বুধবার ২০ অক্টোবর ২০২১
Online Edition

মধ্যআয়ের দেশ হতে আরো দেশী বিদেশী বিনিয়োগ জরুরি

স্টাফ রিপোর্টার: মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অবকাঠামো সংকট মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জ গ্রহণের আহবান জানিয়ে বলেছে বড় ধরনের দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগে ঝুঁকি থাকলেও এধরনের বিনিয়োগের ওপরই নির্ভর করছে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মধ্যআয়ের দেশে পরিণত হওয়া।

 সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেশের নেতৃস্থানীয় এই বণিক চেম্বারের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে বর্তমান আমাদানি, রফতানি ও রেমিটেন্সের প্রবাহ আরো বাড়বে।

 চেম্বার মনে করে বাংলাদেশের অর্থনীতি ভালভাবে চলছে তবে অবকাঠামোগত ঘাটতি ও বিদ্যুতের অভাব দেশের অর্থনীতির কার্যক্ষমতাকে প্রকৃত সম্ভাবনার নিচে ফেলে রেখেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লেও এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুৎ চাহিদা। তবে জালানি ঘাটতি সত্ত্বেও শিল্পখাতে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১৬ শতাংশ যা গত অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়েছিল ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদার পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৮৮১ মেগাওয়াট এবং এর বিপরীতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রেকর্ড বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ১১ হাজার ৬২৩ মেগাওয়াট।

এসব সমস্যা জরুরি ভিত্তিতে সমাধানে সরকারকে আহবান জানিয়ে মেট্রোপলিটন চেম্বার বলছে এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অক্ষুণœ রাখতে হবে। এবং এ স্থিতিশীলতা বর্তমান বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার জন্যে এ কারণে জরুরি যে এর ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের অর্থনৈতিক উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা।

 প্রতিবেদনে বলা হয়েছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী যে ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তার বিপরীতে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ। কিন্তু মেট্রোপলিটন চেম্বার বলছে, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত চলতি অর্থবছরে ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার হিসেবে তা অর্জিত হয়েছে ৩১ দশমিক ২৩ শতাংশ। বিনিয়োগের জন্যে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলা হয়েছে গত বছর আগস্ট পর্যন্ত অর্থ ও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের হার ১১ দশমিক ৭৩ শতাংশ হলেও এবছর একই সময়ে তা হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৯ শতাংশে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয় আগস্ট পর্যন্ত গত ১২ মাসে অভ্যন্তরীণ খাতে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ যা তার আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি ছিল ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এক্ষেত্রে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেসরকারি খাতে ঋণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। তবে গত আগস্ট পর্যন্ত সরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ ১ দশমিক ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর অর্থ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫৩৮ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৭৫২ দশমিক ০৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এবছর এর পরিমাণ ৪৫ শতাংশ বেশি।

ব্যাংকিং খাতে সুদের হার গত আগস্ট নাগাদ কমেছে ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ। এ বছর প্রথম প্রান্তিকে মুদ্রাস্ফীতি ছিল নিয়ন্ত্রণে। এর অন্যতম কারণ আন্তর্জাতিক ও দেশি বাজারে খাদ্যমূল্য ছিল কম। তবে গ্রামীণ পর্যায়ের চেয়ে শহরে মুদ্রাস্ফীতির হার রয়েছে বেশি। লেনদেনের হার ছিল স্থিতিশীল। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদও রয়েছে সুবিধাজনক পর্যায়ে। গত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডলারের তুলনায় টাকার মান কমেছে শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। আকু’র কাছে শূন্য শূন্য দশমিক ৫৪ বিলিয়ন দেনা থাকার পাশাপাশি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক মুষুার মজুদ ছিল ৩১ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ