শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

আরাফার দিনে করণীয়

স্টাফ রিপোর্টার: জিলহজ্ব মাসের ৯ তারিখ যা ইয়াওমু আরাফাত বা আরাফাতের দিন হিসাবে পরিচিত। এ বছর আগামী ১০ আগস্ট পবিত্র আরাফার দিন। এ দিনই পবিত্র হজ্ব পালিত হবে। এদিন বেশকিছু আমলের বিষয়ে পবিত্র কুরআন-হাদীসে বর্ণনা এসেছে। তার মধ্যে রয়েছে, এক. এদিনে সাওম পালন করা। হাদীস শরীফে এ প্রসঙ্গে নবী সা: এরশাদ করেন, ‘ইয়াওমু আরাফাত তথা আরাফাতের দিনের সিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তিনি এর জন্য আগের ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন’ (সহীহ মুসলিম)। সাওম পালন করার বিষয়টি যারা হজ্ব করবে না, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা হজ্ব পালন করবেন তাদের সিয়াম পালনের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া এবং এ জন্য সঠিকভাবে ইবাদতে মশগুল হতে না পারার আশঙ্কায় কোনো কোনো আলেম তাদের ক্ষেত্রে সাওম পালন করা মাকরুহ বলেছেন। তবে সিদ্ধান্তমূলক কথা হলো- যারা সাওম পালন করেও এ দিনের ইবাদু-বন্দেগিতে দুর্বলতা অনুভব করবেন না, তারাও সাওম পালন করতে পারবেন। আর যারা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করবেন, তারা সাওম পালন না করে বিভিন্ন ইবাদতে মশগুল হবেন। আরাফাতের দিনে মূল বিষয় হচ্ছে- ইবাদতে মশগুল থাকা ও যত বেশি সম্ভব দোয়া করা।
দুই. এ দিন ফজরের সালাতের পর থেকে ১৩ তারিখ আসরের সালাত পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ সালাতের পর তাকবির পড়া শুরু করবেন। তাকবিরের জন্য বিভিন্ন শব্দাবলি রয়েছে; তবে বহুল ব্যবহৃত শব্দাবলি হলো- অবশ্যই আরবীতে বিশুদ্ধ উচ্চারণ করতে হবে (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলা-হা ইল্লালাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ)। মহান আল্লাহ এরশাদ করেন, (অনুবাদার্থে) ‘তোমরা নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করবে’ (সূরা বাকারা: ২০৩)। কতবার তাকবির পড়তে হবে এর জন্য নির্ধারিত কোনো সংখ্যা বর্ণিত নেই। তাই তাকবির একবার পড়াই যথেষ্ট। অনুচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করবেন, যেন পরে আসা মুসল্লিদের সালাতে ব্যাঘাত না ঘটে। সুর দিয়ে একই সাথে সবাই মিলে তাকবির পড়া অনেকের দৃষ্টিতে বিদয়াত। কারণ এতে যেমন পরে আসা মাসবুক মুসল্লিদের সূরা কিরাত ও তাসবিহ আদায়ে কষ্ট হয়, তেমনি তা কুরআনে বর্ণিত জিকরের আদব পরিপন্থী। কুরআনে আল্লাহ পাক জিকরের আদব প্রসঙ্গে বলেন, (অনুবাদার্থে) ‘তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে স্মরণ করো’ (সূরা আরাফ: ২০৫)। একাকী যারা সালাত আদায় করবেন তারা এবং মহিলারাও তাকবির পাঠ করবেন।
তিন. দেহের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে এ দিন যাবতীয় পাপাচার থেকে হিফাজত করবেন। ইমাম আহমাদ একটি হাদীস বর্ণনা করেন যে, ‘আরাফাতের দিন; যে ব্যক্তি এদিন নিজের কান (শ্রবণশক্তি) চোখ (দৃষ্টিশক্তি) এবং জিহ্বাকে হিফাজত করবেন, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে’ (মুসনাদে আহমাদ)।
চার. একাগ্রতা, ইখলাস, নিষ্ঠা, সততা ও ঈমানের সাথে যত বেশি সম্ভব নবী সা: থেকে প্রাপ্ত দোয়া করবেন। যেমন- একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, আরাফাতের দিন নবী সা: যে দোয়াটি বেশি পাঠ করতেন তা হলো- ‘লা-ইলা-হা ইল্লালাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু বিয়াদিহিল খাইরু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ (মুসনাদে আহমাদ)। তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছে, নবী সা: এরশাদ করেছেন, ‘সর্বত্তোম দোয়া হলো আরাফাতের দিনের দোয়া। আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীরা যে দোয়া করেছি তার মধ্যে সর্বোত্তমটি হলো- লা-ইলা-হা ইল্লালাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয় হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ (সুনানে তিরমিযী)। উচ্চারণিক ভুল থেকে বাঁচার জন্য দোয়াগুলো অবশ্যই আরবীতে বিশুদ্ধ উচ্চারণে শিখতে হবে।
পাঁচ. এক কথায় বলা যায়, এ দিনের একটি মুহূর্তও যেন বেকার না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। হ্যাঁ, হাজী সাহেবদের জন্য প্রয়োজনে জোহরের আগেই একটু বিশ্রাম নেয়া যেতে পারে। এরপর সালাত, তিলাওয়াত, জিকর, তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির, তাহমিদ ও ইস্তিগফার ইত্যাদিসহ দোয়া করতে থাকবেন।
আরাফার দিন বলতে কোন দিনকে বুঝানো হয়? সর্বসম্মতভাবে সেটা ৯ জিলহজ্ব যা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এ তারিখেই সৌদি আরবে আরাফার দিন পালিত হয়। তাই যে যেদিন ৯ জিলহজ্ব হবে, সেদিনেই আরাফার রোজা রাখা হবে। এটাই স্বাভাবিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ