শুক্রবার ২০ মে ২০২২
Online Edition

উচ্চমাত্রায় হর্ন ও মারাত্মক শব্দদূষণ প্রতিরোধ জরুরি

মুহাম্মদ নূরে আলম : নীরব ঘাতক উচ্চমাত্রার হর্ন বা শব্দ দূষণের কবলে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেল শব্দে মানুষের সাময়িক শ্রবণ শক্তি নষ্ট হতে পারে এবং ১০০ ডেসিবেল শব্দে চিরতরে শ্রবণশক্তি হারাতে পারে। অথচ প্রতিদিনই রাজধানী শহর ঢাকায় ১০৭ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ তৈরি হচ্ছে। শব্দদূষণের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুর শ্রবণক্ষমতা ধ্বংস হচ্ছে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধি বিধান থাকলেও তার তেমন কোনো প্রয়োগ হচ্ছে না কোথাও। ঢাকা নগরীর রাজপথ থেকে আবাসিক এলাকা-সর্বত্রই শব্দদূষণের ফলে জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। শব্দদূষণের ফলে সৃষ্ট শারীরিক ও মানসিক ক্ষতিরোধ করতে হাইড্রোলিক হর্ণ নিষিদ্ধ করা হলেও যানবাহন মালিক, চালকরা এগুলো মানছেন না। স্কুল কিংবা হাসপাতালের সামনে হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ হলেও কে শোনে কার কথা। অব্যাহত যানজট শব্দ দূষণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ। পরিবেশ অধিদপ্তর শব্দদূষণ প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করছে, জরিমানা করছে, কিন্তু শব্দদূষণ বন্ধ করতে পারছে না। যানবাহনের দুর্ভোগ তো আছেন, তার সাথে যুক্ত হয়েছে জেনারেটরের বিকট শব্দ, যা পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছ। যানবাহন, যানবাহনের হর্ন, মাইক, লাউড-স্পিকার, ইট ও পাথর ভাঙার মেশিন, জেনারেটর ইত্যাদি থেকে নির্গত শব্দ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
ঢাকা হচ্ছে বিশ্বের একটি অন্যতম জনবহুল ও অপরিকল্পিত মহানগর। আমাদের দেশে হাসপাতালে যখন চিকিৎসা চলে, তখন দেখা যায়, রাস্তায় মাইক দিয়ে কেউ বক্তৃতা দিচ্ছে, মাইক দিয়ে গান বাজিয়ে লটারির টিকিট বিক্রি করছে, কারণে-অকারণে বাস ও ট্রাকচালকেরা হাইড্রোলিক হর্ন বাজিয়ে বাইরে থেকে হাসপাতালের ভেতর শব্দদূষণ করছে। শাহবাগের পিজি হাসপাতালের লাইব্রেরিতে পড়তে গেলে বোঝা যায়, শব্দদূষণ কী মারাত্মক! জানা গেছে, শ্রবণের জন্য শব্দের কম্পাঙ্ক ৪৫ ডেসিবল সহনীয় মাত্রা। ১০৬ ডেসিবলের শব্দ অতিমাত্রায় দূষণ ঘটায়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সূত্রে জানা যায়, ৩০টি কঠিন রোগের কারণ ১২ রকমের পরিবেশ দূষণ। শব্দদূষণ তার মধ্যে অন্যতম। শব্দদূষণের প্রধান উৎস গাড়ির হর্ণ। এ ছাড়া ইট ভাঙার মেশিন, জেনারেটর, মাইকের শব্দ, কারখানার শব্দ, উচ্চ শব্দে গান শোনা ইত্যাদি নানাভাবে শব্দদূষণ সৃষ্টি হয়ে থাকে। কিছুদিন ধরে বিকট শব্দে হর্ণ বাজানো যেন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। মোটর সাইকেলে শোনা যায় কুকুর বা গাধার ডাক, প্রাইভেট কারে গাড়ি ব্রেকের শব্দ। পেছন থেকে হঠাৎ এমন শব্দ শুনলে সামনের পথচারীর শোচনীয় অবস্থা। চিন্তার ফুরসতও পায় না তারা।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) শিক্ষক সাইয়েদা বিনতে আয়ায তারঁ ‘ঢাকা শহরে গাড়ির উচ্চশব্দে শব্দদূষণ‘ শীর্ষক এক গবেষণা প্রবন্ধে শব্দদূষণকে নগরবাসীর স্বাস্থ্য সমস্যার অন্যতম বড় কারণ বলে চিহ্নিত করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরাও গাড়ির উচ্চশব্দকে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন।
ডুয়েটের শিক্ষক সাইয়েদা বিনতে আয়াযের গবেষণা প্রবন্ধটি মিলিটারি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের জার্নালের চলতি সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণা প্রবন্ধে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকায় বসবাসরত শিক্ষক, ছাত্র, ডাক্তার, ট্রাফিক পুলিশ, চালক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন চাকরিজীবীর সাক্ষাৎ্কার নিয়ে দেখা গেছে শতভাগ মানুষই শব্দদূষণের কারণে নানা রোগে ভুগছেন। এদের মধ্যে প্রায় ১২ ভাগ মাথাব্যথা ও চোখের পানিপড়া, ১৮ ভাগ অবসাদ, ১৫ ভাগ অনিদ্রা, ২৮ ভাগ বদমেজাজী, ২৬ ভাগ কানে কম শোনা এবং ৩ ভাগ লোক অন্যান্য রোগে ভুগছে। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শিল্প এলাকায় শব্দের সহনীয় মাত্রা দিনে ৭৫ ডেসিবল ও রাতে ৭০ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকায় ৭০ ডেসিবল ও ৬০ ডেসিবল মিশ্র এলাকায় ৬০ ডেসিবল ও ৫০ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় ৫০ ডেসিবল ও ৪০ ডেবিল এবং নিরব এলাকায় (হাসপাতাল ও স্কুল আছে এমন এলাকা) ৪৫ ডেসিবল ও ৩৫ ডেসিবল।
কিন্তু ঢাকা শহরের ৪৮টি পয়েন্টে সরেজমিন জরিপে দেখা যায়, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ১৫টি পয়েন্টে শব্দমাত্রা থাকে ৮০ ডেসিবলের ওপরে। ১০টি পয়েন্টে শব্দমাত্রা থাকে ৭১ থেকে ৮০ ডেসিবল, ১৩টি স্পটে ৬১ থেকে ৭০ ডেসিবল, ৯টি পয়েন্টে ৫১ থেকে ৬০ ডিসেবল এবং ১টি পয়েন্টে ৪৫ থেকে ৫০ ডেসিবল শব্দমাত্রা থাকে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কেবল ১০টি পয়েন্টে শব্দমাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।
এমনকি সাইলেন্ট জোন হিসেবে পরিচিত হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এলাকায় যানজটের কারণে শব্দমাত্রা থাকে ৮০ ডেসিবলের কাছাকছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। তিন দিক থেকে উচ্চশব্দ আসে এ হাসপাতালটিতে। শাহবাগ মোড়, শাহবাগ হয়ে শেরাটন হোটেল এবং শাহবাগ হয়ে কাঁটাবন পয়েন্টে প্রচণ্ড যানজটে অতিউচ্চমাত্রার গাড়ির শব্দ এ হাসপাতালের রোগীদের সাধারণ রোগের পাশাপাশি শব্দদূষণ রোগে আক্রান্ত করে। এ দুটো হাসপাতালে শব্দপ্রতিরোধক দেয়াল তৈরি করা যেতে পারে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিমকোর্ট এলাকা সাইলেন্ট জোন হলেও এই পয়েন্টে উচ্চমাত্রার শব্দদূষণ চলে দিনভর।
গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, সবচেয়ে উচ্চ শব্দমাত্রা হয় রমনা পার্কের অরুণোদয় গেটের সামনের সড়কে বিকাল ৫টার দিকে এবং এ মাত্রা ৯৯ দশমিক ৮ ডেসিবল। মগবাজার মোড় সংলগ্ন এলাকায়ও শব্দমাত্রা বেশিরভাগ সময়ই ৯১ ডেসিবল ছাড়িয়ে যায়। গুলিস্তান ও মতিঝিল থেকে প্রেসক্লাব এবং হাইকোর্ট হয়ে রমনা পার্কের সামনে দিয়ে শাহবাগ ও ফার্মগেট হয়ে বিজয়নগর সড়কে যানজটের কারণেই বেশি উচ্চমাত্রার শব্দ হয়ে থাকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আবাসিক বাড়িতে ও শোবার ঘরে শব্দের মাত্রা ২৫ ডেসিবল, অন্যান্য রুমে ৪০ ডেসিবল, হাসপাতালে ২০ থেকে ৩০ ডেসিবল, রেস্টুরেন্টে ৪০ থেকে ৫০ ডেসিবল, অফিস কক্ষে ৩৫ থেকে ৪০ ডেসিবল এবং শ্রেণীকক্ষে ৩০ থেকে ৪০ ডেসিবল থাকা স্বাস্থ্যসম্মত। এর চেয়ে বেশি হলে সেটা শব্দ দূষণের পর্যায়ে পড়ে।
এদিকে মারাত্মক শব্দদূষণ রোধ করতে এক অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কয়েকজন তরুণ। প্ল্যাকার্ড হাতে দুই তরুণ রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের মোড়ে ও সড়ক দ্বীপে কয়েকজন তরুণ প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সড়কে চলাচলকারী গাড়ির চালকরা প্ল্যাকার্ড বা ব্যানার হাতে দাঁড়িয়ে থাকা তরুণদের সাধুবাদ জানাচ্ছেন আবার কেউ বা লজ্জায় মুখ লুকানোর চেষ্টা করছেন। কি লেখা রয়েছে এই প্ল্যাকার্ডে? তাদের প্ল্যাকার্ডে রয়েছে চার শব্দের একটি বাক্য, ‘হর্ন হুদাই বাজায় ভুদাই।
মারাত্মক শব্দদূষণ প্রতিরোধ জরুরি: শব্দদূষণ স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আপনি জানেন কি, তিন বছর বয়সের নিচে কোনো শিশুর কানে যদি খুব কাছ থেকে ১০০ ডেসিবেল শব্দ আসে, তাহলে তার শ্রবণক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে? শব্দদূষণের কারণে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বুক ধড়ফড়, খিটখিটে মেজাজ, মাথাব্যথা, পেপটিক আলসার, অস্থিরতা, অমনোযোগী ভাব, ঘুমে ব্যাঘাত, শ্রবণশক্তি ও স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, মাত্রাতিরিক্ত শব্দদূষণ মানুষের লিভার সিরোসিস, গ্যাস্ট্রিক, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, রক্তচাপজনিত রোগ, মাথা ধরা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগ নষ্টসহ নানা ধরনের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হচ্ছে। অপরদিকে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বড় বড় শহরে পরিবেশদূষণের অন্যতম কারণ হচ্ছে শব্দদূষণ। উচ্চ শব্দদূষণের কারণে প্রাণিকুল আজ বিলুপ্তির পথে, শহর আজ পাখিশূন্য। ঢাকায় সৃষ্ট শব্দদূষণে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে হাজার হাজার শিশুর শ্রবণক্ষমতা ধ্বংস হচ্ছে বা কমছে। বাড়িতে, অফিসে, রাস্তাঘাটে, বিপণিকেন্দ্রে, বাস ও রেলস্টেশনের মাধ্যমে শব্দদূষণ করা হচ্ছে। শব্দদূষণ সম্পর্কে এক সমীক্ষায় দেখা যায়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, নগর-পরিবেশের জন্য নিরাপদ শব্দমাত্রা হচ্ছে সর্বোচ্চ ডেসিবেল। বিভিন্ন মাত্রার শব্দ ভিন্ন ভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি করে, যেমন-৩০-৩৫ ডেসিবেল শব্দমাত্রায় নার্ভাসনেস ও ঘুমের ব্যাঘাত। ৬৫ ডেসিবেলের ওপর শব্দমাত্রায় হৃদরোগ। ৯০ ডেসিবেলের ওপর শব্দমাত্রায় আলসার, শ্রবণে ব্যাঘাত ও স্মায়ুতন্ত্রের পরিবর্তন। ১২০ ডেসিবেলের ওপর শব্দমাত্রায় শ্রবণযন্ত্রে ব্যথা এবং স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি লোপ পেতে পারে। এ ছাড়া শব্দদূষণের ফলে শারীরিক ও মানসিক দুই ধরনের সমস্যাই দেখা দেয় এবং এটা হতে পারে স্থায়ী বা অস্থায়ী। হঠাৎ কোনো উচ্চ শব্দে কানের পর্দা ফেটে যেতে পারে এবং সঙ্গে রক্তক্ষরণও হতে পারে। উচ্চ শব্দে কানের মধ্যে ইনফ্লামেশন হয়ে ইফিওশন হতে পারে। উচ্চ শব্দের উৎসের কাছে দীর্ঘদিন কাজ করলে একজন মানুষের শ্রবণক্ষমতা স্থায়ীভাবে বিনষ্ট হয়ে যেতে পারে। রোগী, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের জন্য শব্দদূষণ মারাত্মক ক্ষতির কারণ। শব্দদূষণের কারণে বিকলাঙ্গ শিশুও জ্নগ্রহণ করতে পারে।
প্রচণ্ড শব্দ শিশুদের মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনছে। কোনো শিশুর কানে যদি খুব কাছ থেকে উচ্চ শব্দ আসে, তাহলে তার শ্রবণক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শব্দদূষণের কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার শিশুর শ্রবণক্ষমতা ধ্বংস হচ্ছে। এর প্রতিকার জরুরি। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, শব্দদূষণ সংক্রান্ত আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই। ১৯৭৭ সালের পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ আইনে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নির্ধারিত স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান থেকে ১০০ মিটার পর্যন্ত নিরব এলাকা হিসেবে নির্দিষ্ট রাখার বিধান রয়েছে। কিন্তু দেখা যায়, এ ধরনের স্থানেও অবাধেই গাড়ির হর্ণ বাজানোসহ লাউড স্পিকার ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল শব্দদূষণে মানুষের মনোজগতের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বলেন, শব্দদূষণের তীব্রতা বা ভয়াবহতা বেশি হলে তা মানুষের ব্রেনের উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে। মধুর গান মনের ভিতরকে আলোরিত করে। তবে যে গান আবার ভালো লাগে না, সেটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। কিন্তু শব্দদূষণ জটিল বা উত্তাল ঢেউ তৈরি করে মানুষের মনে চাপ প্রয়োগ করে। তার মতে, বড় ধরনের হর্ন বা শব্দদূষণের ফলে আমাদের মানসিকভাবে বিপদগ্রস্ত করে। শ্রবণ ইন্দ্রিয়র ক্ষতি করে শব্দদূষণ। শিশুদের মধ্যে ক্ষতিকর প্রভাবও বিস্তার করে। অতীতে হর্ন বা উচ্চ শব্দ হলে জরিমানার নিয়ম চালু ছিল। বর্তমানে তা দেখা যায় না। আসলে দেশে শব্দদূষণে মনিটরিং নেই। ফলে আমাদের মানসিক ক্ষতি হচ্ছে। বসরকারি পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপা’র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক কমরেড আলমগীর কবির বলেন, শব্দদূষণ মানুষের শ্রবণ ক্ষমতা-শক্তি কমিয়ে দেয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। উচ্চ শব্দদূষণ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করে। এতে মানুষের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। আবার বদরাগীও হয়। ঘুম কমে যায়। এসব কারণে মানুষের ব্লাডপ্রেসার বেড়ে যায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ