মঙ্গলবার ১৯ জানুয়ারি ২০২১
Online Edition

তাকওয়া ও পরিশুদ্ধিতা অর্জনে মাহে রমাদান...

শায়লা আক্তার তাইয়্যেবা : রমাদান শব্দটি রমাদুন শব্দ থেকে এসেছে। এর অর্থ পুড়িয়ে ফেলা, জ্বালিয়ে দেয়া।
মানুষের মধ্যে যত শয়তানী রুপ রয়েছে, পশুত্ববোধ রয়েছে, নফসের তাড়না রয়েছে অর্থাৎ চরিত্র ধ্বংসকারী যত প্রকারের অসৎ গুনাবলী রয়েছে, সব কিছুকে জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে দিয়ে মালকুতি (ফেরেশতীয়) প্রবৃত্তি এবং মানবতাবোধ সৃষ্টিকারী উত্তম ও অনন্য নৈতিক চারিত্রিক গুনাবলী সৃষ্টির ব্যবস্থাপত্রই হল সিয়াম বা রোজা।
হযরত মুসা (আ.)এর তাওরাত -এ রমজান শব্দটি এসেছে “হবাত” নামে। এর অর্থ হল পাপ ধ্বংস।
হযরত দাউদ (আ) যবুরে এসেছে “ক্বোরবত” নামে যার অর্থ নৈকট্য লাভ।
হযরত ঈসা(আ.) এর ইঞ্জিলে এসেছে “ত্বার” নামে যার অর্থ পবিত্র হওয়া।
সুতরাং রমজান অর্থ এটাই বলা যায়,সব পাপ পংকিলতাকে ধ্বংস করে, জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে পবিত্র হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহুর নৈকট্য লাভ করা।
মাহে রমজান দীর্ঘ একমাস ঈমানদারদের আত্বিক পরিশুদ্ধতার যে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসে তার বাস্তবায়ন তিনটা বিষয়ের উপর নির্ভর করে—
আকাংখা বা সঠিক নিয়ত থাকা : রোজা রাখতে হবে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
রাসুল (সা.) বলেছেন-“যে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে রোজা রাখবে আল্লাহ তার  অতীতের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিবেন।” -(বুখারী মুসলিম)
২. সব শর্ত বাস্তবায়ন (প্রশিক্ষণ কার্যকর হবার)-রোজার মাধ্যমে  প্রকৃত  পরিশুদ্ধিতা অর্জন করতে হলে অবশ্যই সকল অঙ্গের রোজা পূর্ণ করতে হবে+ সব ধরনের  অপছন্দনীয় কথা ও কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।
রাসুল (সা.) বলেছেন- “কেবল খাদ্য ও পানীয় হতে বিরত থাকার নামই রোজা নয় বরং রোজা হচ্ছে বেহুদা কথা ও গুনাহের কাজ হতে বিরত থাকা।” -(আল হাদিস)
রাসূল (সা.)  আরো বলেছেন-“তোমাদের কেউ রোজা রাখলে সে যেন গুনাহ, অজ্ঞতা, জাহেলিয়াতের কাজ না করে।যদি কেউ তাকে গালি দেয় কিংবা তার সাথে লড়াই করতে আসে সে যেন বলে “আমি রোজা রেখেছি, আমি রোজাদার।” (বুখারি, মুসলিম)
৩. উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন(যে উদ্দেশ্য এ কর্মসূচি তা সর্বোত্ত ভাবে বাস্তবায়ন করা)-রোজার মাধ্যমে আত্বিক সংশোধন  করতে  হলে তার উদ্দ্যেশ্য (তাকওয়া অর্জন) বাস্তবায়ন করতে হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন-“রোজা তোমাদের জন্য অবশ্য পালনীয়...
সম্ভবত তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারবে।” -(সুরা বাকারা-১৮৬)
“হে ঐসব লোক, যারা ঈমান এনেছ, তোমাদের উপর রোজা ফরজ করে দেয়া হয়েছে,যেমন তোমাদের আগের নবীদের উম্মতের উপর ফরজ করা হয়েছিল।এর ফলে আশা করা  যায় তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণ পয়দা হবে।” (সুরা বাকারা ১৮৩)
রোজার পর বাকি এগার মাস পর যেন আমরা তাকওয়ার অধিকারী হয়ে থাকতে পারি সেজন্যই রোজার আগমন। তা না হলে অন্যান্য  বিষয় পরিপূর্ণ থাকলেও প্রশিক্ষণ কার্যকর রুপ লাভ করবে না।
তাকওয়া - তাকওয়া শব্দের অর্থ হল নিরাপদ থাকা, ভয় করা, বেচে থাকা, সাবধানে থাকা, সতর্ক থাকা, কোন কিছুর অনিষ্ট থেকে আত্মরক্ষা করা।
তাকওয়ার পরিচয় : ওমর বিন খাত্তাব (রা.) কে উবাই ইবনে কাব (রা.) বললেন, “তাকওয়ার উদাহরণ হল কর্ন্টকাকীর্ণ সরু গিরি পথে চলা। যার দুই দিকেই কাটা এবং যে পথে সামনে চলতে হলে সাবধানে না চললে গায়ে কাঁটা লাগার সম্ভাবনা আছে।”
তাকওয়া এমন একটি গুন যার মাধ্যমে মানুষ প্রতি মুহূর্তে নিজেকে সকল  অন্যায়, অসদাচরণ ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারে। আর নিজের মধ্যে যাবতীয় ভালো গুনের সম্মিলন ঘটাতে পারে।
তাকওয়া অর্জনের সুফল- আল্লাহ তায়ালা বলেন-“যে আল্লাহকে ভয় করে তাকওয়া অনুসরণ করে, আল্লাহ তাকে সংকট থেকে উদ্ধার করবেন এবং অভাবিত রিযিক দান করবেন। (সুরা তালাক : ২০)
“যদি কোন জনপদের মানুষ ঈমানদের ও তাকওয়ার অধিকারী হয়ে যায়,তাহলে আল্লাহ আসমান থেকে বরকতের ভান্ডার খুলে দিবেন।জমিন থেকেও বরকতের ভান্ডার খুলে দিবেন।” (সুরা আরাফ : ৯৬)
যার মধ্যে যত বেশি তাকওয়ার এ গুণ অর্জিত হবে সেই তত বেশি মুত্তাকী হতে পারবে।আল্লাহ উন্নত গুন হিসেবে তাই একেই বাছাই করেছেন।
কারণ : ১.তাকওয়া আর দুনিয়াপ্রীতি একসাথে থাকতে পারে না। ২.তাকওয়াই সর্বোত্তম  সম্বল
৩.তাকওয়া অর্জনের সাথে সাথে আল্লাহর অপছন্দনীয় সকল কাজ, স্বভাব ও আচরণ মানুষের চরিত্র থেকে বিদায় নিতে বাধ্য।
৪.আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমত ও রিযিক প্রাপ্তির জন্য প্রধান শর্ত তাকওয়া অর্জন।
৫.মুত্তাকীদের বিপক্ষে কোন অপশক্তি বা অপকৌশল জয়ী হতে পারে না।
৬.তাকওয়ামুখী সমাজকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন নিজ রহমত দানে ধন্য করেন।
শরীয়তের পরিভাষায় - “তাকওয়া অর্থ হল শুধুমাত্র আল্লাহকে ভয় করাই নয় বরং আল্লাহ তায়ালার ভয়ে ভীত হয়ে সকল প্রকার অন্যায়, অবৈধ ও অশ্লীল কাজ থেকে নিজেকে বাচিয়ে রাখা এবং অপরকেও রক্ষা করার মাধ্যমে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করা।”
হযরত উমার ইবনু আব্দুল আজিজ বলেন-“তাকওয়া হচ্ছে আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা বর্জন করা এবং যা ফরজ করেছেন তা আদায় করা।অত:পর আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা হল কল্যাণের বাড়তি আরো কল্যাণ।”
প্রকৃত পক্ষে তাকওয়া  বলতে শুধুমাত্র আল্লাহর ভীতিই বোঝায়না,এটা একটা বৈশিষ্ট্য মাত্র। তাকওয়ার মুল বৈশিষ্ট্য ৬টি-
১.সত্যের সন্ধান(তাফতীশে হক)
২.সত্য গ্রহণ (কবুলে হক)
৩.আপোষহীন ভাবে সত্যের উপর সুদৃঢ় ও সুপ্রতিষ্ঠিত থাকা (ইস্তেকামাতে আলাল হক)
৪.আল্লাহ ভীতি (খাত্তকে ইলাহী)
৫.দায়িত্ব সচেতনা (ইহসনে জিম্মাদারি)
৬.যথাযথভাবে আল্লাহর একত্র কর্তব্য সমূহ সম্পাদন কর (আদায়ে ফারায়েজ)।
★মাহে রমজানে তাকওয়া যেভাবে মানুষের নৈতিক সত্তাকে পরিশুদ্ধ করে :
-আল্লাহর অস্তিত্বের ভয়
-তার কাছে জবাবদিহিতার ভয়
-তার প্রতিফল ভোগের ভয়
এই তিনটা ভয় নিয়ে যখন মানুষ চলবপ তখন সকল অপবিত্রতা থেকে নিজেকে হেফাজত করে পরিশুদ্ধ  হতে পারবে ইনশাল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-“নিশ্চয় আমি তোমাদের শাহ রগের চাইতেও নিকটে অবস্থান করি।”   
পবিত্র রমজান মাসে ঠিক যেভাবে রোজা ভঙ্গের আতংকে মানুষ  সব অন্যায় থেকে সতর্কভাবে পা সরিয়ে নেয় ঠিক তেমনি  বছরের অন্যান্য সময়ে জাহান্নাম ও পরকালীন আযাবের ভয়ে সে সর্তক হয়ে চলে।
তাকওয়া মানষকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা সম্পর্কে  সচেতন করে তোলে-“যারা তাকওয়া অনুসরণ করে,শয়তান তাদের ক্ষতি করার জন্য স্পর্শ করলে তারা সাথে সাথে আল্লাহকে স্মরণ করে,তখন তারা তাদের জন্য সঠিক ও কল্যাণকর পথ সুস্পষ্ট ভাবে দেখতে পায়।” (সুরা আরাফ : ২০১)
★মাহে রমজানের প্রশিক্ষণ মুমিন ব্যক্তির মধ্যে যেভাবে তাকওয়ার গুনাবলী বিকশিত করে
১.শুধু আল্লাহর জন্য সকল ইবাদাত করতে শেখা : “একজন সাচ্চা মুমিন রোজার মাধ্যমে এ শিক্ষা অর্জন করে যে নেক আমলের প্রতিদান প্রকৃতপক্ষে দুনিয়ার নয় আখিরাতে পাওয়া যায়। আর তাই শুধু তারই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই কোন কাজ করতে হয়। লোকের অনুপস্থিতিতেও খারাপ কাজ করা তার জন্য সম্ভব হয় না। খারাপ কিছু ভাবার অবকাশ ও সে পায় না। লোক দেখানোর জন্য সে কাজ করে না। অন্যরা প্রশংসা না করলে ভাল কাজ থেকে বিমুখ হয় না।”
হাদীসে এসেছে-“মহান আল্লাহ যখন পৃথিবী তৈরি করেন তখন তা প্রচ- কাঁপতে থাকে, তখন পাহাড়কে পেরেকের মত গেরে দেওয়া হয় এবং পৃথিবী স্থির হয়ে যায়,ফেরেশতা আল্লাহকে জিঙ্গাসা করলেন-হে আল্লাহ! পাহাড়ের চেয়ে শক্তিশালী কিছু আপনি সৃষ্টি করেছেন কি?
আল্লাহ তায়ালা বললেন-লোহা>আগুন> পানি> বাতাস। আল্লাহ বললেন এসবের চাইতেও শক্তিশালী জিনিষ হচ্ছে এমন মানুষ যার ডান হাত কিছু দান করলে অথচ তার বাম হাত তা টের পায় না। (আল হাদীস)
রমজানে সব কিছু থেকে মানুষ নিজেকে শুধু বিরত রাখে আল্লাহরই জন্য। রমজান এ সুন্দর চেতনার প্রশিক্ষণ দেয়।
২ রোজাদার প্রতি সেকেন্ড সময়ের ব্যাপারে যতœশীল করে : ইমাম গাজ্জালি (র.) বলেছেন-“তুমি তোমার সময়কে সংগঠিত ও নিয়ন্ত্রিত ভাবে ব্যয় করো। প্রতিদিনের কাজ গুলোকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সময়  বরাদ্দ  কর। কিন্তু একটির সময় যেন আর একটিতে নষ্ট না হয়। চারণ ভুমির পশুদের মত উদ্দ্যেশ্য - লক্ষ্যহীন ভাবে পথ চলা আর অপরিকল্পিত ভাবে কিছু করলে বা,সামনে যে কাজ আসে শুধু তার পিছনেই ধাবওত হলে তোমার  গোটা জীবনই অপচয়ের খাতায় যাবে। তোমার  সময় তোমার জীবন, তোমার  জীবন  তোমার  পুঁজি এবং এই পুঁজিই হচ্ছে (আল্লাহ তায়ালার  সাথে) তোমার বিনিময়ের ভিত্তি, আল্লাহর সান্নিধ্যে চিরকাল স্থায়ী শান্তি (বেহেশত) অর্জনের উপায়। তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাস হচ্ছে এক একটি মহামুল্যবান রত্ন যা একবার হারিয়ে গেলে ফিরে পাওয়া যায় না। (এহইয়াউ  উলুমুদ্দিন)
রমজান  আমাদের সময় সম্পর্ক  সচেতনতা বাড়ায়।
যেমন এক সেকেন্ড আগেও না, পরেও না, সেহরী-ইফতার। রোজাদার
বেহুদা কাজে সময় নষ্ট করে না। রোজা আমাদেরকে তাৎপর্যপূর্ণ কাজের প্রশিক্ষণ দেয়।
জৈবিক চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিক্ষা দেয়: রোজা পূর্ণ হওয়ার শর্ত হলো  জৈবিক চাহিদা পুরণ থেকে বিরত থাকা এভাবে নিজের খারাপ, হারাম চাওয়া গুলোকে মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে।
৪.যাবতীয় অসদাচরণ থেকে নিজেকে হেফাযত করে-হাদীসে এসেছে-“যে ব্যক্তি রোজা রেখে মিথ্যা কথা, গীবত ও ঝগড়াঝাটি পরিহার করলো না,তার অভুক্ত থাকায় আল্লাহর কিছুই যায় -আসে না।” (আল হাদিস)
৫.পবিত্র কুরআনের সাথে নিবিড় সম্পর্ক স্থাপন-
রমজান মাস অনেক বেশি মাহাত্ম্য  পূর্ণ কুরআন নাজিলের কারনেই। কুরআন এর সাথে সম্পর্কহীন রোজা আল্লাহর কাছে মর্যাদা পায় না।
রমজানে মানুষ এর সাথে সুগভীর সম্পর্ক তৈরীর সুযোগ পায়।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসূদ বর্ণনা করেন-“এ কুরআন আল্লাহর বিছানো দস্তরখান।সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত তোমাদের মধ্যে শক্তি আছে আল্লাহর এ দস্তরখানের উপর এসো।নি:সন্দেহে এ কুরআন হলো আল্লহর রজ্জু, অন্ধকার দূরকারী আলো,উপকার সাধনকারী ও আরোগ্যময়ী ঔষধ। যারা একে শক্তভাবে ধারণ করবে তা হলো এদের জন্য রক্ষাকারী। এর অনুসারীদের জন্য এ হলো  পরিত্রাণের মাধ্যম।এই কিতাব কারো প্রতি বিরাগভাজন হয়না যে, একে রাজী করার প্রয়োজন হতে পারে। এই কিতাবে কোন বক্রতা নেই যে,একে সোজা করার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।এর বিস্ময় কখনও শেষ হয়না এবং বারবার পাঠ করলেও পুরাতন হয়না।” (তারগীব, মুসতাদরাক)
তবে কোরআনের সাথে সম্পর্ক অর্থ শুধু পড়া/ মুখস্থ নয়, নিজের জীবনে তার বিধান মেনে চলা এবং তার দাওয়াত সবার মাঝে পেশ করা,সমাজকে কুরআনের আলোকে গড়ার চেষ্টা করা।
৬.সকল ক্ষেত্রে সংযমী হওয়া-একজন উন্নত নৈতিকতা সম্পন্ন ব্যক্তির অনিবার্য বৈশিষ্ট্য তাকে সংযমী হতে হয়।রোজাদারপোশাক,খাদ্য ও অন্যান্য ব্যয়ে মধ্যমপন্থী হওয়া,রাত্রের নিদ্রায় সংযমী হয়ে তাহাজ্জুদ ও কুরআন পড়ে সময় কাটানো, আচরণে সংযমী হয়ে রাগ, হিংসা, ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করে সবরকারী, উদার সহনশীল ও ক্ষমাশীল হওয়ার প্রশিক্ষণ পায়।
সিয়াম সাধনা মানুষের নৈতিকতায় যে বিপ্লব পরিবর্তন আনে-
নফসের স্তরকে উন্নত করে,প্রবৃত্তির চাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে।
পবিত্রতার আকাঙ্খাকে জোড়ালো করে। রোজাদারের মনে এমন কোন ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি ভালবাসা বিদ্যমান থাকে না যা আল্লাহ অপছন্দ করেন।
সিয়াম মানুষকে সৎ ও দায়িত্ব সচেতন করে।
প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করিয়য়ে দেয় সে একমাত্র আল্লাহর দাস।
মুসলিমদের ঐক্য ও সংহতিবোধকে জাগ্রত করে।
রমজানের প্রশিক্ষণ মানুষের  ভিতর - বাহির উভয়ই পবিত্র  পরিচ্ছন্ন করে।
রমজানের প্রশিক্ষণ আমাদের নিম্নোক্ত ভাবে পরিশুদ্ধ করতে পারে-
১.নিজ স্বার্থের অনুরাগী না হওয়া- রমজান মানুষকে অন্যের প্রতি যে দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে মনোযোগী করে তোলে।
হযরত সালমান ফারসী(রাঃ)হতে বর্ণিত-“যে ব্যক্তি এ মাসে কোন রোজাদারকে ইফতার করায় তা তার গুনাহ ক্ষমা ও দোযখের আগুন হতে মুক্তির উপায় হবে।” (বুখারী, মুসলিম)
-অন্যকে খাবার খাওয়ানো।
-যাকাত ও ফিতরা প্রদান,দান সদকা করা।
-অন্যের জন্য দোয়া করা।
-পারস্পরিক সৌহার্দপূর্ণ ঈদ পালন।
এ কার্যক্রম সমূহ মানুষকে এই শিক্ষা দেয় যে,শুধুমাত্র নিজের জন্য সে পৃথিবীতে আসেনি।
অন্যের প্রতি তার দায়িত্ব-কর্তব্য রয়েছে।
২.তওবা করা তথা ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া মানসিকতা তৈরী-
রমজান মাসে তওবার প্রতি রাসুল (সা.) অনেক বেশি উৎসাহিত করেছেন।
তিনি বলেছেন-
“তার নাক ধুলি মলিন হোক, যে রমজান পেল কিন্তু গুনাহ মাফ করে নিতে  পারলোনা।” (তিরমিযী, হাকেম)
রমজান ব্যক্তির গুনাহ সমূহ পুড়িয়ে ফেলে এবং সামগ্রিক নৈতিকতা বিস্তার লাভ করে।
এ প্রশিক্ষণও দেয়-বাস্।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ