বুধবার ২০ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনায় বাগমারা

আফাজ্জল হোসেন বাগমারা (রাজশাহী) : ১৬টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌর এলাকা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৪ আসন। আয়তন- ৩৬৩.৩০ বর্গ কিলোমিটার ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৭৭ হাজার ৮ শত ৬৬। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে উপজেলার সর্বত্র আলোচনা সমালোচনায় গ্রাম-গঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় এখন সরগরম হয়ে উঠেছে। 

এতে উপজেলায় তৃণমূল রাজনীতিতে মনোনয়ন লড়াইয়ে উপজেলায় বড় দুই দলের মধ্যে নেতৃত্বের লড়াইয়ে বিভক্তি হয়ে পড়েছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নিজের পক্ষে তৃণমূলের সমর্থন আদায়ের তৎপরতায় এই বিভক্ত চরম ভাবে দেখা দিয়েছে।

আসন্ন নির্বাচনে বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন এ নিয়ে চলছে উপজেলার সর্বত্রই জল্পনা-কল্পনা। দলীয় মনোনয়ন পেতে নিজ পছন্দের প্রার্থীর গুণগান গাইছেন সমর্থক নেতা কর্মীরা। 

কে কেমন এলাকার উন্নয়ন করেছেন বা করতে পারেন এমন চুলচেরা বিশ্লেষণ তুলে দলে আলোচনা সমালোচনায় ঝড় বইছে। 

ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় মনোনয়ন উত্তোলন তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

দলীয় ভাবে ক্ষমতাসীন আ’লীগের ৬ জন বিএনপি’র ৮ জন নেতা মনোনয়ন ফরম উত্তোলন করেছেন। এরা হলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব জাকিরুল ইসলাম সান্টু, তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিন্নাতুন নেছা, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ড. তোফাজ্জল হোসেন  (বেলাল)। 

এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি)’র সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দুল গফুর, সাবেক এমপি আবু হেনা, জেলা বিএনপি’র সহসভাপতি মকলেছুর রহমান, উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ডিএম জিয়াউর রহমান, জেলা বিএনপি’র সদস্য ডা. আশফাকুর রহমান শেলী, জিয়া পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ দেওয়ান শামিম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ওয়ালিউজ্জামান পরাগ, জেলা বিএনপির সদস্য জাকারিয়া সোহেল।

জানা যায়, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনটিও ২০০৮ সাল থেকে সৃষ্টি হয়। আগে মোহনপুর ও বাগমারাকে নিয়ে ছিল রাজশাহী-৩ আসন। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে কেবল বাগমারা নিয়েই একটি বাগমারা-৪ আসন করা হয়। 

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য হন ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দ্বিতীয় বারের মত সাংসদ নির্বাচিত হন।

এবার এনামুল হক ছাড়াও এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন বাগমারা উপজেলা চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম সান্টু ও তাহেরপুর পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ। দলের ভাবমূর্তি টিকে রাখার দাবিতে এনামুল বিরোধী দু’ নেতা মাঠে সক্রিয় অবস্থানে। 

এই তিন নেতার মধ্যে সাংসদ এনামুল হক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, জাকিরুল ইসলাম সান্টু উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও আবুল কালাম আজাদ তাহেরপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

দলের মনোনয়নের আশায় দৌড় ঝাঁপে রয়েছেন। এছাড়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিন্নাতুন নেছা ও বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ড. তোফাজ্জল হোসেন  (বেলাল) মনোনয়ন কিনেছেন।

 এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি)’র ৮ জন মনোনয়ন কিনলেও সাবেক এমপি ও জেলা বিএনপি’র সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যাপক আব্দুল গফুর, সাবেক এমপি আবু হেনা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের শীর্ষে অবস্থান করছেন বলে দলের একটি সুত্র জানিয়েছেন। 

এক সময়ে মোহনপুর ও বাগমারাকে নিয়ে ছিল বাগমারা আসন এই আসনে সাবেক আ’লীগ নেতা আ’লীগের সমর্থন ও মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে দলের নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে ১৯৯৬ বিএনপি’র মনোনয়ন নিয়ে সংসদ নির্বাচিত হন সাবেক আমলা আবু হেনা। 

এ আসনে ১৯৯৬ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আবু হেনা এমপি ছিলেন। ২০০৪ সালে বাগমারায় জঙ্গি উত্থানে বাগমারার বিএনপিকে জড়িয়ে অপব্যাখ্যায় তিনি বহিস্কার হন। 

একই ভাবে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিএনপি’ জনপ্রিয়তা নিয়ে অপপ্রচার লিখায় তিনি বিতর্কিত ও নিস্ক্রীয় হয়ে পড়েন। 

দল ত্যাগ করে আবু হেনাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিতে ব্যস্ততায় ঢাকায় আ’লীগের মনোনয়ন পাইয়ে দেয়ার নামে ৩০ লাখ টাকার প্রতারণার অভিযোগে ঢাকায় কামরুল হাসান সুজন বাগমারা উপজেলার আওয়ামী লীগের এক সাংগঠনিক সম্পাদক গ্রেপ্তার ও মামলায় তিনি আলোচনায় আসেন। 

তিনি আবারো সম্প্রতি বিএনপি’ ১২ জন সংস্কারপন্থীদের হাত ধরে দলে ভিড়েন  এবং মনোনয়নের ফরম উত্তোলন করেছেন। 

মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক এমপি অধ্যাপক এমএ গফুর দলের একজন ত্যাগী নেতা। 

এলাকার প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান এক সময় দলের চেয়ারপার্সন বেগম জিয়া নিজে তাকে ক্যাডেট কলেজের চাকুরী থেকে অবসর দিয়ে দলে ভিড়ে নির্বাচনে নিয়ে এমপি বানান। 

এছাড়া ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে উত্তর বঙ্গের মধ্যে তুলনামুলক কম ভোটে সাংসদ নির্বাচনে হেরে যান। 

এদিক দিয়ে মনোনয়ন গ্রহণযোগ্যতা তিনি অনেকটা  এগিয়ে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে জেলা বিএনপি’র সদস্য ডা. আশফাকুর রহমান শেলী ও জিয়া পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ডা. জাহিদ দেওয়ান শামিম মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সক্রিয় রয়েছেন। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ