রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী ড্রাইভার নূরুজ্জামান নূরুর

কিশোরগঞ্জ সংবাদদাতা : নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়াকে গণধর্ষণ ও হত্যার মূল হোতা স্বর্ণলতা বাসের ড্রাইভার নূরুজ্জামান নূরু (৩৯) তার দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুনের নিকট জবানবন্দী দেন।
আদালত-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নূরুজ্জামান ঘটনার দিন বিকেলে তানিয়া বাসে উঠার পর থেকেই তাকে অনুসরণ করে। পথিমধ্যে যাত্রীরা নেমে গেলে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে এসে বাসটি চালানোর জন্য হেলপার লালনকে ড্রাইভারের আসনে বসিয়ে সে হেলপারের কাজে নিয়োজিত হয়। কটিয়াদী থেকে বাসটি ছাড়ার পর একজন যাত্রী পথিমধ্যে নেমে গেলে গজারিয়া এলাকায় ফরিদ মিয়ার কলাবাগানের পাশে নূরুজ্জামান ও তার সহযোগিরা বাসের দরজা জানালা লাগিয়ে দেয়।
পরে দুই জনের সহায়তায় তানিয়াকে বাসের মাঝখানে ফেলে জোর পূর্বক ধর্ষণ করতে উদ্যত হলে তানিয়া কিল, ঘুষি মারে। পরে তাকে নিবৃত্ত করার জন্য তার মাথায় বাসের মেঝের পাটাতনে দুই-তিনটি বারী মারে। ফলে তানিয়া নিস্তেজ হয়ে পড়ে। প্রথমে ড্রাইভার নূরুজ্জামান পরে হেলপার লালন ও নূরুজ্জামানের খালাতো ভাই বোরহান পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে তাকে পথিমধ্যে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। তারা তানিয়ার সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে বলে প্রচার চালায়। বাস থেকে ফেলে দেয়ার পর পথচারীরা তানিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করলে ড্রাইভার ও হেলপার পুণরায় তার নিকট এসে বাস থেকে অসাবধান বশতঃ নামতে গিয়ে পড়ে যায় বলে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে চিকিৎসার জন্য সততা ফার্মেসীতে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে ড্রাইভার, হেলপার ও তার সহযোগী তানিয়াকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তানিয়াকে মৃত ঘোষণা করে।
এদিকে তানিয়ার বড় ভাই শহীদুল ইসলাম সুজন জানান, তানিয়ার নিকট থাকা ব্যাগ, জামাকাপড়, টিভি, উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করলেও গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে পারেনি।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, ময়না তদন্তে তানিয়কে গণধর্ষণ ও মাথার পিছনে শক্ত বস্তুর আঘাতের ফলে পিছনের খুলি দ্বিখন্ডিত হয়ে রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়াও ইতিপূর্বে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার জন্য স্বর্ণলতা পরিবহনের যে বাসটির কথা উল্লেখ করেছে পরবর্তীতে তা তদন্তে সঠিক না হওয়ায় প্রকৃত বাসটি (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৪২৭৪) বাসটি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ার উজুলী ঈদগাহ মাঠ থেকে জব্দ করা হয়। জব্দ করার পর বাসটি সিআইডি’র ক্রাইমসিন বিভাগ আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক বিভাগে পাঠিয়েছে।
অপর দিকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন গতকাল রবিবার মামলার ঘটনাস্থল কটিয়াদী থানা ও বাজিতপুর থানা পরিদর্শন করেন। সেখানে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট মামলার বাদী, সাক্ষী, পুলিশ কর্মকর্তার সাথে মত বিনিময় করেন। পরে কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। এ সময় অতিরিক্ত ডিআইজি মোঃ আসাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল ইসলাম সোপানসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ