নিয়ে তারা উভয়েই চামড়া প্রতি ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা করে লাভ করতেন। তবে বেশ কিছু ট্যানারির মালিক গত দুই বছর ধরে আড়তদারদের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আড়তদারদের দাবি, তারা ট্যানারি মালিকদের কাছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা পাবেন।
চামড়ার দরপতনে রিট: কুরবানির পশুর চামড়ার নজিরবিহীন দরপতনের কারণ খুঁজতে বিচারিক তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। তবে ওই রিট নিয়ে হাইকোর্টের পৃথক দুটি বেঞ্চে শুনানির জন্য গেলে তাতে সাড়া দেননি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ। কুরবানিতে পশুর চামড়ার দরপতন রোধে নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে বিচারিক তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয় রিটে।
রিটকারী আইনজীবী জানান, সিন্ডিকেট ও একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতন হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। চামড়াজাত পণ্য দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি খাত, যার প্রধান কাঁচামাল হচ্ছে কাঁচা চামড়া। এ অবস্থায় এ শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।
গতকাল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন মো. হানিফ (ফরহাদ) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদন করেন। রিটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টকে বিবাদী করা হয়েছে। রিট আবেদনে চামড়ার অপ্রত্যাশিত দরপতন রোধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতা কেন অবৈধ হবে না, দরপতনের কারণ খুঁজতে একটি জুডিশিয়াল (বিচারিক) তদন্ত করতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, দরপতনের সঙ্গে দায়ীদের ব্যবসায়িক নিবন্ধন কেন বাতিল করা হবে না মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, সারাদেশে এ বছর প্রায় সোয়া কোটি গবাদি পশু কুরবানি হয়েছে। মৎস্য, পশু ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশের মোট চাহিদার ৬০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ হয় কুরবানির ঈদে। এ বছর কমপক্ষে ১ কোটি ১৮ লাখ পশুর চামড়া কেনা-বেচা হওয়ার কথা। এছাড়া ৬ হাজার ৫৬৩টি অন্য পশু। তবে দেশীয় পশুর বাইরেও এবার স্বল্প পরিমাণ গবাদি পশু মিয়ানমার, ভুটান, নেপাল ও ভারত থেকে এসেছে। সবমিলিয়ে রেকর্ড সংখ্যক কুরবানি হয়েছে এ বছর। অর্থাৎ গত কয়েক বছরে চামড়ার উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে দেশে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি খাতে আয় ৯ হাজার ২৯১ কোটি টাকা (১০৯.৩০ কোটি মার্কিন ডলার) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, কাঁচামাল সংকটের কারণে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।
এবার ঢাকায় প্রতিবর্গফুট গরুর চামড়া ৪৫-৫০ এবং ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হবে। এছাড়া সারাদেশে প্রতিবর্গফুট খাসির চামড়া ১৮-২০ এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকায় বেচাকেনার ঘোষণা দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিশ্বের কোনো দেশে এত কমদামে আর চামড়া বিক্রি হয় না। কিন্তু এই কমদামও এবার কার্যকর করেননি এ শিল্পের উদ্যোক্তারা। ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কোটি কোটি টাকার চামড়া নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। দাম না পেয়ে চামড়া রাস্তায় ফেলে দিয়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এমনকি ডাস্টবিন ও ময়লার ভাগারে চামড়া ফেলে দেওয়াসহ ও মাটিতে পুঁতে রাখার মতো ঘটনা ঘটেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ