রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে  ইদলিবে রাশিয়ার যৌথ বিমান হামলা

৮ সেপ্টেম্বর, ইন্টারনেট : সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটি ইদলিবে অস্ত্রবিরতি ঘোষণায় একমত হতে পারেনি তুরস্ক, ইরান ও রাশিয়া। প্রদেশটিতে মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে ইতিমধ্যে আশঙ্কা করছে জাতিসংঘ।

সিরিয়ার যুদ্ধের তিন মূল খেলোয়াড় তুরস্কের রজব তৈয়ব এরদোগান, রাশিয়ার ভøাদিমির পুতিন ও ইরানের হাসান রুহানি শুক্রবার তেহরানে বৈঠক করেন।

পরে এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, সামরিকভাবে এ যুদ্ধের সমাধান হবে না। রাজনৈতিক পথেই এগোতে হবে।

এদিকে শুক্রবার ভোরেই সিরীয় সরকার ও রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ইদলিবে হামলা শুরু করেছে। এতে করে সেখানে পূর্ণমাত্রায় সহিংসতার উপক্রম হয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান ইদলিবে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালে রাশিয়া ও ইরানের প্রেসিডেন্ট তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এরদোগান বলেন, সেখানে ব্যাপক হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তুরস্ক অতিরিক্ত শরণার্থী ঢল সামাল দিতে পারবে না।

পুতিন বলেন, উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে যুক্ত না করে সেখানে অস্ত্রবিরতি ঘোষণা হবে অর্থহীন। আর রুহানি বলেন, সিরিয়াকে অবশ্যই তার ভূখ-ের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব নিতে হবে।

সিরিয়ার ইদলিব প্রদেশটিই এখন বিদ্রোহী এবং জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর শেষ ঘাঁটি হওয়ার কারণে অনেক ঝুঁকি নিয়েও সেখানে যুদ্ধ থেকে পিছু হটতে রাজি নয় সিরিয়া এবং রাশিয়া।

কিন্তু জাতিসংঘের হিসাবমতে, ইদলিবের জনসংখ্যা ২৯ লাখ। এর মধ্যে ১০ লাখই শিশু। তাই সেখানে বেপরোয়া হামলায় প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ আছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান বলেছেন, ইদলিবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে বোমা বর্ষণ বন্ধ করতে হবে।

শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সম্মেলন শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ইরানের রাজধানী তেহরানে শুক্রবার অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশ নেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

এরদোগান বলেন, সিরিয়ার ইদলিব শহর শুধু সিরিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়; শহরটি তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সিরিয়ায় যতদিন রাজনৈতিক, ভৌগোলিক ও সামাজিক ঐক্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হবে ততদিন তুরস্ক এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে।

এরদোগান বলেন, ‘আমরা ইদলিবে রক্তগঙ্গা চাই না। আমরা যদি সেখানে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে পারি তাহলে সেটা হবে এই সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

সামরিক দিক দিয়ে মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, ইদলিবে তুরস্কের ১২টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় তুরস্ক খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এর আগেই এরদোগান বলেন, ‘যদি সেখানে কোনো প্রকার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয় তবে শহরটি কবরে পরিণত হবে। এ অবস্থায় সেখানকার জনগণ কোথায় যাবে? তার অধিক হারে আমাদের দেশের দিকে ঝুঁকে পড়বে। এবং তাতে করে সমস্যা আরো দীর্ঘায়িত হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ