বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

রাজউক কোটিপতি তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: নগর পরিকল্পনাবিদরা বলেছেন, রাজউক সাধারণ নাগরীকদের আবাসন সমস্যার সমাধান না করে একশ্রেণির মানুষকে কোটিপতি তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। তাদের সবগুলো প্রকল্প সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এ সময় তারা বলেন, দেশের সব শ্রেণির মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিত ও টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে।  
গতকাল শনিবার নগর পরিকল্পনাবিদদের জাতীয় পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত বিশ্ব বসতি দিবস-২০১৮ উপলক্ষে ‘সবার জন্য আবাসন’ শীর্ষক এক সেমিনারে তারা এ সব কথা বলেন। বিআইপির উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. গোলাম রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন নগর উন্নয়ন অধিদফতরের পরিচালক ড. খুরশীদ জাবিন হোসেন তৌফিক, বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ইস্টার্ন হাউজিংয়ের জেনারেল ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম।
ড. খুরশীদ জাবিন হোসেন তৌফিক বলেন, বর্তমানে সরকার কাউকে বসতি গড়ে দিচ্ছে না। কিন্তু বসতি নির্মাণে সহযোগিতা করছে। শুধুমাত্র অনাথ, স্বামী পরিত্যক্ত, মুক্তিযোদ্ধা ও নদীভাঙা ভূমিহীন পরিবারকে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় আবাসনের সুযোগ করে দিচ্ছে।
ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে আবাসন অন্যতম। এক্ষেত্রে পরিকল্পিত নগরায়নের বিকল্প নেই। উন্মুক্ত স্থান নিশ্চিত করে রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোতে নাগরিক সুবিধাসংবলিত পরিকল্পিত আবাসন ও নগরায়ন গড়ে তুলতে হবে। সব মানুষের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপদ বসতি নির্মাণে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
মাজহারুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে রাজউক কোটিপতি তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। ঢাকা শহরে যাদের বাড়ি আছে তাদেরও প্লট-ফ্ল্যাট দেয়া হচ্ছে। আর তাদের সবগুলো প্রকল্প সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এর দাম অনেক বেশি।
নগর পরিকল্পনাবিদরা বলেন, বর্তমানে সরকার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গৃহঋণের ব্যবস্থা করেছে। এই ঋণের কারণে আবাসনের চাহিদা বাড়বে। এর ফলে প্লট বা ফ্ল্যাটের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এই খাতটি সাধারণ বা নিম্ন আয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ থেকে উত্তরণের উপায় বের করতে হবে।
সেমিনারে গণমাধ্যমকর্মীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বর্তমানে রাজধানী ঢাকা বসবাসের অযোগ্য শহরগুলোর মধ্যে বিশ্বে দ্বিতীয়। এই শহরে আবাসনের নামে দিন দিন পানি সংরক্ষণের স্থানগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে একসময় ভূ-পৃষ্ঠে পানি শূন্যতা দেখা দেবে। তখন শহরে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। এ জন্য এখনই সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ