শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভালো রেটিং না হলে ঋণ পাবেন না গ্রাহকররা

স্টাফ রিপোর্টার: চমৎকার ও ভালো রেটিং না হলে এখন থেকে ঋণ পাবেননা গ্রাহকররা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা, ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং সিস্টেমে এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিআইবিএম মিলনায়তনে এ নীতিমালার উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। এর মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমার পাশাপাশি ঋণ দেয়ায় ঝুঁকিও কমে আসবে বলে মনে করছেন গবেষকরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএম’র চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিম, নির্বাহী পরিচালক আবু ফারাহ মো. নাসের, বিআইবিএম’র অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জি প্রমুখ।

ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা না থাকার পরও অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেয়ায় ব্যাংক খাতে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এর ফলে লাগামহীন খেলাপি ঋণের পরিমাণ। গত বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। এ সঙ্কট কাটাতে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা মূল্যায়নে নতুন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ইন্টারনাল ক্রেডিট রিস্ক রেটিং সিস্টেম বা আইসিআরআরএস নীতিমালার ফলে ব্যাংকগুলো প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার একটি রেটিং করবে। কোনো গ্রাহক চমৎকার বা ভালো রেটিং পেলে ব্যাংক তাকে অর্থায়ন করতে পারবে। তবে অগ্রহণযোগ্য রেটিংধারীকে কোনো পরিস্থিতিতেই নতুন ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো।

পরিমাণগত সক্ষমতা মূল্যায়ন করবেন একজন ঋণ কর্মকর্তা। আর শাখা ব্যবস্থাপক করবেন গুণগত মূল্যায়ন। তবে, ব্যাংকাররা বলছেন, নতুন নীতিমালার ফলে এসএমই ঋণের প্রবৃদ্ধি যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী মূল্যায়নের ভিত্তিতে গ্রাহককে চার শ্রেণিতে ভাগ করবে ব্যাংকগুলো। কোনো গ্রাহক ‘চমৎকার’ (এক্সিলেন্ট) বা ‘ভালো’ (গুড) রেটিং পেলে ব্যাংক তাকে অর্থায়ন করতে পারবে। ‘প্রান্তিক’ (মার্জিনাল) রেটিংধারী গ্রাহককে পুরোনো ঋণ নবায়ন বা নতুন করে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তবে ‘অগ্রহণযোগ্য’ রেটিংধারীকে কোনো পরিস্থিতিতেই নতুন ঋণ দিতে পারবে না ব্যাংকগুলো, যদি না আগের ঋণ শতভাগ নগদ পরিশোধ হয় অথবা জামানত দিয়ে ঋণটি আচ্ছাদন করা হয়। ‘অগ্রহণযোগ্য’ (আনএকসেপ্টেবল) রেটিংভুক্ত গ্রাহকের আগের ঋণ সর্বোচ্চ দুবার নবায়ন বা বর্ধিত করা যাবে।

খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে একে সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। ২০০৫ সালে ঋণঝুঁকি নিরসনে ক্রেডিট রিস্ক গাইডলাইন ম্যানুয়াল জারি করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো পদ্ধতি একসঙ্গে অনুসরণ করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। আগামী জুলাই থেকে থাকবে শুধুমাত্র আইসিআরআরএস পদ্ধিতি।

গভর্নর বলেন, মোট ঋণের বিপরীতে আমাদের দেশের যে খেলাপি তা অবশ্যই আশঙ্কাজনক। তবে বছরশেষে এই খেলাপি কমে আসবে। ব্যাংকারদের বোঝা উচিত গ্রাহকদের চাহিদা কি। কোন কারণে তারা খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। কোন ব্যবসা শুরু করার পর উৎপাদনে যেতে যদি টাকার প্রয়োজন হয় তবে তাদের সহোযোগিতা করার পরামর্শ দেন গভর্নর। তবে সেক্ষেত্রে গ্রহীতার গুণগত মানটাও বিবেচনায় রাখতে হবে বলে মনে করেন তিনি। নীতিমালার আলোকে ব্যাংকগুলো এখন থেকে প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার একটি রেটিং করবে এবং এ-সংক্রান্ত তথ্যভাণ্ডার তৈরি করবে। এ রেটিংয়ে পরিমাণ ও গুণগত উভয় ধরনের সক্ষমতার মূল্যায়ন থাকবে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, আইসিআরআরএস নীতিমালার ফলাফল এখনই বোঝা যাবে না। পুরোপুরি বাস্তবায়ন হওয়ার পরেই এর রেজাল্ট পাওয়া যাবে। তবে এই নীতি বাস্তবায়ন করতে সক্ষমতা মূল্যায়ন কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। লিখিত আকারে জমা খরচের বিস্তৃত বিবরণ বা ব্যালেন্স শিট প্রস্তুতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও ব্যক্তিগত ব্যাংকগুলো যৌথভাবে প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ