শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

শাহজাদপুরে যমুনার ভাঙ্গন শতাধিক ঘর-বাড়ি বিলীন

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) : যমুনা গর্ভে ঘর-বাড়ি হারিয়ে নির্বাক চিথুলিয়া গ্রামের শুক্কুর আলী

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে যমুনা নদী অসময়ে ব্যাপক ভাঙ্গন শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই গত ২ সপ্তাহের ভাঙ্গনে যমুনা তীরবর্তী গ্রামের শতাধিক বাড়ি নদী গর্ভে বিলীণ হওয়ার পাশাপাশি গৃহহারা হয়েছে সহ¯্রাধিক মানুষ। ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় আতঙ্কিত মানুষগুলো বাসস্থান গুটিয়ে অন্যত্রে চলে যাচ্ছে। সরে জমিনে গিয়ে গত সোমবার যমুনা তীরবর্তী গালা ইউনিয়নের চক পাইহন্দো, চিথুলিয়া, তারটিয়া, গ্রামে ভাঙ্গনের ভয়াবহতা লক্ষ্য করা গছে। ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁচতে, গাছ-গাছালি কাটার হিড়িক পরে গেছে। গবাদী পশু,পাখি ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। অনেকের মাথা গোঁজার মত সামান্য ঠাঁইটুকু নেই। চিথুলিয়া গ্রামের শুক্কুর আলী (৭৬) জানান, এ যাবত যমুনা নদীর ৫বার আগ্রাসনের শিকার হয়েছেন তিনি। মাথা গোঁজার শেষ সম্বলটুুকু হারিয়ে নিস্তব্ধ নির্বাক তিনি। একই অবস্থা পাইকহান্দো গ্রামের নুরজামাল শেখের তিনি এ যাবত যমুনার ৩ ভাঙ্গন দেখেছেন। যমুনা নদীতে অসময়ে পানি বৃদ্ধির ফলে এই ভাঙ্গন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। একই চিত্র জালালপুর ইউনিয়নের রুপসী, জালালপুর, ভেকা, কৈজুরী ইউনিয়নের পাচিল চর, ভাটপাড়া, জগতলা গ্রামে। ভয়াবহ এই ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কোন ববস্থা না নিলে শাহজাদপুরের মানচিত্র থেকে গালা ও কৈজুরী ইউনিয়ন হারিয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য শাহজাদপুরের হাটপাঁচিল থেকে গালর ভেড়াকোলা হয়ে করতোয়া ব্রীজ পর্যন্ত প্রায় হাজার কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণিত বাঁধ নির্মাণ করছে পানি উন্নয়নবোর্ড।

 নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা না হলে হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্প মূল্যহীন হয়ে পড়বে। এ ব্যাপারে, গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন জানান, উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত ইউনিয়ন গালা। যার সিংহভাগ ইতিপূর্বে নদীগর্ভে চলে গেছে। গালা ইউনিয়নকে রক্ষা করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্র্তপক্ষকে অনুরোধ করেন। উল্লেখ্য গত দুই দশক ধরে যমুনা নদীর ভয়াবহ আগ্রাসনে প্রায় শতাধিক গ্রাম নদীগর্ভে চলে গেছে। গৃহহারা হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ