মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২০
Online Edition

খালেদা জিয়ার উপহার দেয়া গাড়ি থেকে খালেদার নাম মুছে দিল ইবি প্রশাসন

ইবি সংবাদদাতা : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে (ইবি) উপহার দেয়া দুইটি গাড়ি থেকে বেগম খালেদা জিয়ার নাম মুছে ফেলেছে ক্যাম্পাস প্রশাসন। এনিয়ে ভিসির সাথে সাক্ষাৎ করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে ইবি জিয়া পরিষদ। প্রশাসন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘প্রশাসনিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই গাড়ি থেকে খালেদা জিয়ার নাম মুছে ফেলা হয়েছে।’
জানা যায়, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তাদের ভোগান্তি লাঘবে ১৯৯২ সালে এবং ১৯৯৫ সালে যথাক্রমে গাড়ি নম্বর ‘চ-০৮০০০২’ একং ‘চ-০৮-০০০৩   ইবির পরিবহণ পুলের উপহার হিসাবে দেন। এর পর থেকে গাড়ির বডিতে ‘প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপহার’ বাক্যটি লেখা ছিল। উপহার দেওয়ার পর থেকে যত বারই গাড়ি রং করা হয়েছে এই লেখা মুছা হয়নি বলে জানা যায়।
তবে সম্প্রতি ওই গাড়ি দুটি রং করতে গিয়ে প্রশাসন গাড়ির বডি থেকে খালেদার নাম মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুটি গাড়ির মধ্যে ইতোমধ্যে ‘চ-০৮০০০৩’ গাড়িটি রং সম্পূর্ণ করেছে এবং অন্য গাড়িটি এখন রং সম্পূর্ণ হয়নি।
পরিবহন প্রশাসক প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গাড়িগুলো নতুন করে রং করায় নতুন গাড়ি বলে মনে হচ্ছে। নতুন গাড়িতে খালেদা জিয়ার উপহার লেখা থাকলে সাধারণ মানুষ মনে করবে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় না থেকেও গাড়ি দিয়েছে। এমন সংশয় থেকে সর্বোচ্চ প্রশাসনকে বিষয়টি অবগত করলে তারা নাম বাদ দিয়েই গাড়ির রং সম্পুর্ণ করতে নির্দেশ দেয়।’
তবে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় না থাকলে অন্য দল হাসিনার দেওয়া গাড়ি থেকে তার নাম মুছে ফেলতে পারবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতীক কালচারটাই আজ এরকম হয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের বেড়িয়ে আসা উচিৎ।’
জিয়া পরিষদের নেতৃস্থানীয় নেতাদের সাথে কথা হয়েছে বিষটি নিয়ে। তার স্পস্ট করে বলছেন ‘সিদ্ধান্তটি নিয়ে প্রশাসন ‘কুয়ার ব্যাঙ’ হিসাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। অন্যের অবদান স্বীকার করার সৎ সাহস থাকলে প্রশাসন এই প্রত্যাক্ষ্যাণ যোগ্য সিদ্ধান্ত নিত না। প্রগতি প্রগতি বলে ঢোল বাজালেও আসলে এটি গাড়ি থেকে খালেদা জিয়ার নাম মুছে ফেলাটা ছোট মানুষিকতার পরিচয় বহন করে।’
এদিকে নাম মুছার বিষয়ে প্রশাসনের যুক্তিকে অজ্ঞাতার সামিল হিসাবে দেখছেন জিয়া পরিষদ। তাদের দাবি এটি পরস্পরের মধ্যে প্রতিশোধমূলক অবস্থার সৃষ্টি করবে। জিয়া পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত লিখিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, ‘অন্যের অবদান অকপটে স্বীকার করে সত্য প্রকাশে ভূমিকা পালন করবেন।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ