বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

খুলনার স্কুলগুলো অতিরিক্ত ফি’র টাকা ফেরত দিচ্ছে 

খুলনা অফিস : অর্থ আদায়কারী খুলনার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অসাধু শিক্ষক ও ঘুষ নেয়া দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা আতঙ্কে পড়েছে। দুদকের হটলাইন ১০৬ এ একাধিক স্কুলের অভিভাবক ফোন দিয়ে স্কুলগুলোর এ দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে নেভি স্কুল ও পাবলিক স্কুলসহ একাধিক স্কুলে দুদক অভিযান পরিচালনা করে অভিভাবকদের কাছ থেকে ভর্তি ফির অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা করেন। খুলনার দুদকের উপ-পরিচালক আবুল হোসাইন জানান, খুলনায় সরকারি বেসরকারি স্কুলের ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেলেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কোনো শিক্ষার্থী বা অভিভাবক দুদক হটলাইনে ১০৬ নম্বরে ডায়াল করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কথা জানালে ওই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব সাক্ষরিত গত ১৩ নবেম্বর স্কুলগুলোর জিম্মিদশা থেকে অভিভাবকদের মুক্ত করতে স্কুলগুলোকে ভর্তি ফি, সেশন ফি নির্ধারণ করে একটি নীতিমালা জারী করেন। যেখানে উল্লেখ রয়েছে, আবেদন ফরমের মূল্য এমপিওভুক্ত, আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিও-বহির্ভূত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০০ টাকা। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্বসার্কুল্যে মফস্বল এলাকায় ৫০০ টাকা, পৌর (উপজেলা) এলাকায় এক হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় দুই হাজার টাকা, ঢাকা ছাড়া অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি হবে না। উন্নয়ন খাতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তিন হাজার টাকার বেশি আদায় করতে পারবে না। একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এক ক্লাস থেকে পরবর্তী ক্লাসে ভর্তির জন্য প্রতি বছর সেশন চার্জ নেয়া যাবে। তবে পুনঃভর্তি ফি নেয়া যাবে না। খুলনার দুদকের উপ-পরিচালক আবুল হোসাইন বলেন, জনগণের করের টাকায় সরকারি অফিস চলে। সেই অফিসে যদি জনগণকে ঘুষ দিয়ে সেবা নিতে হয়, তাহলে জাতি হিসেবে তার চেয়ে বড় কলঙ্ক আর কিছু থাকতে পারে না। জনস্বার্থ সংরক্ষণ ও হয়রানিমুক্ত সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্যই হটলাইনে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেবা দিতে গিয়ে দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। ১০৬ এর অভিযোগের মাধ্যমেই আমাদের অভিযানে স্কুলগুলো তাদের টাকা ফেরত দিচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ