বুধবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ঈদ যাত্রায় দুর্ঘটনায় ২৫৩ জনের মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার : এবারের ঈদুল আযহায় সড়ক, রেল ও নৌপথে ২৪৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এসব ঘটনায় ২৫৩ জন নিহত এবং ৯০৮ জন আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। ৪১টি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক এবং ১১টি অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। সড়কে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে। গতকালও সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জনের প্রাণ গেলো।
গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনটির সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটন এবং বিআরটিএ'র সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও জানান, ঈদযাত্রা শুরুর দিন (৬ আগস্ট) থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরার দিন (১৭ আগস্ট) পর্যন্ত মোট ১২ দিনের যাতায়াতের শুধু দেশের সড়ক-মহাসড়কে ২০৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২৪ জন নিহত ও ৮৬৬ জন আহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত ঈদের চেয়ে এবার রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো ছিল। নৌপথে বেশকিছু নতুন লঞ্চ যুক্ত হয়েছে, রেলপথেও বেশ কয়েক জোড়া নতুন রেল-বগি সংযুক্ত হয়। কিন্তু অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য, যানজটের ভোগান্তি, রেলপথের সিডিউল বিপর্যয়, টিকিট কালোবাজারি এবং ফেরি পারাপারের ভোগান্তিসহ নানা কারণে যাত্রীরা হয়রানির শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়- বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানো, ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী বহন, পণ্যবাহী যানবাহন বন্ধের নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অদক্ষ চালক ও হেলপার দ্বারা যানবাহন চালানো, বিরামহীনভাবে যানবাহন চালানো, মহাসড়কে অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত রিকশা, নসিমন-করিমন ও মোটরসাইকেল অবাধে চলাচল, সড়ক-মহাসড়কে ফুটপাত না থাকা এবং ঈদ ফেরত যাতায়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকার কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনা রোধে ১২টি সুপারিশমালাও তুলে ধরেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এগুলো হচ্ছে, চালক প্রশিক্ষণ, লাইসেন্স ইস্যু পদ্ধতি আধুনিকায়ন, যানবাহনের ফিটনেস প্রদান পদ্ধতি আধুনিকায়ন, রাস্তায় ফুটপাত ওভারপাস আন্ডারপাস নির্মাণ ও জেব্রা ক্রসিং অঙ্কন করা, জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলকে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা, চালক প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ, ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা, ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে মানসম্মত পর্যাপ্ত গণপরিবহনের ব্যবস্থা, মহাসড়কে ধীরগতি ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা আলাদা লেনের ব্যবস্থা, মোটরসাইকেলের ঈদযাত্রা নিষিদ্ধ করা, ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধের আদেশ শতভাগ কার্যকর, সড়ক নিরাপত্তায় ইতোমধ্যে যেসব সুপারিশ প্রণয়ন করা হয়েছে তার দ্রুত বাস্তবায়ন করা, ঈদের আগের মতো ঈদের পরেও মহাসড়কে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখা, চালক শ্রমিকদের যুগোপযোগী বেতন-বোনাস ও কর্মঘণ্টা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা এবং যানবাহনের যাত্রার আগে ত্রুটি পরীক্ষা করা।
এদিকে রংপুর, রাজবাড়ী, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, রাজধানী ঢাকা ও কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক মানুষ। শনিবার রাত সাড়ে ১২ টা থেকে রোববার বিকেল পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
কুমিল্লার লালমাই উপজেলার বাগমারা জামতলী নামকস্থানে ঢাকা থেকে লাকসামগামী তিশা পরিবহনের বাস ও নাঙ্গলকোট থেকে কুমিল্লাগামী সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২০ যাত্রী। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
গতকাল রোববার দুপুরে সোয়া ১২টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের জামতলী মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
লালমাই থানার ওসি বদরুল আলম সিএনজি অটোরিকশা ও বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে লাকসামগামী তিশা পরিবহনের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অটোচালক ও ছয় যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ২০ যাত্রী। আহতদের মধ্যে তিন জনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিক ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজিতে চালকসহ ৭জন যাত্রী ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
 রংপুরে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জসহ আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। দুমড়েমুচড়ে গেছে হাইওয়ে পুলিশের টহল গাড়ি। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটা থেকে গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ-আরপিএমপির কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রশিদ জানান, রোববার সকাল ৭টার দিকে নগরীর টার্মিনাল মোড়ে একটি অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোচালকসহ ৬ জন গুরতর আহত হন। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে মোকছেদুল ইসলাম (৩৬) নামের অটোচালক নিহত হয়। মোকছেদুল ইসলাম বদরগঞ্জের কুতুবপুরের শহিদুল ইসলামের পুত্র।
অন্যদিকে বড় দরগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৭টায় পীরগঞ্জের ফিডার রোড থেকে মহাসড়কে উঠার সময় একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয় ট্রাক। এতে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী আব্দুল হানিফ (২৮) নামের এক যুবক মারা যায়। তিনি শানেরহাটের আব্দুল কুদ্দুসের পুত্র।
বড় দরগা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন আরও জানান, শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে পীরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে মহাসড়কের ওপর হাইওয়ে পুলিশের টহল গাড়িতে পেছন দিক থেকে একটি দ্রুতগামি হানিফ পরিবহন ধাক্কা দিলে গাড়িটি দুমরেমুচরে যায়। এসময় আমিসহ কনেস্টবল আব্দুর রহিম, হারুন অর রশিদ ও গোলাম মোস্তফা আহত হই।
 জেলার লোহাগাড়ায় প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯ জন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে চুনতি মিডওয়ে রেস্টুরেন্টের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. মান্নানের (৬০) বাড়ি বান্দরবানের লামায়। আহতরা হলেন- চকরিয়ার উত্তর হারবাং এলাকার আবু শমসের ছেলে মো. রাসেল (১৯), লামার আজিজনগর এলাকার আব্দুল খালেকের মেয়ে রোমানা আক্তার (১৮), তার বোন মাছুমা আক্তার (১৭), একই এলাকার আকবর আহমেদের ছেলে মো. মামুন (২২), আবুল হোসেনের ছেলে নুরুল কবির (৩২), নুরুল আলমের ছেলে কাউসার (২১), কবির আহমেদের ছেলে আব্দুল খালেক (২৪), ফরিদুল ইসলামের ছেলে সাহাবউদ্দিন (২১) ও জালাল আহমেদের ছেলে মো. মানিক মিয়া (৬০)।
 দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের ওসি আহসান হাবিব গণমাধ্যমকে জানান, কার ও মাইক্রোবাস দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক রয়েছে। চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, আহত ৯ জনের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রাজধানীর তুরাগে বাসের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় (৬০) এক বৃদ্ধা ও উত্তর বাড্ডায় শহিরুল (৪৫) নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার সকাল ৭টায় ও শনিবার দিবাগত রাত ১১টায় দুর্ঘটনা দু’টি ঘটে।
পথচারী শাকিল জানান, রোববার সকাল ৭টার দিকে উত্তর বাড্ডা ওভারব্রিজের নিচে একটি পরিবহন শহিরুলকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, তার সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে তার নাম-পরিচয় জানা গেছে। তিনি কাঁচামাল ব্যবসায়ী। বাবার নাম মৃত সাইদুল ইসলাম। থাকেন উত্তর বাড্ডায়। গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা কলমাকান্দা চারিকুমারপাড়া গ্রামে।
অপরদিকে পথচারী সোহাগ জানান, শনিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে তুরাগ কামাড়পাড়া ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্বাবিদ্যালয়ের সামনে একতা পরিবহনের একটি বাস অজ্ঞাতপরিচয় ওই বৃদ্ধাকে ধাক্কা দেয়। এতে গুরুতর আহত হন তিনি। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অদক্ষ চালকের হাতে নতুন মোটর সাইকেল তুলে দেয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইব্রাহীম নামের এক কলেজ ছাত্র নিহত হয়েছে।  রোববার সকালে পৌর শহরের জিবি রোডে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের মরদেহ লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত ইব্রাহীম স্থানীয় দালাল বাজার ডিগ্রী কলেজের এইচ এস সি ১ম বর্ষের ছাত্র ও পৌর শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী আবুল খায়েরের ছেলে।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রবাস ফেরত বাবার কাছে কলেজে পড়ুয়া ছেলে ইব্রাহীম মোটরসাইকেলের আবদার করেন। ঠিকমত চালাতে না পারলেও আবদার রক্ষায় শনিবার বিকালে তাকে কিনে দেয়া হয় একটি নতুন মোটরসাইকেল। ভোরে গাড়ীটি নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে যান ইব্রাহীম। পরে বেপরোয়া গতিতে মটরসাইকেল চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ড্রেনের সাথে ধাক্কা লেগে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে।
সদর থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান মিয়া জানান, কলেজ ছাত্র অদক্ষ চালক ছিল। তাছাড়া হেলমেট বিহীন অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ী চালাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে মারা গেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর পর পরিবারের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের অসচেতনতাকে দায়ী করলেন ওসি।
 জেলার হাজীগঞ্জে নাতনির বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরা হলো না মো. আলীর (৭০)। শনিবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন তিনি।
 মো. আলী চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার মধ্যবড়কুল মসজিদ বাড়ির হাসিমের ছেলে।
নিহতের মেয়ের জামাই জসিমউদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, শনিবার সকালে তারাসহ পরিবারের সবাই উপজেলার রাজারগাঁও গ্রামের চৌধুরীবাড়িতে নাতনির দাওয়াত খেতে যান।
বিকালে বাড়ি ফেরার সময় চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কের বাকিলা বাজারের পশ্চিম পাশে তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে যায়।
এতে মো. আলী, তার স্ত্রী মরিয়মসহ ছয়জন গুরুতর আহত হয়। এলাকাবাসী আহতদের উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।এর মধ্যে মো. আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নেয়া হয়।
পরে ভোররাত ৪টায় তার অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকায় নেয়ার পথে রাতেই মারা যান তিনি।
হাজীগঞ্জ থানার ওসি আলমগীর হোসেন রনি গণমাধ্যমকে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়েছি। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
 রোববার সকালে মো. আলীকে মধ্য বড়কুল মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে।
ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার জমিদার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বাস চালক মো. আলী হোসেন গাজী (৩৫) নিহত হয়েছে। রোববার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
এ ঘটনায় আহলাদীপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘাতক মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী বাসটি আটক করেছে। নিহত আলী হোসেন খুলনা জেলার রুপসা থানাধীন তিলক গ্রামের মৃত আজিজ গাজীর ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, দৌলতদিয়া থেকে খুলনাগামী (ঢাকা মেট্টো-জ- ১১-১০৭১) গোয়ালন্দ উপজেলাধীন জমিদার ব্রিজ এলাকায় আসলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এসময় বাসের চালক আলী হোসেন বাসটি মেরামতের জন্য ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের একপাশে দাঁড় করিয়ে বাসের নিচে গিয়ে কাজ করতে থাকে। এসময় পেছন দিক থেকে আসা (ঢাকা মেট্টো-চ- ১৩-৯৬৩৮) মাইক্রোবাসটি দ্রুত গতিতে এসে ধাক্কা দেয়। এতে করে বাসের নিচে থাকা বাস চালক চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
আহলাদীপুর হাইওয়ে থানার ওসি মাসুদ পারভেজ ভুইয়া জানান, মাইক্রোবাসের ধাক্কায় বাসের চালক আলী হোসেন গাজী মারা গেছেন। এ ঘটনায় মাইক্রোবাস ও যাত্রীবাহী বাস আটক করা হলেও মাইক্রোবাসের চালক পলাতক রয়েছে।
জেলার ফুলপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে আরও পাঁচজন।
রোববার সকালে ও বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- রেজিয়া খাতুন (৫০) ও সায়েম (১৪)। নিহত রেজিয়া উপজেলার পাতিলগাঁও গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী এবং সায়েম শেরপুরের নালিতাবাড়ি উপজেলার পলাশিয়া গ্রামের দুদু মিয়ার ছেলে। সায়েম নালিতাবাড়ির স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, গতকাল রোববার বিকেলে ময়মনসিংহ-শেরপুর সড়কের ফুলপুরের ভাইটকান্দি নামক স্থানে সিএনজি ও ভটভটির (টমটম) মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সিএনজির যাত্রী সায়েমের মৃত্যু হয়। আহত হন সায়েমের মা-বাবাসহ চার যাত্রী। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
অপরদিকে সকালে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে ময়মনসিংহগামী একটি মাইক্রোবাসের চাকা ফেটে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা রেজিয়া খাতুন ও রিকসা চালক আনোয়ারকে চাপা দেয়।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে রেজিয়া খাতুনের অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ফুলপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী পৃথক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ