শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন-এর ওপর আদালত প্রাঙ্গণে হামলা এবং বিচারাঙ্গনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ

এডভোকেট আব্দুস সালাম প্রধান : বাংলদেশের বিচার ব্যবস্থার সাথে ত্রিশ বছর ধরে যুক্ত আছি। ১৯৮৯ সালে যখন আইনজীবী হিসাবে বিচার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত হই, তখন ফৌজদারী মামলার সাথে সংযুক্তি বেশি ছিল। ফলে আইনজীবী পেশা জীবনের শুরুতে ছোট ছোট মামলা ছাড়া জটিল মামলায় সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে রাখতাম। ১৯৯৪ সালে শ্রদ্ধেয় প্রবীণ আইনজীবী মর-ম মতিউর রহমান রংপুর-এর একটি ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আমাকে বেইলএ্যাবল সেকশনের একটি মামলায় দীর্ঘক্ষণ জামিন আবেদন শুনানি করতে দেখে বিরক্ত হয়ে আমাকে ঐ দিনই তার চেম্বারে দেখা করতে বললেন। ভয়ে ভয়ে বেলা দু’টোয় তার চেম্বারে গেলাম। তিনি আমাকে শ্রদ্ধেয় এডভোকেট জহিরুল হক মহোদয়ের Law and Practice of Criminal procedure বইটির ৪৯৬ ধারাটি পড়তে বললেন। মনোযোগ সহকারে পড়লাম। দেখলাম ৪৯৬ ধারার বর্ণনা এবং উক্ত ধারার প্রয়োগের (ঝপড়ঢ়ব) ক্ষেত্র বিষয়ে একটি চমৎকার বর্ণনা দেয়া আছে। যার মধ্যে ব্রিটিশ শাষিত ইন্ডিয়ার উচ্চ আদালতের রুলিং এর একটি অংশ বিশেষ উদ্ধৃত করা আছে- In every bailable offence bail is a right and not favour. (19 Cr.LJ 329)। বর্তমান সময়ে শ্রদ্ধেয় এডভোকেট জহিরুল হক মহোদয় তার ইংরেজিতে লেখা বইটি ফৌজদারী কার্যবিধি নামে বাংলায় অনুবাদ করেছেন। তাতে তিনি ৪৯৬ ধারার অংশটি যেভাবে বাংলায় অনুবাদ করেছেন তা নিম্নরূপ ধারা ৪৯৬। কোনো কোনো ক্ষেত্রে জামিন মঞ্জুর করা যাইবে (In what cases bail to be taken): জামিনের অযোগ্য ধারার অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোনো থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্তৃক বিনা পরোয়ানায় হাজির করা হইলে, সে যদি উক্ত কর্মকর্তার হেফাজতে থাকিবার সময় বা উক্ত আদালতের কার্যক্রমের কোনো পর্যায়ে জামিন দিতে প্রস্তুত থাকে, তাহা হইলে তাহাকে জামিনে মুক্তি দিতে হইবে। তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত কর্মকর্তা বা আদালত উপযুক্ত মনে করিলে তাহার নিকট হইতে জামিন গ্রহণের পরিবর্তে অতঃপর বর্ণিতভাবে হাজির হইবার জন্য জামিনদার ব্যতীত মুচলেকা সম্পাদন করিলে তাহাকে মুক্তি দিতে পারিবেন। আরও শর্ত থাকে যে, এই ধারার কোনো বিধান ১০৭ ধারার (৪) উপধারা বা ১১৭ ধারার (৩) উপধারার কোন বিধানকে প্রভাবিত করিবে বলিয়া গণ্য করা যাইবে না।
আলোচনা ও প্রয়োগ “জামিন” শব্দটির মৌলিক ধারণা হচ্ছে পুলিশের হেফাজত থেকে কোনো ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়ে জামিনদারের হাতে প্রত্যার্পণ করা। যিনি প্রয়োজন হওয়া মাত্র তাকে আদালতে হাজির করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সহিংসতা জামিনযোগ্য ও জামিন অযোগ্য অপরাধের মধ্যে পার্থক্য করে থাকে। জামিন অযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জামিন প্রদানকারী আদালতের দ্বারা পুনরায় গ্রেফতার করে হেফাজতে রাখা যাবে। দায়রা আদালত ও হাইকোর্ট বিভাগ যেকোনো ব্যক্তিকে জামিন দিতে পারেন এবং পরবর্তী আদেশ বলে তাকে পুনরায় গ্রেফতার করে হেফাজতে নিতে পারেন। কিন্তু জামিনযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভিন্নভাবে গণ্য করা হয়। জামিনে মুক্তি পাওয়ার অধিকার তার আছে এবং একমাত্র হাইকোর্ট বিভাগ জামিনযোগ্য অপরাধে তাকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিতে পারে। জামিন দেয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছাধীন ক্ষমতার কোনো প্রশ্ন নেই, কারণ ধারাটির শব্দগুলো আদেশাত্মক। জামিনযোগ্য অপরাধে অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়া যাবে না, যদি না তিনি জামিনের প্রস্তাব করতে বা মুচলেকা সম্পাদন করিতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হন। প্রতিটি জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন পাওয়া একটি অধিকার; কোনো আনুকূল্য নয়। আইনের অভিপ্রায় এই যে, এরূপ ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে সাধারণত ছেড়ে দেয়া হয় এবং এটা কেবল তখনই করা হয় যখন তিনি মোটামুটি আকারের জামানত দিতে সক্ষম হন। তাকে পুনরায় প্রয়োজন হলে আটক থাকতে হবে। (19 Cr.LJ 329)। জামানত চাওয়ার উদ্দেশ্য অভিযুক্তকে শাস্তি দেয়া নয় বরং আদালতে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। অভিযুক্তের আয়, সামর্থ ও অপরাধের প্রকৃতি বিবেচনাপূর্বক জামানতের পরিমাণ ধার্য করতে হবে এবং তার বেশি হবে না (31 Cr.LJ 289)। কোনো অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দেয়ার শর্ত হিসেবে নগদ অর্থ জমা চাওয়ার ক্ষেত্রে আইন ম্যাজিষ্ট্রেটকে দেয় না। জামিনযোগ্য অপরাধে জামিন বাতিল করার দৃশ্যত কোনো বিধান নেই। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তি সাক্ষীকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে প্রবৃত্তি করালে তার বিরুদ্ধে আইনে অন্যান্য প্রতিকার আছে অর্থাৎ শান্তি রক্ষার্থে অথবা সদাচারণ করার জন্য তাকে বাধ্য করতে কার্যধারা দায়ের করা যাবে অথবা কার্যধারা অবমাননার মামলা করা যাবে। ৫৬১ ক ধারায় দায়রা জজ কিংবা হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক জামিন বাতিল করার বিধান নেই। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিশিষ্ট আইনজীবী দৈনিক ইত্তেফাকের দীর্ঘদিনের সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী প্রাক্তন আওয়ামী লীগ দলীয় জাতীয় সংসদ সদস্য এবং সর্বশেষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা জনাব ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাহেবের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রংপুর মহানগর আদালতে জনৈকা মিলি মায়া বেগম দঃ বিঃ ৫০০/৫০৬/৫০৮ ধারার অভিযোগ এনে একটি মানহানীর মোকদ্দমা আনয়ন করেন। যার নম্বর সি.আর ৭৯৭/১৮, তারিখ ২২/১০/২০১৮ ইং। আদালত মোকদ্দমাটি আমলে নিয়ে আসামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা দেন। ঐ গ্রেফতারী পরোয়ানা বলে জনাব ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাহেব ঢাকায় গ্রেফতার হন। তাকে গত ৪/১১/১৮ ইং তারিখে রংপুর অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করার সংবাদ আমরা সকাল বেলা অবগত হই। আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ এর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করি। পরে দেখি যে, আদালত প্রাঙ্গণে একদল মহিলা ঝাড়ু নিয়ে দ্বাড়িয়ে আছে। বেশ কিছু যুবক এবং ঝাড়ু নিয়ে অপেক্ষমান মহিলারা আদালতের সামনে শ্লোগান দিচ্ছে মইনুলের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে। সংশ্লিষ্ট আদালতে আমার একটি মামলা ছিল। আদালতে ঢুকতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হলাম। দেখলাম আদালত কক্ষ ভর্তি। আমার জানা মতে ৫০০/৫০৬/৫০৮ ধারার মামলা জামিনযোগ্য ধারার মামলা। আগে আমরা জামিনযোগ্য ধারার মামলায় জামিন এর দরখাস্ত দিয়ে শুধুমাত্র বলতাম- স্যার আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগের ধারা জামিনযোগ্য। জামিন চাই। আদালত জামিন মঞ্জুর করতেন। জামিনযোগ্য ধারার মামলায় জামিনে আপত্তি দেয়ার রেওয়াজ ছিল না। দেখলাম ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের মামলায় জামিনে আপত্তি দেয়ার জন্য এবং জামিনের দরখাস্তের পক্ষে কথা বলার জন্য আদালত ভর্তি আইনজীবী মহোদয়গণ প্রস্তুত হয়েছেন। পরিস্থিতি দেখে বোকা বনে গেলাম। আল্লাহকে বললাম আল্লাহ আমাকে তুমি একোন যুগে উকিল বানালে। যাহোক ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাহেবকে কড়া পুলিশ প্রহরায় আদালতে আনা হল। আদালত এলাকার পরিস্থিতি ছিল উত্তেজনাকর। সুতরাং নিরাপদ দূরত্বে থেকে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হলাম প্রিজন ভ্যান থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাহেবকে নামানোর সময় কড়া পুলিশ প্রহরার ভেতরেও তিনি দুজন সন্ত্রাসীর দ্বারা মাথায় ঘুষির আঘাত উপহার পেলেন। মহিলাদের ঝাড়ু প্রদর্শনসহ পূর্বোক্ত শ্লোগান চলতে থাকল। পুলিশের লোকজন অতিকষ্টে ব্যারিস্টার সাহেবকে আদালত কক্ষে নিয়ে যায়। সে সময় পুলিশ প্রশাসনকে বড় অসহায় মনে হচ্ছিল। মইনুল হোসেন সাহেব নিজের জামিনের আবেদনের পক্ষে নিজেই শুনানি করলেন। জামিন আবেদন শুনানি শেষে আদেশ না দিয়ে আদালত পুলিশের প্রতি জনাব মইনুল হোসেন সাহেবকে কঠোর নিরাপত্তা দেয়ার আদেশ দেন। ফলে তাকে মাথায় হেলমেট পরায়ে পুলিশ বেষ্টনি দিয়ে দ্বিতীয় তলার আদালত কক্ষ থেকে নিচে নামানোর পর পুলিশের বিশেষ প্রিজন ভ্যানে উঠানোর সময় তার প্রতি জুতা, স্যান্ডেল ও ডিম নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ প্রশাসন অতি কষ্টে আদালত এলাকা থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সাহেবকে সরায়ে নিয়ে যায়। তারপর আদালত প্রাঙ্গণে দুদল বহিরাগত লোক একে অপরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে জানলাম আসামীর জামিন আদালত না মঞ্জুর করেছে। শুনেছি ঐ ঘটনার পরে পুলিশ দুটি মোকদ্দমা দায়ের করেছে। যদিও যাদেরকে আসামী করা হয়েছে, তাদেরকে ঐ সময় সনাক্ত করা সম্ভব ছিল না। আদালত অঙ্গনে এহেন পরিস্থিতিতে আমরা শান্তিপ্রিয় আইনজীবীরা উদ্বিগ্ন। আমরা লক্ষ্য করছি সহিংস রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এখন রাজপথ থেকে আদালত অঙ্গনে স্থানান্তর হয়েছে। কিছুদিন আগে আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এ ধরনের একটি মামলায় কুষ্টিয়া চীফ জুডিশিয়াল আদালতে জামিনের জন্য হাজিরা দিতে গিয়ে মারাত্মক আক্রমণের শিকার হন। সেখানে তাকে পুলিশ নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়। ঢাকা সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এবং দেশের অনেক আদালত প্রাঙ্গণে এখন প্রায়ই প্রতিবাদ মিছিল ও মানব বন্ধন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচি চলাকালে সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে আইনজীবীদের নিজেদের মধ্যে অনেক সময় সংঘর্ষে লিপ্ত হতে দেখা যায়। আমিসহ যারা সত্যিকার অর্থে আদালত অঙ্গনে নিবেদিতভাবে আইন পেশায় নিয়োজিত থাকতে চাই, তারা দেশের আইন অঙ্গনের এহেন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন। এ ব্যাপারে আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, বার কাউন্সিলের সক্রিয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সেই সাথে প্রস্তাব রাখছি যে, ১. আদালত অঙ্গনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার প্রার্থী, আইনজীবী ও তাদের সহকর্মীদের ছাড়া অন্যদের প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হোক। নতুবা এহেন নোংরা অস্বস্তিকর পরিবেশ এড়ানো সম্ভব নয়। ২. আইন অঙ্গনকে সবধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিমুক্ত ঘোষণা করা হোক। ৩. বিচার প্রার্থী যে স্ট্যাটাসের ব্যক্তিই হোন না কেন তার আইন অঙ্গনে নিরাপত্তার সাথে প্রবেশ ও বেড়িয়ে যাওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। পুলিশ বিভাগকে এ ব্যাপারে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত পরিবেশ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরনের নির্দেশ দেয়া হোক। ৪. বাংলাদেশ সংবিধানের ১১১ ধারায় যেভাবে বলা হয়েছে- The Law declared by - Binding effect of Supreme Court Judgments. The law declared by the Appellate Division shall be binding on the High Court Division and the law declared by the either division of the Supreme Court shall be binding on all courts subordinate to it. বাংলা অনুবাদঃ “আপিল বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন হাইকোর্ট বিভাগের জন্য এবং সুপ্রিম কোর্টের যে কোনো বিভাগ কর্তৃক ঘোষিত আইন অধঃস্তন সকল আদালতের জন্য অবশ্যপালনীয় হইবে।” মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট অধঃস্তন আদালতসমূহকে বাংলাদেশের সংবিধানের ১১১ ধারা নিষ্ঠার সাথে অনুসরণের জন্য একটি নির্দেশনা দিলে নিম্ন আদালতসমূহের যাবতীয় সিদ্ধান্তের বিষয়ে জনমনে বিচার বিভাগ সম্পর্কে পরিপূর্ণ নিরাপত্তা বোধের সৃষ্টি হবে। ৫. মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের এ্যাপিলেট ডিভিশন এবং হাইকোর্ট ডিভিশনের অতীতের রুলিংসমূহ অনুসরণ করে অধঃস্তন আদালতসমূহ যদি সিদ্ধান্ত প্রদান করেন এবং আইনজীবীগণ উক্ত রুলিংসমূহ ব্যবহার করে যদি আদালতকে সহায়তা করেন তাহলে বিচার ব্যবস্থায় ভারসাম্য ফিরে আসতে বাধ্য। ৬. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ, সরকার পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দলকে অনুধাবন করতে হবে যে, অতি উৎসাহী কোনো দলীয় কর্মী বা কর্মী নামধারীদের সিদ্ধান্তে ঘটানো বা ঘটে যাওয়া কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারের ভাব মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করতে পারে এবং জাতিকে চরম হতাশায় নিমজ্জিত করতে পারে। সে কারণে আদালত প্রাঙ্গণকে বিচার প্রার্থী জনগণ, আইনজীবী এবং বিচারাকগণের জন্য অবশ্যই একশত ভাগ নিরাপদ করতে হবে। আদালত অঙ্গনকে যেকোনো ধরনের হটকারী বা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি মুক্ত ঘোষণা করতে হবে। ৭. আইনজীবীগণ যে পক্ষের দ্বারাই নিযুক্ত হন না কেন আইনের বাইরে কোনো প্রকার বক্তব্য আদালতে উপস্থাপন না করার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বা অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে।
আশা করব যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল দেশের সমস্ত বারের আইনজীবীগণ ও নিম্ন আদালতের মাননীয় বিচারকগণ সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার অঙ্গনকে একটি শান্তি ও নিরাপত্তার অঞ্চলে পরিণত করার চেষ্টায় ব্রতী হবেন। নতুবা জাতির ভবিষ্যত অন্ধকার। এহেন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিকে এক ধরনের জাতীয় অবক্ষয় ছাড়া আর কি বলা যায়। এখনই সময় এ ধরনের অবক্ষয় প্রতিরোধের।
লেখক : রংপুর জজ কোর্টের একজন এডভোকেট
ইমেইল: asprodhan61@gmail.com

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ