বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

ভারতের লেখক ও বিজ্ঞানীদের বার্তা

মানুষ মানুষ না হলে, সমাজ সমাজ না থাকলে উন্নত ও নিরাপদ জীবন আমরা কীভাবে পাব? বর্তমান সভ্যতায় আমরা বৈচিত্র্যকে সম্মান করি না, সাম্য বা সমতাকে মানতে চাই না। এর বিপরীতে আমরা অসহিষ্ণুতা ও হুমকির আওয়াজ শুনতে পাই বড় বড় নেতাদের কণ্ঠে। রাজনীতি বিশেষ করে ভোটের রাজনীতিতে আরও মন্দ উদাহরণ লক্ষ্য করা যায়। কাছের কিংবা দূরের যে ভূগোলেই যাই না কেন, আশাবাদী হওয়ার মতো তেমন উদাহরণ লক্ষ্য করা যায় না। সভ্যতার এমন বাতাবরণে যারা চিন্তাশীল মানুষ, নীতির মানুষ- তাঁরা চ্যালেঞ্জের মুখে কথা বলেন, বলেন হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কারণেই।
আর ক’দিন পরেই ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় এরই মধ্যে জমে উঠেছে ভোটের রাজনীতি। ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই সাধারণ ভোটারদের প্রতি এক খোলা চিঠিতে ‘বৈচিত্র্য ও সমতার পক্ষে’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দুই শতাধিক লেখক। তারা বিদ্বেষ-রাজনীতির মূলোৎপাটনেরও আহ্বান জানিয়েছেন ওই খোলা চিঠিতে। অপর এক খোলা চিঠিতে প্রায় দেড়শ’ বিজ্ঞানী ভোটারদের প্রতি ‘হুমকি ও অযৌক্তিকতার’ বিরুদ্ধে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতের সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক ওয়েবসাইট ইন্ডিয়ান কালচারাল ফোরাম গত সোমবার লেখকদের খোলা চিঠিটি প্রকাশ করে। আর গত বুধবার একই প্লাটফর্মে প্রকাশিত হয় বিজ্ঞানীদের খোলা চিঠি। লেখকদের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন গিরিশ করনাদ, অরুন্ধতী রায়, অমিতাভ ঘোষ, নয়নতারা সাহগালের মতো লেখক। আর বিজ্ঞানীদের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এডুকেশন এন্ড রিসার্চ, দ্য ইন্ডিয়ান স্যাটিক্যাল ইনস্টিটিউট, অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়, ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউটস অব টেকনোলজির মতো সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা। লেখকদের খোলা চিঠিতে আরো বলা হয়- দেশকে বিভক্ত করতে, ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে বিদ্বেষের রাজনীতি ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভারতের লেখকরা-বিজ্ঞানীরা বৈচিত্র্য ও সমতার পক্ষে দাঁড়াতে বলেছেন জনগণকে। আর দেশকে বিভেদ বিভক্তির পথ থেকে বাঁচাতে হুমকি ও বিদ্বেষের রাজনীতি রুখে দিতে বলেছেন। আমরা মনে করি এই বার্তা যেমন জনগণের জন্য, তেমনি রাজনীতিবিদদের জন্যও। বার্তা কতটা কার্যকর হয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ