শনিবার ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
Online Edition

‘জাতীয় ঐক্য’ খেলা চলছে হরদম

খান মুহাম্মদ ইয়াকুব আলী : ছোট সময় একটি গান শুনতাম। এটি প্রিয় গানও ছিল। ‘একি? খেলা চলছে হরদম। একদিকে দুনিয়াদারী, আরেকদিকে এটম খেলা চলছে হরদম।’ বর্তমানে জাতীয় ঐক্যের যে খেলা চলছে, যে খেলা চলছে জোট গঠন আর ভাঙনের তা দেখতে মজাই লাগছে। আমার কাছে যে মজা লাগছে তার চেয়ে ঢের বেশি লাগছে জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেবের নিকট। ১৬ অক্টোবর টিভির পর্দায় জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেবের আনন্দের হাসি দেখে, জোট আর জাতীয় ঐক্য নিয়ে একটু লিখতে ইচ্ছে হলো। যদিও এটা আমার একটা বাতিক। বড় বড় লেখক কলামিস্টদের হয়তোবা এমন বাতিক নেই। আবার যতটা নেই বিএনপি পন্থীদের নিয়ে, তার চেয়ে বেশি নেই আওয়ামী পন্থীদের ব্যাপারে। বিএনপি পন্থীদের একটু ত্রুটি পেলে যেভাবে কলম চলে, আওয়ামী পন্থীদের ত্রুটি দেখলে ঠিক সে কলমেই কালি থাকে না। দু’একটি দল ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেব যতটা খুশি হয়েছেন, সেসব দল সম্পর্কেই এ বাঘা নেতা এক সময় বলেছিলেন, ‘এসব দলের সভাপতি থাকলে সেক্রেটারি নেই’ তবে সেসব দলের দু’একটি বেরিয়ে গেলে এতটা খুশির কি আছে বুঝি না। বর্তমানে এ নেতা যে কথাটি বার বার বলছেন তা হলো ‘জগা-খিচুরি মার্কা জাতীয় ঐক্য টিকবে না’। গত ১৬ অক্টোবর সুন্দর করেই আবার বললেন, ‘খেলা শুরু না হতে ভেঙে গেল।’ এখানেও আমাদের বুঝে আসে না, যে বিএনপি বা ২০ দলের জনসভায় লোক হয় না, যাদের নির্বাচন করার সাহস নেই, তাদের জোট থাকলো কি-থাকলো না এ নিয়ে ওবায়দুল কাদের সাহেবের এত মাথা ব্যথা কেন, তা একেবারেই বোধগম্য নয়। এসব সাধারণ বিষয় নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে এমন একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী মহোদয়ের আরো কত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পড়ে রয়েছে। দায়িত্ব পালন করলে দেশের অনেক উন্নতি হবে। অব্যাহত থাকবে উন্নয়নের ধারাবাহিকতাও। আমাদের একটি জাতীয় বাতিক রয়েছে তা হলো অন্যের বিষয় নিয়ে এতটাই পেরেশান যতটা নিজের বিষয় নিয়ে হই না। ওই যে, একটা গল্প শুনেছিলাম, এলাকার মাতুব্বরের নিকট গিয়ে বলা হলো, ওমুকের ছেলে পরীক্ষা দিয়েছে, মাতুব্বর সাহেব বললেন, পরীক্ষা দিলে কি হবে পাস করতে পারবে না। বলা হলো পাসও করেছে, তাতে কি চাকরি পাবে না। মাতুব্বর সাহেব সে চাকরিও পেয়েছে। তখন বলা হলো চুপ থাকেন, চাকরি পেলে কি হবে বেতন পাবে না। বিএনপির বেলায়ও ঠিক তাই। তাদের মিটিং করার ক্ষমতা নেই। মিটিং তো করলো, তাতে কি মানুষ হয়নি। ওদের জোট হচ্ছে তাতে কি সে জোটে কেউ যাবে না, কারণ সেখানে জামায়াত আছে। জামায়াতের সাথে কোনো জোট হবে না। জামায়াতকে বাদ দিয়ে জোট হয়েছে। চুপ বেটা বেশি কথা বলে, ওই জোটে ড. কামাল আছে সে ভালো মানুষ না। কাদের সিদ্দিকী থাকলে? ও সেতো রাজাকার। রব সাহেব ও মাহমুদুর রহমান মান্না আছে। ওদের কোনো ভোট আছে নাকি? যদি বলা হয়, হাসানুল হক ইনু? সে তো বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিল। তখন বলা হয়, ‘রাজনীতিতে স্থায়ী কোনো শত্রু-মিত্র নেই। একবার প্রশ্ন করা হয়েছিল, আপনারা জামায়াতের সাথে মিলে আন্দোলন করছেন কেন? তখন বলা হয়েছিল ‘এটা আমাদের একটা পলিসি। সবাই বলেছেন অন্যরা করলে জগাখিচুর নিজেরা করলে কৌশল। অন্যায় যেই করুক নিজের দলের নেতাকর্মীরা করলেও ছাড় দেওয়া হবে না। এমন সুন্দর কথা শুনতে খুবই ভালো লাগে, কিন্তু এখনো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা অশান্তির মধ্যে দিন কাটায় তার কি হচ্ছে? পুলিশের বিরুদ্ধে কথা বলার কোনো প্রশ্নই আসে না তারা নিঃসন্দেহে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে, কিন্তু পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম, গাজীপুরের সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার নাকি আলাউদ্দিনের চেরাগ পেয়েছেন, পেয়েছেন একটি জাদুর পাথর, যার সাথে ঘষা দিলে মাটিও স্বর্ণ হয়ে যায়। বিলিয়ন বিলিয়ন টাকার খনি পেয়ে তা বিদেশে পাচার করে আমেরিকায় বাড়ি কিনতে গিয়ে অর্থের উৎস নিয়ে পড়েন বিপাকে। এদিকে ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী, না করলেন আত্মসাত, না করলেন পাচার অথচ দু-চার কোটি টাকার হিসাব নিকাশের গ-গোলের দরুণ তিনি বৃদ্ধা নারী, আজ জেলে জীবন-মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। জোট গঠন আর ভোটগ্রহণ নিয়ে আওয়ামী লীগের খেলা চলছে হরদম। এ খেলা বুঝা কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। খেলা বুঝার ক্ষেত্রে আমি এতটাই অঞ্জ যে, চিৎকার শুনে রাত দুটার সময় ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর দেখি দশম শ্রেণির ছাত্র ছোট ছেলেটা একা খেলা দেখছে। জিজ্ঞেস করলাম বাবা কিসের চিৎকার? সে বললো, উইকেট গেছে। এই এতটা অজ্ঞ অমিও যে, আওয়ামী লীগের খেলা বুঝা শুরু করেছি এটাই আমার গৌরব। নতুন জোট সম্পর্কে জনাব ওবায়দুল কাদের পূর্বেই বলেছিলেন, এসব জোটে আমরা ভয় পাই না। ওই সময় চায়ের দোকানে বসে এক রিকশাচালক চা-পান করছিলেন। মাহী বি. চৌধুরী সম্পর্কে সে বললো, আরে বুঝেন না, বাবাকে দল থেকেই নয় রাষ্ট্রপতি থেকে বাদ দেয়ার দরুণ ছেলের মনের মাঝে যে ব্যথা তার জবাব দেয়ার জন্য সে সুযোগ খুঁজছে। এবার সে নতুন জোটে যোগদান করার অভিনয় করে ভেতরে ঢুকে বলবে জামায়াতকে বাদ দাও তখন তার যে পুরস্কার পাওয়ার তা সে পেয়ে যাবে।’ অবাক হয়ে রিকশাচালকের কথা শুনে নিজেকে খুবই অসহায় মনে হলো। নিজকে বললাম পত্রিকায় দু’একটা লেখা ছাপা হওয়ার দরুন নিজেকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক নয় তবে রাজনৈতিক সচেতন মনে করা শুরু করেছিলাম। আজ তা ভুল প্রমাণ হলো কারণ একজন রিকশাচালকের বিশ্লেষণধর্মী জ্ঞানের কাছে আমি পরাজিত। তবে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা সাহেবের জ্ঞানগর্ভ বক্তব্যটা যে কিভাবে সাথে সাথে বুঝে ফেললাম বুঝলাম না। তিনি এক টকশোতে বলেছেন, ‘বিএনপিকে দুর্বল ভাবলে চলবে না। বিএনপি অনেক শক্তিশালী এটাও আওয়ামী লীগকে বুঝতে হবে।’ এখানে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী হতে হলে আমার মতো ব্যারিস্টারকে জোটের ভেতর নিতে হবে। ওদিক দিয়ে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ সাহেব বলেন, ‘এসব জোটের কোনো গুরুত্ব নেই। যাদের দু’টো আসন পাওয়ার যোগ্যতা নেই তারাও দেড়শ’ আসন চেয়ে বসে থাকে’। এখানে জনাব অলি সাহেবও হয়তো বুঝাতে চেয়েছেন আমার দিকে নজর দিন। আমি একাই দু’ আসনে দাঁড়াই। একটায় জামায়াতের সাথে গরুহারার মতো হারলে কি হয়েছে অন্যটায়তো পাস করেছি। জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেছেন, জোট অচিরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে’। তিনি যে তা বলবেন সেটাতো রিকশাচালক পূর্বেই বলেছিলেন। কারণ জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেব জানেন এ জোটের ভবিষ্যৎ কি? এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার করছি তা হলো জোট কিন্তু দু’টো একটি ২০ দলীয় জোট অন্যটি নতুন জোট। দু’টোর মধ্যে পার্থক্য হলো নতুন জোট জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছে। সেখানে বিএনপি বা ২০ দল এবং আওয়ামী লীগ বা ১৪ দলের সবাই যোগদান করতে পারে। যদি এমনটি হয় হবে দেশটা হয়তো সোনারূপোয় পরিণত হতে পারতো, কিন্তু সম্ভব নয় কারণ যারা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন তারা বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ ও জাতির কা-ারী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন বা করতে চাচ্ছেন। এখানে গণতন্ত্র রক্ষা করে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাওয়া হচ্ছে বলে সঙ্গত কারণেই বোঝা যায় গণতন্ত্র হত্যাকারী এক সময়ের শাসক এরশাদ ও বর্তমানে আওয়ামীলীগ মিলে যে গণতন্ত্রের দাফন কাফনের ব্যবস্থা করছে, এদের হাত থেকে যারা গণতন্ত্র রক্ষা করতে চায়, যুক্তিসঙ্গত কারণেই সে এরশাদ ও ১৪ দল এ জাতীয় ঐক্যের ডাকে সাড়া দিতে পারে না। এখন রইলো সরকারের বাইরে থাকা বড়-ছোট দলসমূহ। জাতীয় ঐক্যের আরো দু’টি ধারা। একটি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে। এখানে ২০ দল কামাল সাহেবের নিকট গেলেও যা আর কামাল সাহেব ২০ দলের নিকট গেলেও তা। কে কার কাছে গেল এটা কেবল মর্যাদা কমা বাড়ার বিষয় তবে ফলাফল একই। মজার বিষয় হলো জাতীয় ঐক্যের ডাক ভেঙ্গে দেয়ার জন্য রিকশাওয়ালার ভাষায়, যাকে ফিটিং করা হয়েছে তাদের নেতৃত্বে যে ঐক্যের ডাক দেয়া হয় সেখানে কারা গেল এটাই মজার বিষয়। আজ যদি ২০ দল থেকে কেউ মাহী সাহেবদের জোটে যায় তবে ওবায়দুল কাদের সাহেব যে আনন্দ পান তা বলা বাহুল্য। আবার এ খেলা দেখে দর্শকরাও যে আনন্দ উপভোগ করছেন তাও উল্লেখ করার মতো। যেমন আমার এক বড় ভাই জনাব নাজমুল হক ফোন করে জানতে চাইলেন, ‘২০ দল থেকে দু’টি দল চলে গেল এতে কি হবে’। তাকে বললাম কি হবে আর কি হবে না তা বলা এখনই সম্ভব না তবে এ বিষয় একটি লেখা পত্রিকায় যাচ্ছে। যাই হোক দু’টি দল যাবে আবার তিনটি দল আসবে সেটা ভিন্ন বিষয়। জানতে ইচ্ছে হয় ২০ দল থেকে কেউ বেরিয়ে গেলে মাননীয় সেতুমন্ত্রী খুশি হন কেন? আবার জাতীয় ঐক্যে ডাক যারা দিলো তাদের মধ্যে ঐক্যমত্যের অভাবের দরুন দু’টি জাতীয় ঐক্য প্রচেষ্টা অব্যাহত। যে ফ্রন্টের বক্তব্য আওয়ামী লীগের সাথে মিলে যায় তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আর বাকিরা কি? তবে কি মুক্তিযোদ্ধা কেবল আওয়ামী লীগ আর বাকি সব দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী? কর্নেল অলি সাহেব যখন সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুশি হয়ে টেবিল চাপড়ান। আবার যখন আওয়ামীলীগের বিপক্ষে কথা বলেন, তখন তিনি কি হয়ে যান? ডা. কামাল সাহেব যখন আওয়ামীলীগের প্রার্থী হয়ে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন করেছিলেন সে নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল (অব.) এমএজি ওসমানীও রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি কি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কাজ করেছেন? বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী যখন আওয়ামী লীগে ছিলেন তখন কোনো সমস্যা ছিল না। এখন তিনি রাজাকার। এত খারাপ লোক আওয়ামী লীগে থাকতে পারে না বলেই তো তারা চলে এসেছে। তারা এখন কি করলো এ নিয়ে কেন মাথা ঘামিয়ে সময় নষ্ট করছেন তাও বুঝি না। স্বাধীনতার যুদ্ধের পূর্বে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয়   একটি সম্মেলনে যোগদান করার জন্য একই বিমানে যাচ্ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও অধ্যাপক গোলাম আযম। উভয় নেতার মাঝে রসিকতা চলছিলো। বঙ্গবন্ধু অধ্যাপক গোলাম আযমকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন ‘এই লোকটাকে আমি খুব পছন্দ করি, সে খুব ভালো লোক অথচ করে একটা খারাপ দল।’ তখন অধ্যাপক গোলাম আযম বলেছিলেন, ‘ঠিক বলেছেন, যত ভালো মানুষ-তারা করে আমার খারাপ দল আর যত খারাপ মানুষ তারা করে আপনার ভালো দল।’ তখন বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ওনার সাথে কথায় পারবো না।’ মহান নেতা মহত্বের পরিচয় দিয়ে বলেছেন, ওনার সাথে কথায় পারব না। বর্তমানে আওয়ামী লীগের কোন নেতাই কি অন্যদের বলবে আপনার সাথে কথায় পারব না। যাই হোক, ভালো দলের লোকেরা সে খারাপ দলের ভালো মানুষগুলোকে ফাঁসি দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মামলা-হামলার মধ্য দিয়ে দুর্বল করা এবং সকল অফিসগুলোয় তালা ঝুলিয়ে দেয়ার পর তাদের আর রইলো কি? সে দল নিয়ে এতটা আলোচনার কিইবা আছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কিভাবে হচ্ছে জামায়াতকে নিবে কিনা বা জামায়াত থাকবে কিনা এ নিয়ে জামায়াতের নেতারা তো দূরে থাক, পাড়া-মহল্লার একজন সাধারণ কর্মীরও মাথা ব্যথা নেই, যত ব্যথা অন্যদের। জামায়াত আমার জানামতে একটি আদর্শিক ও নিয়মতান্ত্রিক দল, যারা গণতন্ত্রের লালন করে এবং গণতন্ত্রের মৃত্যু ঠেকাতে খুবই দায়িত্বশীল। তাই তারা মনে করছে আমাদের কথা বাদ দিলাম, জাতির কল্যাণের কথা বিবেচনা করে আমাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয়টি আলোচনার বাইরেই থাক। কিন্তু মাহী সাহেবরা বলেন, ‘বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা দিতে হবে’। আবার বলেন, ভেতরে ভেতরে জামায়াতের সাথে সম্পর্ক থাকছেই। জাতীয় ঐক্য করা বা সফল হওয়ার ক্ষেত্রে যারা বাধা তাদের আচরণ দেখলেই বুঝা যায়। ইতিপূর্বেও একই প্যাচাল দিয়ে সময় নষ্ট করেছিলাম। আবারও তা উল্লেখ করছি, তাহলো একটি গল্প। এক লোক বিবাহ করার পর কেন যেন মনে হচ্ছে, স্ত্রীর বয়স বেশি। তাই স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলো, বয়স কত? বুঝাই যাচ্ছে এতে কি হয়েছিল, মেয়েদের বয়স জিজ্ঞেস করলে যা হয় তাই হয়েছিল। এবার পুরুষ লোকটি ভিন্ন পথে অগ্রসর হলো। একদিন স্ত্রী তার স্বামীকে খাবার দিচ্ছে, স্বামী প্লেট উল্টো করে খাবার খাচ্ছে। স্ত্রী বললো, একি? স্বামী বললো, আমি প্লেট উল্টো করেই খাই। অমনি স্ত্রী বলে ফেললো, ‘চল্লিশ বছর বয়স হয়েছে, কাউকে প্লেট উল্টো করে খেতে দেখিনি।’ সাথে সাথে স্বামী প্লেট সোজা করলো এবং স্ত্রী বললো, এখন সোজা করলেন কেন।’ স্বামী বললো, আমার উত্তর পেয়ে গেছি। পাঠকবৃন্দ যারা বলেছিলেন এসব ঐক্যফ্রন্ট ভয় পাই না, এগুলো জগাখিচুরী মার্কা ঐক্য, শেষ পর্যন্ত এ ঐক্য টিকবে না। টিকা না টিকার বিষয় ভিন্ন কিন্তু ছিমটম দেখে কি মনে হয়? এটাই বুঝার বিষয়। কোন কোন বাঘা নেতার দৃষ্টিতে যারা ঐক্য করেছে বা করছে তাদের দোষের অভাব নেই। কারো পকেটে নাকি সব সময় টিকেট থাকে, কেউ আবার গরীবের টাকা চুষে নেয়, কেউ আবার সরকার পতনের উস্কানি দেয়। এখানে একটি কথা বলতে হয়, গল্প নয়, সত্যি। তাহলো আমাদের বংশের মাতুব্বরের স্ত্রী আমার মিয়া ভাইয়ের স্ত্রী হওয়ায় আমার ভাবী। তার দৃষ্টিতে আমাদের এলাকার কোন মানুষই ত্রুটিমুক্ত নয়। কেউ বেশি লম্বা, কেউ বেশি খাটো আবার কেউ বেশি মোটা বা হালকা, এমনিভাবে গায়ের রঙ, হাঁসি, কথা বলা, না চোখ, ঠোঁটসহ সব কিছু নিয়ে বিশ্লেষণ করতেন। ফলে প্রত্যেকের মধ্যেই কোননা কোন দোষ পেয়ে যেতেন, আর এগুলো তিনি প্রচার করতেন মনের মাধুরী মিশিয়ে। আমার মেঝো ভাইকে বিবাহ করতে বলা হলে তিনি বলেন, দেশে কোন ভালো মেয়ে নেই কাকে বিয়ে করবো। একজন মাত্র ভালো মেয়ে ছিলেন, তাতো মিয়া ভাই বিয়ে করে ফেলেছেন। আজকের কি রাজনীতি, কি জোট আর কি ভোট সবকিছুই মিয়া ভাইয়ের কাছে। তার স্ত্রী যাকে ভালো বলবে সে ভালো, বাকি সব খারাপ। ঐক্য হোক বা মহাঐক্য হোক, দেখি না শেষ পর্যন্ত কত দূর যায়। এখনই এতটা মাথা ব্যথা কেন? আওয়ামী লীগ যখন দিলীপ বড়–য়ার মত লোককে মন্ত্রী বানিয়েছে, যার নির্বাচনে পাস করাতো দূরের কথা জামানত থাকে না।
একইভাবে মেনন সাহেব, ইনু সাহেবরা কে কোথায় বাক্স ভরে ভোট পেয়েছেন জনগণ তা ভালো করেই জানে। এসব লোক নিয়ে ঐক্য করার সময় অন্যদের তো এত মাথা ব্যথা উঠেনি। এখন এমন হচ্ছে কেন? এত কথা বলারই বা দরকার কি, কেউ ভালো না কারো জোট টিকবে না এটাই যদি হয়, তবে কেন একটা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার সাহস করেন না। জনাব নাজমুল হুদার মত লোকও যখন বলেন, ‘নির্বাচিত সরকারকে যদি বিশ্বাস করতে না পারি তবে অনির্বাচিত সরকার বিশ্বাস করি, কিভাবে’? কেন? মঈনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন ছাড়া বাকি সব নির্দলীয় সরকার কি ক্ষমতা হাইজ্যাক করেছিল। এমন কথা বলে মানুষকে বোকা বানানো এক প্রকার জ্ঞানীদের মজ্জাগত সমস্যা। একটু স্বার্থের জন্য বিবেক বিসর্জন দেয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ