শনিবার ১৬ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

ঈদের আগেই খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে -সেলিমা রহমান

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে চেতনা বাংলাদেশ আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ঈদের আগেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান। তিনি বলেন, ঈদের আগে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া না হলে দেশে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে তার দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে চেতনা বাংলাদেশের উদ্যোগে ঈদের আগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় তিনি এ কথা বলেন। চেতনা বাংলাদেশের সভাপতি শামীম রহমানের সভাপতিত্বে, ইসমাইল হোসেন সিরাজীর সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবদিন ফারুক, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুন-অর-রশিদ, এলডিপি নেতা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, কৃষক দলের সদস্য কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।
সেলিমা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বলছেন গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হন। ফ্যাসিস্ট সরকারকে পতন করে দেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করুন। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে অস্থিরতা, গুম, খুন, ধর্ষণ, ক্ষমতার অপব্যবহার চলছে। ক্ষমতার অপব্যবহার এমন পর্যায়ে গেছে যে, একজন মানুষ মারা গেলেও সরকারের কিছু যায় আসে না।
তিনি আরও বলেন, দেশে ডেঙ্গু মহামারি রূপ নিয়েছে কিন্তু সরকারের কিছুই যায় আসে না। যার কারণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিবার নিয়ে মালয়শিয়ায় ঘুরতে যায়। এ সরকার জবাবদিহিতার সরকার নয়। তাই দেশে মৃত্যুর মিছিল হলেও এ সরকারের কিছু যায় আসে না।
সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, দেশে গজব-গুজব দুটোই এসেছে। দেশের জনগণ ভালো নেই অন্যায় অত্যাচার সহ্য করতে করতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে, যার কারণে উপর থেকে গজব নেমে এসেছে।
সময় আসছে বিএনপির আন্দোলন সফল হবে উল্লেখ করে সেলিমা বলেন, হাজার হাজার তরুণ দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষায় যেদিন ঝাঁপিয়ে পড়বে সেদিন ফ্যাসিস্ট এ সরকার ক্ষমতা ছেড়ে পালানোর পথ পাবে না।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র ধ্বংস দেখেছি, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ দেখেছি। এখন এত মিডিয়া, এত সাংবাদিক, আমার এই কথাটি সরকারের কানে পৌঁছে দেন- বেগম খালেদা জিয়া অবহেলার পাত্রী নন। সারা বিশ্ব দেখছে, বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে আটক করে রাখা হয়েছে। তার অসুস্থতা নিয়ে সবাই কথা বলছে। সরকারপ্রধান আপনি হাজার বছর বাঁচেন। দয়া করে আমার নেত্রীকে বাঁচতে দেন। আমার নেত্রীকে জামিন দেন।
তিনি বলেন, সময় বেশি দূরে না। সময় খুব কাছে। বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়ে আমরা রাস্তায় নামবো। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য রাস্তায় রাস্তায় জনগণের ঢল নামবে। সেদিন আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
ফারুক বলেন, বর্তমানে গ্রাম অঞ্চলে বিএনপির জনসমর্থন ব্যাপক হারে বেড়েছে। আমি গ্রাম অঞ্চলের মানুষ, সব সময় গ্রামে থাকি। বিএনপি তো অনেক সময় ধরে ক্ষমতায় নেই। তাদের ওপর নির্যাতনের শেষ নেই। তারপরও কেউ আওয়ামী লীগের সঙ্গে যোগ দিচ্ছে না। এ থেকে বোঝা যায়, গ্রাম অঞ্চলের মানুষও আওয়ামী লীগ সরকারকে পছন্দ করেন না। তিনি বলেন, এ দেশে সংসদ আছে, সংসদে বিরোধী দল নেই। এ দেশে বিচার হচ্ছে, বিচারক আছে, কিন্তু ন্যায়বিচার নেই।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই। আমার নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জেলে। আমাদের অবজ্ঞা করে কথা বলবেন না। বিএনপিকে অবহেলা করে কথা বলা বাদ দেন। এত অবহেলা কেন করছেন? আপনারা তো একুশ বছর পরে ক্ষমতায় এসেছেন। ২১ বছর আগেও তো আপনাদের হাতে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে,- বলেন তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ