বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সমুদ্র বন্দরে জাহাজ জট

দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে তীব্র জাহাজ ও কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হয়েছে। এই জটের কারণে পণ্য খালাসের নিয়মিত কার্যক্রম তো ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেই, বিদেশমুখী জাহাজে রফতানির জন্য প্রস্তুত পণ্য ওঠানোও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে আমদানি ও রফতানির উভয় ক্ষেত্রেই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা। এমন অবস্থার কুফল ও অশুভ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জাতীয় অর্থনীতির ওপর।
গতকাল একটি দৈনিকে প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিতে পণ্য খালাস কমে যাওয়াই জাহাজ ও কন্টেইনার জটের প্রধান কারণ। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে স্বাভাবিক নিয়মে ও পরিমাণে পণ্য খালাসের কার্যক্রম অনেক কমে যাওয়ায় ও বন্ধ থাকায় একদিকে বন্দরে জটের সৃষ্টি হয়েছে, অন্যদিকে জেটিতে ও বহির্নোঙ্গরে আটকে পড়েছে বহু জাহাজ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বার্থিং অপেক্ষায় থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে ১০ জুন পর্যন্ত আটকে পড়া জাহাজ ও কন্টেইনারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৭টিতে। এসবের বাইরে অপেক্ষমাণ রয়েছে আরো ৬২টি জাহাজÑ যেগুলোতে পাথর, সিমেন্ট ক্লিংকার, খাদ্যশস্য এবং ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন জরুরি পণ্য আমদানি করা হয়েছে। বিষয়টিকে অস্বাভাবিক ও জাতীয় অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন আমদানিকারকরা। কারণ, স্বাভাবিক সময়ে জেটি ও বহির্নোঙ্গরে যেখানে ৫০ থেকে ৭০টি জাহাজ ও কন্টেইনার অবস্থান করে বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছে প্রায় দেড়শটি।
শুধু পণ্য খালাসের ধীরগতি নয়, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের প্রাক্কালে ট্রেন সার্ভিসও এই অস্বাভাবিক জটের অন্যতম প্রধান একটি কারণ। এ সময় হাজার হাজার মানুষ বাড়ি যাওয়ার জন্য ট্রেনের সাহায্য নিয়েছে। ফলে কন্টেইনার বহনকারী ট্রেনের সংখ্যা তো কমে গেছেই, বাস্তবে পণ্য নিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ট্রেনও পাওয়া যায়নি। ফলে কন্টেইনারের স্তূপ জমেছে বন্দরে। পাশাপাশি ছিল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। এসব কারণেও বন্দরে পণ্য খালাস ও ওঠানোর স্বাভাবিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এমন হয়েছিল যে, বন্দরের ইয়ার্ডে ধারণক্ষমতার চাইতে প্রায় চার হাজার বেশি কন্টেইনার জমে গেছে। এসব কন্টেইনারের পণ্য খালাস না হওয়া পর্যন্ত বন্দরে সৃষ্ট জটের সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না। শুধু তা-ই নয়, প্রতিদিন আরো নতুন নতুন জাহাজ ও কন্টেইনার এসে বহির্নোঙ্গরে ভিড় জমাচ্ছে। ফলে জটও মারাত্মক হয়ে উঠছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, চট্টগ্রাম বন্দরে  জাহাজ ও কন্টেইনার জটের খবর অত্যন্ত আশংকাজনক। এর ফলে শুধু আমদানিকৃত পণ্যগুলোই আটকে পড়েনি, একই সঙ্গে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে রফতানির কার্যক্রমও। আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেয়ার যে আহ্বান জানিয়েছে আমরা সে আহ্বানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের উচিত, সুচিন্তিত পরিকল্পনার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ ব্যাপারে আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের তো বটেই, বন্দরে তৎপর শ্রমিক ইউনিয়নগুলোরও সহযোগিতা নেয়া উচিত। আমরা আশা করতে চাই, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে জট সমস্যার সমাধান করা হবে। মনে রাখা দরকার, বিষয়টির সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। সমস্যার সমাধান না হলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির কবলে পড়বে জাতীয় অর্থনীতি এবং সে পরিস্থিতির কুফল ভোগ করতে হবে দেশের জনগণকে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ