বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
Online Edition

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সরকারি বাঁওড় লিজ নিয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতাঃ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সরকারি বাওড় মাছ চাষের নামে লিজ নিয়ে সেখান থেকে ড্রেজার ও ভ্যেপু মেশিন দিয়ে অবৈধ ভাবে প্রতিদিন বালু উত্তোলন করে তা লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার অন্যান্য স্থানে বালু উত্তোলন বন্ধ হলেও আন্দুলবাড়ীয়া হারদা-চাঁনপুর বাওড় থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে।

ড্রেজার মেশিন দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে পার্শ্ববর্তী সরকারি রাস্তা ও এলাকার কৃষি জমি ধসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি বালু উত্তোলন করলেও রহস্যজনক কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব বালু দস্যুদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না। এ ঘটনায় এলাকার সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

সরেজমিনে পরিদর্শনকালে এলাকাবাসী জানান, জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের আনসারবাড়ীয়া ট্রেন স্টেশনের বিপরীতে আন্দুলবাড়ীয়ার হারদা মৌজার অন্তর্গত হারদা-চাঁনপুর নামক সরকারি বাওড়ের একটি অংশ আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কথিত নেতাকর্মী নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শ্রী দেবেন হালদার দেহাটি গ্রামের আতিয়ার রহমানসহ আরো কয়েকজন মৎস্য চাষের জন্য লিজ নেয়। এলাকায় অভিযোগ রয়েছে এ চক্রটির সাথে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ স¤পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তারও জড়িত রয়েছেন। তারা বাওড়টি মাছ চাষের জন্য লিজ নিলেও সেখানে ড্রেজার ও ভ্যেপু মেশিনের মাধ্যমে খনন করে পুকুর সৃষ্টি করেছে এবং সেখানে মাছ চাষের আগেই সেখান থেকে প্রতিদিন ৪০-৫০ টি পাওয়ার টিলারের মাধ্যমে বালু উঠিয়ে তা এলাকার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করছেন।

হারদা-চাঁনপুর থেকে আনসারবাড়ীয়াগামী নির্মাণাধীন সড়কটিতে তারা বালু সরবরাহ করছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য মাছ চাষের আগেই ওই স্থান থেকে লাখ লাখ টাকা বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করা। এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসলেও প্রশাসনের পক্ষ নেই কোন পদক্ষেপ। এলাকাবাসীর অভিযোগ বালু দস্যুরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে। এ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর দাবি সরকারি রাস্তার পার্শ্ববর্তী স্থান থেকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষাকালে রাস্তা ধসে বাওড়ের গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। অন্যদিকে এলাকার ফসলী জমিরও ব্যাপক ক্ষতি সাধন হবে। সরকারি বাওড়টি লিজ নেয়ার নামে সেখানে পুকুর খনন করার ফলে বাওড় এখন ছোট বড় পুকুরে পরিণত হয়েছে। সরকারি স¤পদ কৌশলে অবৈধ দখলে নিয়ে প্রতি বছর সেখানে মাছ ও বালু উত্তোলন হলে দখলদার চক্রটি এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

এলাকার একাধিক ব্যাক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,বাওড়টি তারা নামমাত্র টাকা লিজ নিলেও তারা ইতিমধ্যেই ওই স্থান থেকে ৫-৬ লাখ টাকার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছে। এলাকাবাসীর দাবি বালু উত্তোলনকারীরা ক্ষমতাসীন দলের লোক। তাদের ব্যাপারে ডিসি-ইউএনওরা ব্যবস্থা না নিলে এলাকার কেউ কিছু করতে পারবে না। এ ব্যাপারে শ্রী দেবেন হালদার ও আতিয়ার রহমান অভিন্ন ভাষায় বলেন,আমরা মন্ত্রণালয় থেকে লিজ নিয়েছি এবং ডিসি অফিসে  বাওড়টি লিজের ব্যাপারে ডিড হয়েছে। আমরা বাওড়ের পাড় বাঁধছি। বাওড়ের পাড় বাঁধার ব্যাপারে ডিডে উল্লেখ আছে। লাখ লাখ টাকার বালু উত্তোলনের কথা সঠিক নয়। তবে পার্শ্ববর্তী রাস্তার কাজ হচ্ছে, ঠিকাদার নিজে টাকা খরচ করে সেখান থেকে বালু উত্তোলন করছেন।

আতিয়ার আরো বলেন,ওই বাওড়টি দেবেন হালদারের নামে লিজ নেয়া হলেও বাওড়ের সাথে আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে পরিষদের মোক্তার চেয়ারম্যান,আওয়ামীলীগ নেতা টজো,ফিরোজ ও মির্জা লিটনসহ ৭-৮ জন পার্টনার আছে। বাওড়ের পাড় বাঁধার ব্যাপার মনে হয় ইউএনও স্যার জানেন।

আওয়ামীলীগ নেতা ও আন্দুলবাড়ীয়া বাজার কমিটির সাবেক সাধারণ স¤পাদক মহিদুল ইসলাম মধু শেখ বলেন, শ্রী দেবেন,আতিয়ার এলাকায় প্রচার করছেন তারা ডিসি অফিস থেকে আন্দুলবাড়ীয়া হারদা বাওড় লিজ নিয়েছেন কিন্তু তারা মাছ চাষের জন্য লিজ নিলেও সেখান থেকে তারা প্রতিদিন বালু উত্তোলন করছেন এবং প্রায় অর্ধশত পাওয়ার টিলার  বালু বিক্রি করছেন। আমার জানামতে সরকারি বিল-বাওড় এখন আর লিজ দেয়া হয় না। কিন্তু তারা কি ভাবে নিয়ে আসল তা বুঝতে পারছি না। আর তারা যদি লিজ নিয়েই থাকেন,তাহলে সেখানে ড্রেজার মেশিন ও ভ্যেপু মেশিন ভিড়িয়ে পুকুর খনন ও বালু উত্তোলন করছেন কিসের  ভিত্তিতে? তারা এ কাজটি দীর্ঘদিন করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তো কিছু বলা হচ্ছে না। শুনেছি এ চক্রটির সাথে আমাদের ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তারও জড়িত আছেন। আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ স¤পাদক ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তারের মোবাইল ফোনে গত কয়েকদিন ধরে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি মোবাইল রিসিভ না করায় এ ঘটনার ব্যাপারে তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন, আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের হারদা বাওড় কোন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানকে জেলা প্রাশসকের কার্যালয় থেকে লিজ প্রদান করা হয়েছে মর্মে আমার নিকট কোন চিঠি আসেনি। তা ছাড়া সরকারী খাল-বিল ও বাওড় লিজ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নিব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ