বৃহস্পতিবার ২৬ নবেম্বর ২০২০
Online Edition

ওসমানীনগরের সুন্দর আলীর নির্যাতনে অসহায় একটি পরিবার

সিলেট ব্যুরো : সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের চিন্তামনি গ্রামের সুন্দর আলী ও তার সন্তানদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন একই গ্রামের সাব্বির আহমদ ও পরিবারের সদস্যরা। বিশাল লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তুলে সুন্দর আলী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। কিন্তু পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গতকাল বুধবার সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন একই গ্রামের মরহুম সজ্জাদ আলীর পুত্র সাব্বির আহমদ। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে সুন্দর আলী গ্রামে প্রভাব বিস্তার করছে। সে এলাকার নিরিহ মানুষকে হয়রানি ও প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এমনকি তার পুত্রের দ্বারা নারী নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। সাব্বির আহমদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, সুন্দর আলী একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে প্রতি মুহূর্তে আমাদেরকে হয়রানির মধ্যে রেখেছে। সাব্বির আহমদ আরো বলেন, সুন্দর আলীর দ্বিতীয় ছেলে দিপু গত ৯ অক্টোবর দিলোয়ার হোসেনের স্ত্রীকে নির্যাতন করে। তিনি মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হন। ভিকটিমকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে ওসিসির রিপোর্টের প্রেক্ষিতে ওসমানীনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ চেষ্টা আইনে মামলা হয়। এ ঘটনার পরও পুলিশ রহস্যজনক কারণে আসামিকে গ্রেপ্তার করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাব্বির আহমদ বলেন, দিপু প্রকাশ্যে বাড়িতে বসবাস করলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করছে না। উল্টো মামলা তুলে নিতে সুন্দর আলী ও তার ছেলে দিপু প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৩ ডিসেম্বর আমার ভাই দিলোয়ার হোসেন ও চাচা সিদ্দেক আলীকে রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে সুন্দর আলীর ছেলে। আমাদের বাড়ির ছেলেমেয়েরা স্কুল- কলেজ ও মাদরাসায় যেতে পারে না।  তিনি বলেন, সে এলাকার মানুষকে বন্দুক দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। এসব অপকর্মের কথা তুলে ধরে সুন্দর আলীর বাহিনীর হাত থেকে রক্ষা পেতে গ্রামবাসী ২০১১ সালের ১১ মে পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সাব্বির আহমদ সংবাদ সম্মেলনে সুন্দর আলী ও তার পুত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সকলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ